{{ news.section.title }}
পদত্যাগ না করলে মমতাকে বরখাস্তের আহ্বান আসামের মুখ্যমন্ত্রীর
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বড় জয়ের পরও পদত্যাগ না করার ঘোষণা দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার এমন অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। মঙ্গলবার, ৫ মে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মমতা নিজে পদত্যাগ না করলে তাকে বরখাস্ত করা ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না।
এনডিটিভির সিইও এবং এডিটর-ইন-চিফ রাহুল কানওয়ালকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, “তিনি পদত্যাগ না করলে তাকে বরখাস্ত করা হবে। দেশ তার খেয়াল-খুশিমতো চলে না। রাজ্যপাল একটি নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করবেন এবং তারপর তাকে বরখাস্ত করা হবে।”
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ফল নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগেরও জবাব দেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে, নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হয়েছে। এখন কেউ যদি বলেন তার কাছ থেকে ১০০টি আসন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে, তাহলে অন্যরাও একই ধরনের দাবি করতে পারেন। তার ভাষায়, এভাবে কোনো দেশ চলতে পারে না।
এর আগে সোমবার, ৪ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে বিজেপির বড় জয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানান। টানা তিন মেয়াদ ক্ষমতায় থাকার পর তৃণমূল কংগ্রেসের এই পরাজয় রাজ্যের রাজনীতিতে বড় পালাবদল হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে মমতার দাবি, তিনি নির্বাচনে হারেননি, বরং বিজেপির পাওয়া ম্যান্ডেট ‘লুট’ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি হারিনি, তাই রাজভবনে যাব না। আমি পদত্যাগপত্রও জমা দেব না।” তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে ১০০টির বেশি আসন ‘চুরি’ হয়েছে। নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় সরকার এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও তিনি কঠোর প্রশ্ন তোলেন।
তৃণমূল নেত্রীর অভিযোগ, এই নির্বাচন স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হয়নি। তিনি বলেন, গণতন্ত্র এভাবে কাজ করে না, যখন বিচারব্যবস্থা কার্যকর থাকে না, নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করে এবং সরকার একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়। মমতার দাবি, আসল প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি নয়, নির্বাচন কমিশন।
মমতা আরও অভিযোগ করেন, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, বিহারের পর এবার পশ্চিমবঙ্গেও নির্বাচন ‘চুরি’ করা হয়েছে। তার ভাষায়, এই ফল জনগণের প্রকৃত ম্যান্ডেট নয়, বরং ষড়যন্ত্রের ফল। তিনি জানিয়েছেন, তৃণমূল কংগ্রেস এই ফল মেনে নেবে না এবং রাজনৈতিক ও আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে।
অন্যদিকে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, জনগণের রায় অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসন সহ্য করেছে। একাধিক ভুলত্রুটি সত্ত্বেও মানুষ তাকে সুযোগ দিয়েছে, কিন্তু এবার তারা পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় মোট আসন ২৯৪টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৪৮টি আসন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা অতিক্রম করেছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে। তবে মমতা এই ফলকে বৈধ রাজনৈতিক পরাজয় হিসেবে স্বীকার করছেন না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী ফল মেনে নেওয়া, মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া ভারতের সাংবিধানিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সাধারণত কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এরপর সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বা জোট সরকার গঠনের দাবি জানায়।
মমতার পদত্যাগে অস্বীকৃতি এবং হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বরখাস্তের আহ্বান, দুই বক্তব্যই এখন ভারতের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। একদিকে তৃণমূল ফলাফলের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, অন্যদিকে বিজেপি বলছে জনগণের রায় মানতেই হবে।