{{ news.section.title }}
আজ সন্ধ্যার মধ্যে ৪ জেলায় ঘণ্টায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের সম্ভাবনা
দেশের চারটি অঞ্চলের ওপর দিয়ে দুপুর ১টার মধ্যে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্কতা জারি করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ অবস্থার কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) সকালে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে, এই ধরনের আবহাওয়া পরিস্থিতি সাধারণত স্থানীয়ভাবে সৃষ্ট বজ্রগর্ভ মেঘের কারণে হয়ে থাকে, যা দ্রুত গঠিত হয়ে স্বল্প সময়ে তীব্র বাতাস ও বৃষ্টিপাত ঘটাতে পারে। বিশেষ করে দুপুরের আগপর্যন্ত সময়টিতে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বৃদ্ধির কারণে বজ্রঝড় সৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি থাকে।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হলে নৌযান চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি হঠাৎ করে দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়া, নদীপথে ঢেউয়ের তীব্রতা বৃদ্ধি এবং ছোট নৌযানগুলো নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা থাকে। এ কারণে নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ১ নম্বর সতর্ক সংকেত মূলত নির্দেশ করে যে বন্দরের নিকটবর্তী এলাকায় সাময়িকভাবে ঝড়ো আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। এই সংকেত থাকলে নৌযানগুলোকে সতর্কভাবে চলাচল করতে এবং প্রয়োজন হলে নিরাপদ স্থানে নোঙর করতে বলা হয়। এটি কোনো বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কতা নয়, বরং স্থানীয় আবহাওয়ার অস্থিরতার প্রাথমিক সংকেত।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, চলতি মৌসুমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিচ্ছিন্নভাবে বজ্রসহ বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার ঘটনা স্বাভাবিক। বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা শুষ্ক ও গরম বাতাসের সঙ্গে আর্দ্র বায়ুর মিশ্রণে এই ধরনের ঝড়ো আবহাওয়া তৈরি হয়।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর মানুষকে বজ্রঝড় চলাকালীন সময়ে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে এবং খোলা জায়গা, নদী বা খালি মাঠে অবস্থান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে কৃষক ও নৌযান সংশ্লিষ্টদের আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য নিয়মিত অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আকস্মিক এই ধরনের ঝড়ো আবহাওয়া স্বল্প সময়ের জন্য হলেও জনজীবন ও নৌপরিবহনে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সতর্কতা মেনে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ ব্যবস্থা।