{{ news.section.title }}
নতুন পে-স্কেল: কারা কত সুবিধা পাবেন, এমপিও শিক্ষকদের অবস্থান কী?
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকারি চাকরিজীবী, পেনশনভোগী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত ধাপের দিকে এগোচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১ জুলাই থেকে নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রথম ধাপ কার্যকর হতে পারে।
সরকারের উচ্চপর্যায়ে এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত ইতিবাচক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে পুরো বেতন কাঠামো একসঙ্গে নয়, বরং সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
নতুন পে-স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে যেমন স্বস্তি ফিরেছে, তেমনি শিক্ষক সমাজেও তৈরি হয়েছে বড় প্রত্যাশা। বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে এই কাঠামো ঘিরে একদিকে আশার আলো, অন্যদিকে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন না আসা পর্যন্ত কিছুটা অনিশ্চয়তাও রয়েছে।
দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটি সংশোধিত বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করার পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পেনশনভোগী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেলের আওতায় আসতে পারেন। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকরের প্রস্তুতি চলছে; তবে বাস্তবায়নের ধরন নির্ধারণে সরকারের আর্থিক সক্ষমতাও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রায় এক দশক আগে ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হয়েছিল। এরপর মূল্যস্ফীতি, নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নতুন বেতন কাঠামোর দাবি দীর্ঘদিন ধরেই জোরালো হচ্ছিল।
তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা
নতুন পে-স্কেলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে ইত্তেফাক জানিয়েছে, প্রথম দুই বছরে মূল বেতনে ৫০ শতাংশ করে সমন্বয় এবং তৃতীয় বছরে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াতসহ অন্যান্য ভাতা ও সুবিধা যুক্ত করার প্রস্তাব চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। অর্থাৎ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন, ১ জুলাই থেকে প্রথম ধাপে মূল বেতনের একটি অংশ সমন্বিত হতে পারে। এরপর পরবর্তী অর্থবছরে মূল বেতনের বাকি অংশ এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ভাতা কাঠামো পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারি ব্যয়ের ওপর চাপ কমাতে এই ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পথ বেছে নেওয়া হচ্ছে। দ্য ডেইলি স্টারের তথ্য অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেল আংশিক বাস্তবায়নের জন্য আসন্ন অর্থবছরের বাজেটে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হতে পারে। আর কমিশনের সুপারিশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে প্রয়োজন হতে পারে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা, যার বড় অংশ যাবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য; বাকি অর্থ পেনশনভোগী ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য প্রয়োজন হবে।
বর্তমানে সরকার ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য বছরে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই একসঙ্গে পূর্ণ বাস্তবায়ন করলে রাষ্ট্রীয় ব্যয়ে বড় চাপ তৈরি হতে পারে-এ কারণেই বাজেট সক্ষমতা, রাজস্ব আহরণ এবং মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় ধীরে ধীরে বাস্তবায়নের কৌশল নেওয়া হচ্ছে।
প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন নিয়ে বড় প্রত্যাশা
নতুন পে-স্কেল ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা সাধারণত ১৩তম গ্রেডে বেতন পান। এ গ্রেডে মূল বেতন শুরু হয় ১১ হাজার টাকা থেকে। প্রস্তাবিত নতুন কাঠামোতে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি রাখার কথা আলোচনায় থাকায় প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতনও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিভিন্ন শিক্ষা–সংক্রান্ত প্রতিবেদনে ১৩তম গ্রেডের শিক্ষকদের বেতন ২৪ হাজার টাকার কাছাকাছি হতে পারে বলে আলোচনা এসেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। ফলে প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন দ্বিগুণ হবে কি না, বা ১৩তম গ্রেডে নতুন মূল বেতন ঠিক কত হবে-তা নিশ্চিতভাবে বলা যাবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর।
তবে প্রস্তাবিত কাঠামোতে সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা এবং নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য তুলনামূলক বেশি বৃদ্ধির সুপারিশ থাকায় প্রাথমিক শিক্ষকরা বড় সুবিধাভোগী হতে পারেন-এমন আশা তৈরি হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা খাতে দীর্ঘদিন ধরে বেতন বৈষম্য, মর্যাদা, পদোন্নতি ও গ্রেড উন্নয়নের দাবি ছিল। নতুন পে-স্কেল সেই দাবিগুলোর অন্তত একটি অংশ পূরণ করতে পারে বলে শিক্ষক নেতারা মনে করছেন।
এ ছাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন কাঠামো নিয়েও আগে থেকেই পরিবর্তন শুরু হয়েছে। ২০২৫ সালের শেষদিকে প্রধান শিক্ষকদের বেতন গ্রেড ১০-এ উন্নীত করার বিষয়টি সামনে আসে, যেখানে তাদের মূল বেতন ১৬ হাজার টাকা থেকে শুরু হওয়ার কথা বলা হয়। ফলে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে সহকারী শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক এবং শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বেতন-ভাতার নতুন হিসাব তৈরি হবে।
১১ থেকে ২০তম গ্রেডে বেশি নজর
নতুন পে-স্কেলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ সবচেয়ে বেশি পড়েছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীদের ওপর। তাই নতুন কাঠামোতে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি রাখার আলোচনা হয়েছে।
ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন পে-স্কেলে শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসন, বিচার বিভাগীয় কর্মচারীসহ সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। একই সঙ্গে স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্ষেত্রেও সমন্বিত নির্দেশনা থাকতে পারে, তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সুপারিশ অনুমোদনের পর জানা যাবে।
কমিশনের সুপারিশে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত, বৈশাখী ভাতা, টিফিন ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রথম আলো জানিয়েছে, সরকারি কর্মচারীরা বর্তমানে মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বৈশাখী ভাতা পান; কমিশন সেটি ৫০ শতাংশে উন্নীত করার সুপারিশ করেছে। এ ছাড়া ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে থাকা কর্মচারীদের জন্য ভাতার ক্ষেত্রেও তুলনামূলক বেশি সুবিধার প্রস্তাব রয়েছে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের আশা ও শঙ্কা
নতুন পে-স্কেল নিয়ে সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তা রয়েছে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলের আওতায় আসার কথা বলা হলেও, বাস্তবে কীভাবে, কখন এবং কত হারে তাদের বেতন-ভাতা সমন্বয় হবে-তা এখনো চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনের অপেক্ষায়।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি শিক্ষকদের সঙ্গে বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধার বৈষম্যের অভিযোগ করে আসছেন। অতীতে সরকারি শিক্ষকরা উৎসব ভাতা, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ও পেনশনসহ যেসব সুবিধা পেতেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা তার অনেক ক্ষেত্রেই পিছিয়ে ছিলেন। প্রথম আলোর আগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ও উৎসব ভাতায় বৈষম্য নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল।
২০২৫ সালের শেষদিকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা ১৫ শতাংশে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত আসে, যার প্রথম ধাপ ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর থেকে এবং দ্বিতীয় ধাপ ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। এই প্রেক্ষাপটে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে এমপিওভুক্তদের বেতন কাঠামোও নতুন করে আলোচনায় আসবে।
তবে শিক্ষক নেতাদের মতে, শুধু মূল বেতন বাড়লেই হবে না; বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, উৎসব ভাতা, অবসর সুবিধা এবং চাকরির নিরাপত্তার বিষয়েও স্পষ্ট ঘোষণা দরকার। কারণ সরকারি চাকরিজীবীদের মতো পূর্ণ সুবিধা না পেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ থেকেই যেতে পারে।
পেনশনভোগীদের জন্যও সুখবর
নতুন পে-স্কেলে পেনশনভোগীদের জন্যও বড় পরিবর্তনের সুপারিশ রয়েছে। প্রথম আলো জানিয়েছে, যেসব পেনশনভোগী মাসে ২০ হাজার টাকার কম পান, তাদের পেনশন দ্বিগুণের বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত এবং ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ রয়েছে।
এ ছাড়া বয়সভেদে পেনশনভোগীদের চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাবও রয়েছে। ৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনভোগীদের জন্য ১০ হাজার টাকা, ৫৫ থেকে ৭৪ বছর বয়সীদের জন্য ৮ হাজার টাকা এবং ৫৫ বছরের নিচে পেনশনভোগীদের জন্য ৫ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতার সুপারিশ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কেন নতুন পে-স্কেল জরুরি হয়ে উঠেছে
গত কয়েক বছরে দেশে নিত্যপণ্যের দাম, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ব্যয়, শিক্ষা ব্যয় এবং পরিবহন খরচ বেড়েছে। ফলে বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের বাস্তব আয় কমে গেছে। নতুন পে-কমিশন বেতন কাঠামো তৈরির সময় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য, মূল্যস্ফীতি, প্রতিবেশী দেশের বেতন কাঠামো, বেসরকারি খাতের সঙ্গে সামঞ্জস্য এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার মান বিবেচনায় নিয়েছে বলে প্রথম আলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কমিশনের নেতৃত্বে ছিলেন সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান। ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই নবম জাতীয় পে-কমিশন গঠন করা হয়। কমিশন ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। পরে ২৩ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়, যারা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করছে।
চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনেই মিলবে পূর্ণ নিশ্চয়তা
যদিও ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেলের প্রথম ধাপ কার্যকরের সম্ভাবনা জোরালো, তবু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের অপেক্ষা করতে হবে। প্রজ্ঞাপনে কোন গ্রেডে কত মূল বেতন হবে, ভাতাগুলো কীভাবে সমন্বয় হবে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা কোন কাঠামোয় সুবিধা পাবেন এবং পেনশনভোগীদের জন্য কত বরাদ্দ কার্যকর হবে-এসব বিষয় পরিষ্কার হবে।
সব মিলিয়ে নবম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হলে সরকারি চাকরিজীবী, প্রাথমিক শিক্ষক, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীদের জন্য এটি হতে পারে দীর্ঘদিনের আর্থিক চাপ কমানোর একটি বড় পদক্ষেপ। তবে একই সঙ্গে সরকারের সামনে থাকবে বড় চ্যালেঞ্জ-বর্ধিত ব্যয়ের অর্থ জোগান, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে প্রশাসনিক দক্ষতা ও সেবার মান উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বেতন বৃদ্ধি শুধু কর্মচারীদের স্বস্তি দেওয়ার বিষয় নয়; এর সঙ্গে প্রশাসনিক জবাবদিহি, কর্মদক্ষতা, দুর্নীতি কমানো এবং জনসেবা উন্নয়নের বিষয়ও যুক্ত থাকা উচিত। তাই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি সেবার মান উন্নয়নেও সুস্পষ্ট পদক্ষেপ দরকার।