{{ news.section.title }}
৫ আগস্টে বিতাড়িতদের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ করছে একটি গোষ্ঠী
২০২৪ সালের ৫ আগস্টে ক্ষমতাচ্যুতদের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মিল রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, গোপনে ওই গোষ্ঠী পতিত স্বৈরাচারের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৫ আগস্ট পতিত স্বৈরাচার যেভাবে বিদায় নিয়েছে, এরপর থেকেই তারা নানা ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তাদের সঙ্গে একটি গোষ্ঠীর মিল পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি গোপন যোগাযোগও চলছে। এসব ষড়যন্ত্রকারীদের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’
শনিবার দুপুরে ময়মনসিংহের ত্রিশালে ঐতিহাসিক ধরার খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কার কয়েকটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সে সময় বিএনপির আইনজীবী ও চিকিৎসকরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে যারা আন্দোলন ও অবরোধ করছে, অতীতে তাদের মাঠে দেখা যায়নি বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “যারা দেশে অস্থিরতা তৈরি করছে তারা কৃষকের কথা বলে না, খাল খননের প্রসঙ্গ তোলে না, গ্রামের শিশুদের শিক্ষা বা কৃষক কার্ড নিয়েও কথা বলে না। তাদের উদ্দেশ্য কেবল বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা।”
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধরার খাল শুধু একটি জলপথ নয়, এটি এ অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। দীর্ঘদিন ধরে খালটি ভরাট হয়ে অচল থাকায় কৃষকদের সেচ সংকট, জলাবদ্ধতা এবং উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার মতো সমস্যায় পড়তে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রায় ৪৫ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজে এই খাল খনন কার্যক্রমে অংশ নিয়েছিলেন। সেই সময়ের স্মৃতির কথা উল্লেখ করে তিনি প্রবীণদের উদ্দেশে বলেন, যাদের বয়স ষাটের বেশি, তাদের অনেকেরই সেই ঘটনা মনে থাকার কথা। পুনঃখনন সম্পন্ন হলে অন্তত ৪ হাজার ৩০০ কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং প্রায় ২০ হাজার মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার কৃষির পাশাপাশি শিক্ষাখাতেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। গ্রামীণ এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন ইউনিফর্ম ও স্কুল ব্যাগ বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী জুলাই মাস থেকে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এসব বিতরণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, দেশের মসজিদের ইমাম-খতিব, মাদ্রাসার শিক্ষক এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বী ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানী ভাতা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সমাজে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় তাদের মর্যাদা নিশ্চিত করাকে সরকার দায়িত্ব হিসেবে দেখছে।
যুবসমাজের কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীর সংখ্যা বাড়লেও অনেকেই কর্মহীন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষাকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারকে বিদায় দিয়েছে। যারা জনগণের ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের অধিকার হরণ করেছিল, জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন মানুষ উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে যেতে চায়।
তার ভাষায়, “বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কাজে লাগাতে হবে। নতুন সেতু, কালভার্ট, স্কুল, কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”
খাল পুনঃখনন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ত্রিশাল আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন, স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ উপস্থিত ছিলেন।