আজকের স্বর্ণের বাজার দর কত?

আজকের স্বর্ণের বাজার দর কত?
ছবির ক্যাপশান, ছবি : সংগৃহীত

দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন-বাজুস। এবার ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৯৬৩ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি। নতুন এই দাম শনিবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

শনিবার সকালে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের বা পিওর গোল্ডের দাম কমেছে। সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তাই স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দর ঘোষণা করা হয়। বাজুসের বিজ্ঞপ্তির বরাতে প্রথম আলো ও যুগান্তরও জানিয়েছে, এ দফায় ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমেছে।

 

নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ এখন বিক্রি হবে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৯৬৩ টাকায়। ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ৯৯ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৩২ টাকা। ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৮০৮ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৩৯ টাকায়। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ২৩১ টাকা। বাজুসের সর্বশেষ প্রকাশিত দরেও একই হারে ২২, ২১, ১৮ ক্যারেট ও সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম দেখানো হয়েছে।

 

এর আগে গত ২১ মে ভালো মানের স্বর্ণের দাম ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়িয়েছিল বাজুস। অর্থাৎ দুই দিনের ব্যবধানে সেই বাড়তি দামই আবার কমানো হলো। এতে বাজারে স্বর্ণের দামে আবারও অস্থিরতার চিত্র ফুটে উঠেছে। স্থানীয় বাজারে পিওর গোল্ডের দর, আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা, ডলারের বিনিময় হার, আমদানি ব্যয় ও অভ্যন্তরীণ চাহিদার ওপর নির্ভর করে বাজুস নিয়মিত স্বর্ণের দাম সমন্বয় করে থাকে।

 

স্বর্ণের দাম কমলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৬৫৭ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হবে ৫ হাজার ৩৬৫ টাকায়। ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৬০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৪৪১ টাকা নির্ধারিত রয়েছে।

 

বাজুসের নির্ধারিত স্বর্ণের দর মূলত প্রতি ভরি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। দেশে প্রচলিত হিসাবে এক ভরি সমান ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম। ফলে যারা গ্রাম হিসেবে হিসাব করেন, তাদের জন্য ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি গ্রাম দাম দাঁড়ায় প্রায় ২০ হাজার ২৩০ টাকা। ২১ ক্যারেটে প্রতি গ্রাম প্রায় ১৯ হাজার ৩১০ টাকা, ১৮ ক্যারেটে প্রায় ১৬ হাজার ৫৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে প্রতি গ্রাম প্রায় ১৩ হাজার ৪৮০ টাকা।

 

তবে ক্রেতাদের মনে রাখতে হবে, বাজুস ঘোষিত দরই গহনার চূড়ান্ত ক্রয়মূল্য নয়। সাধারণত স্বর্ণালংকার কেনার সময় নির্ধারিত স্বর্ণমূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ভ্যাট এবং মজুরি বা মেকিং চার্জ যোগ হয়। বনিকা বার্তার এক প্রতিবেদনে বাজুসের মূল্য কাঠামোর প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, গহনার চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ডিজাইন ও কারিগরিভেদে ৬ শতাংশ শ্রম বা মজুরি চার্জ যুক্ত হতে পারে। তাই একই ওজনের গহনার দাম দোকানভেদে বা ডিজাইনভেদে কিছুটা বেশি হতে পারে।

 

চলতি বছর দেশের স্বর্ণবাজারে দামের ওঠানামা ছিল বেশ ঘনঘন। এ নিয়ে ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৬৮ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হলো। এর মধ্যে ৩৬ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে, আর ৩২ দফা কমানো হয়েছে। এর আগের বছর ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। ওই বছর ৬৪ বার দাম বাড়ানো এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল। এতে বোঝা যায়, আন্তর্জাতিক বাজার ও স্থানীয় চাহিদা-সরবরাহের প্রভাবে দেশের স্বর্ণবাজার এখন অনেক বেশি সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।

 

স্বর্ণের দাম কমার ফলে বিয়ের মৌসুম বা পারিবারিক প্রয়োজনের জন্য গহনা কিনতে আগ্রহী ক্রেতাদের কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে। তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণের দাম এখনও ঐতিহাসিকভাবে উচ্চ অবস্থানেই রয়েছে। কয়েক মাস ধরে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনা, ডলারের ওঠানামা এবং বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদের প্রতি ঝোঁক আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে বড় প্রভাব ফেলেছে।

 

জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, দাম কমলেও ক্রেতারা এখন আগের চেয়ে বেশি হিসাব করে স্বর্ণ কিনছেন। বিশেষ করে উচ্চমূল্যের কারণে অনেকেই ভারী গহনার বদলে হালকা ডিজাইন, ২১ বা ১৮ ক্যারেটের গহনা কিংবা পুরোনো স্বর্ণ বদলে নতুন গহনা তৈরির দিকে ঝুঁকছেন। অন্যদিকে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে যারা স্বর্ণ কিনছেন, তারা সাধারণত ২২ ক্যারেট স্বর্ণ বা স্বর্ণের বার/কয়েনের দিকে বেশি নজর দেন, কারণ এগুলোর পুনর্বিক্রয়মূল্য তুলনামূলকভাবে ভালো থাকে।

 

ক্রেতাদের জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, স্বর্ণ কেনার আগে অবশ্যই বাজুস নির্ধারিত সর্বশেষ দর যাচাই করতে হবে। একই সঙ্গে হলমার্ক, ক্যারেট, ওজন, মজুরি, ভ্যাট এবং বিক্রির রসিদ ভালোভাবে দেখে নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে ২২ ক্যারেট, ২১ ক্যারেট ও ১৮ ক্যারেটের বিশুদ্ধতায় পার্থক্য থাকায় শুধু দাম নয়, ক্যারেটের মানও বুঝে গহনা কেনা উচিত।

 

সব মিলিয়ে দুই দিনের ব্যবধানে স্বর্ণের দাম কমার এই সিদ্ধান্ত ক্রেতাদের জন্য সাময়িক স্বস্তির খবর হলেও বাজারে অস্থিরতা এখনো কাটেনি। আন্তর্জাতিক বাজার, ডলারের বিনিময় হার এবং স্থানীয় তেজাবি স্বর্ণের দরের পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করে আগামী দিনগুলোতেও স্বর্ণের দাম আবার বাড়তে বা কমতে পারে।

 

তথ্যসূত্র: বাজুস


সম্পর্কিত নিউজ