{{ news.section.title }}
নবম পে স্কেলে কার কত বেতন বাড়ছে? বিস্তারিত জানুন
নবম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকরের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মীদের ক্ষেত্রে বেসিক দ্বিগুণ (১০০ শতাংশ বৃদ্ধি) করার বিষয়টিও নীতিগত আলোচনায় আছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এই সুবিধার আওতায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন-এমন প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নতুন পে-স্কেলে মূল উদ্দেশ্য হলো বিদ্যমান বৈষম্য কমানো, জীবনযাত্রার ব্যয় (cost of living) অনুযায়ী বেতন কাঠামো সমন্বয় করা এবং নিম্ন গ্রেডের কর্মীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো। বর্তমানে মূল্যস্ফীতির চাপ, নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং বাসা ভাড়ার ঊর্ধ্বগতির কারণে বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের সরকারি কর্মচারীদের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ছে-এই বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত হিসাব অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চতুর্থ গ্রেডভুক্ত অধ্যক্ষদের বর্তমান মূল বেতন ৫০ হাজার টাকা। ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি কার্যকর হলে তা দাঁড়াবে ৭৫ হাজার টাকায়।
ষষ্ঠ গ্রেডের সহকারী অধ্যাপকদের বর্তমান বেসিক ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ৫৩ হাজার ২৫০ টাকা হতে পারে। সপ্তম গ্রেডের উপাধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষকদের বর্তমান ২৯ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৪৩ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নবম গ্রেডের কলেজ প্রভাষকদের ক্ষেত্রে বর্তমান ২২ হাজার টাকার বেসিক বেড়ে ৩৩ হাজার টাকায় পৌঁছাতে পারে। একইভাবে দশম গ্রেডের বিএডধারী সহকারী শিক্ষকদের ১৬ হাজার টাকার মূল বেতন বেড়ে ২৪ হাজার টাকা হওয়ার সম্ভাবনা আলোচনায় রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি সংখ্যক কর্মচারী থাকা ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডে দুটি সম্ভাব্য কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলছে-একটি ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি এবং অন্যটি শতভাগ (দ্বিগুণ) বৃদ্ধি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি বলে প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে।
১১তম গ্রেডের বিএডবিহীন সহকারী শিক্ষকদের বর্তমান বেসিক ১২ হাজার ৫০০ টাকা। ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি হলে তা ১৮ হাজার ৭৫০ টাকা এবং দ্বিগুণ হলে ২৫ হাজার টাকা হতে পারে।
১৬তম গ্রেডে থাকা অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরদের বর্তমান বেসিক ৯ হাজার ৩০০ টাকা। ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি কার্যকর হলে তা ১৩ হাজার ৯৫০ টাকা এবং দ্বিগুণ হলে ১৮ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
১৮তম গ্রেডের ল্যাব সহকারীদের বর্তমান বেসিক ৮ হাজার ৮০০ টাকা। ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি হলে তা ১৩ হাজার ২০০ টাকা এবং দ্বিগুণ বৃদ্ধি হলে ১৭ হাজার ৬০০ টাকা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
২০তম গ্রেডের অফিস সহায়ক, নিরাপত্তাকর্মী, নৈশপ্রহরী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়া পদে থাকা কর্মীদের বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকার বেসিক ৫০ শতাংশ বাড়লে ১২ হাজার ৩৭৫ টাকা এবং দ্বিগুণ হলে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে সরকারি খাতে মাসিক বেতন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে, তবে একই সঙ্গে বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি পেয়ে সামগ্রিক অর্থনীতিতে একটি “ডিমান্ড বুস্ট” তৈরি হতে পারে। তবে সরকারের ওপর অতিরিক্ত বাজেট চাপও তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের মহাসচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা বৈষম্যের শিকার। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে বিদ্যমান বেতনে জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই আসন্ন বাজেটে সরকার বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে বলে তারা আশা করছেন। তিনি আরও বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদেরও সরকারি চাকরিজীবীদের মতো এই পে-স্কেল সুবিধার আওতায় আনা উচিত।
সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পে-কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পরই নতুন পে-স্কেলের কাঠামো চূড়ান্ত হবে। এরপর অর্থনৈতিক সক্ষমতা, বাজেট ঘাটতি, রাজস্ব আয় এবং মুদ্রাস্ফীতি বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।