৭ দিনের বিরতি কাটিয়ে বেনাপোল বন্দরে বাণিজ্য কার্যক্রম শুরু

৭ দিনের বিরতি কাটিয়ে বেনাপোল বন্দরে বাণিজ্য কার্যক্রম শুরু
ছবির ক্যাপশান, ৭ দিনের বিরতি কাটিয়ে বেনাপোল বন্দরে বাণিজ্য কার্যক্রম শুরু

টানা সাত দিনের ঈদের ছুটি শেষে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আবার শুরু হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে দুই দেশের মধ্যে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল, পণ্য খালাস ও লোড-আনলোড কার্যক্রম শুরু হয়। দীর্ঘ বিরতির পর বন্দরে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে গত ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এই সময়ে বন্দরের ভেতরে পণ্য খালাস, লোড-আনলোড এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও বেনাপোল ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে বৈধ পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক ছিল।

 

সোমবার সকালে বন্দর কার্যক্রম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসায়ী, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, কাস্টমস কর্মকর্তা-কর্মচারী, বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং শ্রমিকরা কাজে যোগ দেন। বন্দরে পণ্য লোড-আনলোডের জন্য প্রায় তিন হাজার শ্রমিক কাজে নেমেছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এতে দীর্ঘ ছুটির পর বন্দর এলাকায় আবারও ব্যস্ততা দেখা যায়।

 

বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক জানান, দীর্ঘ ছুটির কারণে সীমান্তের দুই পাশে পণ্যজট তৈরি হয়েছে। আমদানি-রপ্তানি ও পণ্য খালাস কার্যক্রম শুরু হওয়ায় এখন সেই জট ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে। তিনি বলেন, ব্যবসায়ী, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, বন্দর ও কাস্টমসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শ্রমিকরা সকাল থেকেই পণ্য খালাসে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

 

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ৯টা থেকে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়। সকাল ১১টা পর্যন্ত ভারত থেকে ৩৭ ট্রাক পণ্য আমদানি হয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে ১২ ট্রাক পণ্য ভারতে রপ্তানি হয়েছে। দিনের বাকি সময়ে ট্রাকের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন জানান, ঈদের ছুটিতে বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ ছিল। এ সময়ে ভারত থেকে কোনো পণ্য আমদানি হয়নি। সোমবার ছুটি শেষে আবার দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যারা ছুটিতে ছিলেন, বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সবাই কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন।

 

তিনি আরও জানান, ব্যবসায়ীরা যাতে দ্রুত আমদানি পণ্য খালাস নিতে পারেন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ ছুটির কারণে জমে থাকা পণ্য দ্রুত ছাড় করতে বন্দর, কাস্টমস ও সিঅ্যান্ডএফ সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে বলা হয়েছে।

 

বেনাপোল স্থলবন্দর দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের সঙ্গে সংযুক্ত এই বন্দর দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি ও রপ্তানি হয়। শিল্পকারখানার কাঁচামাল, যন্ত্রাংশ, খাদ্যপণ্যসহ নানা ধরনের পণ্য এই পথ দিয়ে দেশে আসে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকেও বিভিন্ন পণ্য ভারতে রপ্তানি করা হয়।

 

বাণিজ্য সংশ্লিষ্টদের মতে, টানা সাত দিনের বিরতির কারণে বন্দর এলাকায় পণ্যজট তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হলে কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে। দ্রুত পণ্য খালাস না হলে আমদানিকারকদের অতিরিক্ত খরচ, গুদাম চাপ এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিলম্ব তৈরি হতে পারে।

 

অন্যদিকে রপ্তানিকারকদের জন্যও বন্দর সচল হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সময়মতো পণ্য ভারতে পাঠাতে না পারলে সরবরাহ চুক্তি, উৎপাদন পরিকল্পনা এবং বাজার ব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে পারে। তাই ছুটি শেষে প্রথম দিন থেকেই বন্দর কার্যক্রম দ্রুত গতিতে চালু রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

 

সব মিলিয়ে ঈদের দীর্ঘ ছুটি শেষে বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানি শুরু হওয়ায় সীমান্ত বাণিজ্যে আবার গতি ফিরেছে। পণ্যজট কমাতে দ্রুত খালাস, সমন্বিত ব্যবস্থাপনা এবং ট্রাক চলাচল স্বাভাবিক রাখাই এখন বন্দর কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীদের প্রধান লক্ষ্য।


সম্পর্কিত নিউজ