আসন্ন বাজেটে ফ্যামিলি কার্ড পাবেন কতজন, জানালেন মন্ত্রী

আসন্ন বাজেটে ফ্যামিলি কার্ড পাবেন কতজন, জানালেন মন্ত্রী
ছবির ক্যাপশান, এআই ছবি

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, আসন্ন জাতীয় বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি আরও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ধর্মীয় ও মানবিক সহায়তাভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচির আওতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হবে। আগামী অর্থবছরে আরও ৪০ লাখ ২০ হাজার মানুষকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরে আয়োজিত এক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

 

মন্ত্রী জানান, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে সরকার সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন জটিল ও দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত অসহায় মানুষের চিকিৎসা সহায়তার অনুদানও দ্বিগুণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে যে কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের অঙ্গীকার করা হয়েছিল, সরকার এখন তা বাস্তবায়নের পর্যায়ে নিয়ে এসেছে।

 

তিনি আরও বলেন, শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে দীর্ঘমেয়াদে স্বাবলম্বী করে তোলার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলোকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় এনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপকারভোগীদের তথ্যভাণ্ডারও আধুনিকায়ন করা হচ্ছে, যাতে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা সরাসরি সরকারি সহায়তা পান।

 

এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শুধু আশ্রয় ও ভরণপোষণ দেওয়া নয়, তাদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, কারিগরি শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানমুখী কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বহু প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্প পরিচালিত হলেও দীর্ঘদিন ধরে সমন্বয়ের কিছু ঘাটতি ছিল। নতুন কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করে সেবার মান উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে।

 

তিনি জানান, প্রবীণ নাগরিক, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, বিধবা ও অসচ্ছল নারীদের জন্য পরিচালিত বিভিন্ন ভাতা কর্মসূচির কার্যকারিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে সেবার গুণগত মান বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা এবং দ্রুত সেবা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আগামী বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ আরও বাড়তে পারে। এর মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারি সহায়তা কর্মসূচির পরিধি আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


সম্পর্কিত নিউজ