{{ news.section.title }}
নতুন মন্ত্রী হওয়ার আলোচনায় যেসব নেতা
মন্ত্রিপরিষদে সম্ভাব্য পরিবর্তন ও সম্প্রসারণ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রমে আরও গতি আনতে এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে নতুন করে মন্ত্রিসভা সাজাতে পারেন বলে বিএনপির একাধিক সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে। এ প্রক্রিয়ায় বর্তমান মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যের দায়িত্ব পরিবর্তন, কিছু মন্ত্রণালয়ের পুনর্বণ্টন এবং নতুন কয়েকজন নেতার অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে দলীয় ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই হতে পারে প্রথম বড় ধরনের মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন। সরকারের প্রথম কয়েক মাসের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে বিভিন্ন খাতে আরও কার্যকর নেতৃত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। একই সঙ্গে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা কয়েকজন মন্ত্রীর কাজের চাপ কমানোর বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে।
বিশেষ করে বরিশাল অঞ্চলে সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে এ অঞ্চলের ২১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৮টিতে জয় পেয়েছে বিএনপি ও তাদের সমমনা জোটের প্রার্থীরা। ফলে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ মনে করছেন, জাতীয় রাজনীতিতে বরিশাল বিভাগের শক্তিশালী অবস্থানের প্রতিফলন মন্ত্রিসভাতেও থাকা উচিত।
বর্তমান মন্ত্রিসভায় বরিশাল অঞ্চলের একজন পূর্ণমন্ত্রী ও তিনজন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। এছাড়া জাতীয় সংসদের স্পিকার, চিফ হুইপ এবং প্রধানমন্ত্রীর একজন বিশেষ সহকারীও এ অঞ্চলের প্রতিনিধি। তারপরও স্থানীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশের দাবি, নির্বাচনী ফলাফলের তুলনায় তাদের প্রতিনিধিত্ব এখনো পর্যাপ্ত নয়।
সম্ভাব্য নতুন মুখ হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন।
এছাড়া বিএনপির উপদেষ্টা ও বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ার, দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, আইনজীবী নেতা জয়নাল আবেদিন, বরিশাল জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেন খান এবং যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের নামও আলোচনায় রয়েছে।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, সম্ভাব্য সম্প্রসারণে শুধু রাজনৈতিক ভারসাম্য নয়, প্রশাসনিক দক্ষতা ও মাঠপর্যায়ের গ্রহণযোগ্যতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় পর্যায়ের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতাকে বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, বরিশাল অঞ্চলের উন্নয়ন, যোগাযোগ অবকাঠামো, শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির স্বার্থে এ অঞ্চলের অভিজ্ঞ ও জনপ্রতিনিধিদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে পায়রা বন্দরকে কেন্দ্র করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ, ভোলা-বরিশাল সড়ক ও নৌ যোগাযোগ উন্নয়ন, উপকূলীয় সুরক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং পর্যটন খাতের বিকাশে শক্তিশালী প্রতিনিধিত্ব প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য এই মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের মাধ্যমে সরকার একদিকে প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনতে চাইবে, অন্যদিকে বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে রাজনৈতিক ভারসাম্যও বজায় রাখার চেষ্টা করবে। একই সঙ্গে সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচিকে মাঠপর্যায়ে আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যও এতে প্রতিফলিত হতে পারে।
তবে সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ বা পুনর্গঠন নিয়ে সরকার কিংবা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। ফলে আলোচনায় থাকা নামগুলো আপাতত রাজনৈতিক মহলের জল্পনা-কল্পনা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। সরকারি সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।