দূষণের তালিকায় কিনশাসা শীর্ষে, ঢাকার অবস্থান কত?

দূষণের তালিকায় কিনশাসা শীর্ষে, ঢাকার অবস্থান কত?
ছবির ক্যাপশান, ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে বায়ুদূষণ উদ্বেগজনক হারে বাড়লেও রাজধানী ঢাকার বাসিন্দারা কয়েকদিন ধরে তুলনামূলক স্বস্তির নিঃশ্বাস নিচ্ছেন। দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্বের অন্যতম দূষিত শহরের তালিকায় থাকা ঢাকা বর্তমানে কিছুটা উন্নত অবস্থানে রয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ১০টার দিকে আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, ঢাকার বায়ুর মান আগের দিনের তুলনায় কিছুটা খারাপ হলেও এখনো তা সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।

 

আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, এদিন বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ঢাকার অবস্থান ছিল ১২তম। রাজধানীর এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর রেকর্ড করা হয়েছে ৯৩, যা ‘মাঝারি’ বা Moderate মানের বায়ু হিসেবে বিবেচিত হয়। আগের দিন সোমবার একই সময়ে ঢাকার স্কোর ছিল ৮০। অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে দূষণের মাত্রা কিছুটা বেড়েছে, তবে তা এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, একিউআই স্কোর ৫০ থেকে ১০০-এর মধ্যে থাকলে সাধারণ মানুষের জন্য বায়ুর মান গ্রহণযোগ্য ধরা হয়। তবে শিশু, বয়স্ক, হৃদরোগী এবং শ্বাসকষ্টে ভোগা ব্যক্তিদের জন্য সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা, যানবাহনের চাপ এবং নির্মাণকাজের ধুলাবালুর কারণে বায়ুর মানের পরিবর্তন ঘটতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

 

এদিকে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে আফ্রিকার দেশ কঙ্গোর রাজধানী কিনসাসা। শহরটির একিউআই স্কোর ১৬৭, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ের মধ্যে পড়ে। টানা কয়েকদিন ধরেই শহরটি বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকার শীর্ষে রয়েছে।

 

দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে চিলির রাজধানী সান্তিয়াগো এবং চীনের উহান। দুটি শহরেই বায়ুর মান অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে রয়েছে। চীনের আরও দুটি বড় শহর বেইজিং ও হাংজুও দূষণের তালিকায় রয়েছে। বেইজিংয়ের স্কোর ১১৯ এবং হাংজুর স্কোর ১০৭, যা ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত।

 

ভারতের রাজধানী দিল্লিও আবারও বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর মধ্যে উপরের সারিতে উঠে এসেছে। ১৪০ স্কোর নিয়ে শহরটি তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছে। একই দেশের আরেকটি শহরও শীর্ষ দশে জায়গা করে নিয়েছে, যার স্কোর ১১৭। তবে ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ের পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো। শহরটির একিউআই স্কোর ৬২, যা মাঝারি মানের বায়ু নির্দেশ করে।

 

পাকিস্তানের লাহোরও দূষণের দিক থেকে উদ্বেগজনক অবস্থানে রয়েছে। শহরটির একিউআই স্কোর ১৩২, যা সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর। অন্যদিকে করাচির স্কোর ৮২, যা ঢাকার কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।

 

এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা এবং নেপালের কাঠমান্ডুতেও বায়ুদূষণের মাত্রা সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোতে যানবাহনের ধোঁয়া, শিল্পকারখানার নির্গমন, নির্মাণকাজ এবং আবহাওয়াগত কারণে বায়ুদূষণ ক্রমেই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

 

একিউআই সূচক অনুযায়ী, ০ থেকে ৫০ স্কোরকে ভালো, ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি, ১০১ থেকে ১৫০ সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর, ১৫১ থেকে ২০০ অস্বাস্থ্যকর, ২০১ থেকে ৩০০ খুব অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১-এর বেশি হলে তা বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে বাইরে চলাচল সীমিত রাখা, মাস্ক ব্যবহার এবং প্রয়োজন ছাড়া দীর্ঘ সময় খোলা পরিবেশে না থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।

 

যদিও বর্তমানে ঢাকার বায়ুর মান তুলনামূলক সহনীয় অবস্থায় রয়েছে, তবুও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, বর্ষা মৌসুমের সাময়িক প্রভাব কেটে গেলে আবারও দূষণের মাত্রা বাড়তে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিকল্প নেই। রাজধানীতে পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন বৃদ্ধি, নির্মাণকাজে ধুলা নিয়ন্ত্রণ, শিল্পকারখানার নির্গমন কমানো এবং সবুজায়ন বাড়ানোর মাধ্যমে বায়ুর মান আরও উন্নত করা সম্ভব বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।


সম্পর্কিত নিউজ