{{ news.section.title }}
তীব্র গরমের মধ্যে স্বস্তির খবর দিল আবহাওয়া অফিস
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান মৃদু তাপপ্রবাহ আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে আগামী ৪ জুন থেকে দেশের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে তাপমাত্রা কিছুটা কমে গিয়ে জনজীবনে স্বস্তি ফিরতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সোমবার (১ জুন) রাত সাড়ে ৯টায় বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত চার দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বর্তমানে রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি আগামী ৩ জুন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। তাপপ্রবাহের কারণে দিনের বেলায় গরমের তীব্রতা বেশি অনুভূত হতে পারে এবং বাইরে কাজ করা মানুষদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ৬টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ২৬ থেকে ৫০ শতাংশ এলাকায় অস্থায়ীভাবে দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। একই সময়ে ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ১ থেকে ২৫ শতাংশ এলাকায়ও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
এরপর ৪ জুন থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের পরিধি আরও বাড়তে পারে। এ সময়ে ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ৫০ থেকে ৭৫ শতাংশ এলাকায় এবং রংপুর, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ এলাকায় অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি কিংবা বজ্রবৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ছাড়া ৫ জুন থেকে রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের ৫০ থেকে ৭৫ শতাংশ এলাকায় বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। একই সময়ে রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ এলাকাও বৃষ্টির আওতায় আসতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনে সারা দেশেই বৃষ্টিপাতের প্রবণতা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে পারে। এর প্রভাবে তাপমাত্রা কিছুটা হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩২ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে এবং রাতের তাপমাত্রা ২৩ থেকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পেলে তাপপ্রবাহের প্রভাব কমে আসবে এবং গরমজনিত অস্বস্তিও কিছুটা হ্রাস পাবে। তবে বজ্রসহ বৃষ্টির সময় নদী ও জলাশয়ে অবস্থানকারী ব্যক্তি, কৃষক এবং খোলা স্থানে কর্মরত মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মেঘের বিস্তারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে আগামী দিনগুলোতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকায় কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণও হতে পারে।
তবে আবহাওয়ার পরিস্থিতি স্থানভেদে পরিবর্তিত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তাই ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাত সংক্রান্ত সর্বশেষ সতর্কবার্তা অনুসরণ করার জন্য সাধারণ মানুষকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।