{{ news.section.title }}
শিগগিরই মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ,আলোচনায় যেসব জেলার নাম
প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনা, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং সরকারের ভেতরে রাজনৈতিক ভারসাম্য আরও সুসংহত করার লক্ষ্যে খুব শিগগিরই মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে এ নিয়ে আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে। নতুন কয়েকজন মুখকে মন্ত্রিসভায় যুক্ত করার পাশাপাশি একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর পুনর্বণ্টনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র বলছে, বর্তমান মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে চাপ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে উন্নয়ন প্রকল্প, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং মাঠ প্রশাসনের কার্যক্রম তদারকির বিষয়গুলো সামনে রেখে দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে। এ কারণেই নতুন মন্ত্রী নিয়োগের পাশাপাশি কিছু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের চিন্তাভাবনা চলছে।
সরকারি সূত্রগুলো বলছে, সম্ভাব্য নতুন মুখের তালিকায় নারায়ণগঞ্জের একজন তরুণ সংসদ সদস্যের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই তরুণ এমপি দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। ফলে তাকে গুরুত্বপূর্ণ কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।
এ ছাড়া নরসিংদী থেকে একজন সংসদ সদস্যকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে নেত্রকোনার একজন সংসদ সদস্য এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের একজন নারী এমপির নামও সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকায় রয়েছে। রাজনৈতিক ভারসাম্য ও আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে এসব জেলার প্রতিনিধিদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের একজন জ্যেষ্ঠ বিএনপি নেতাকেও শিগগিরই মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে বলে জোর গুঞ্জন রয়েছে। দলীয় সূত্রগুলোর দাবি, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে তাকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে।
অন্যদিকে খুলনা, ঢাকা এবং বৃহত্তর পাবনা অঞ্চল থেকেও কয়েকজন সংসদ সদস্যকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়ার আলোচনা চলছে। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে মনে করা হচ্ছে, বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হলে রাজনৈতিকভাবে সরকারের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদের একজন সদস্যকে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী করার বিষয়েও আলোচনা রয়েছে। অর্থনীতি, বিনিয়োগ, প্রশাসনিক সংস্কার কিংবা জ্বালানি খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ কোনো মন্ত্রণালয়ে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে সরকারের ভেতরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি সোমবার (১ জুন) প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তবে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র তিন মাসের মাথায় একজন মন্ত্রীর পদত্যাগ রাজনৈতিক অঙ্গন এবং প্রশাসনের ভেতরে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
সরকারি ও দলীয় বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হচ্ছে, দীপেন দেওয়ান সত্যিই শারীরিক অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করেছেন নাকি এর পেছনে অন্য কোনো প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক কারণ রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের খবর প্রকাশের পর পার্বত্য অঞ্চলেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। রাঙামাটিতে স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। কয়েকটি স্থানে সড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটে। নেতাকর্মীরা দাবি করেন, পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় দীপেন দেওয়ানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং তার পদত্যাগ ওই অঞ্চলের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সরকারের সামনে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, প্রশাসনিক সংস্কার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। ফলে মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য সম্প্রসারণকে কেবল রাজনৈতিক সমন্বয় নয়, বরং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রীসহ মোট ৫০ জন সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন করে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ ও দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত হলে বর্তমান সরকারের প্রশাসনিক কাঠামোয় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।