দেশে স্বর্ণের দামে বড় পতন

দেশে স্বর্ণের দামে বড় পতন
ছবির ক্যাপশান, এআই ছবি

দেশের বাজারে টানা দ্বিতীয় দফায় বড় ধরনের মূল্যহ্রাসের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের নিম্নমুখী প্রবণতা এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমে যাওয়ার প্রভাবে এবার ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমানো হয়েছে। ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ টাকা, যা শনিবার (৬ জুন) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

বাজুসের প্রকাশিত নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৩৩ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৪ টাকায়। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম রাখা হয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৫৭ টাকা।

 

এর আগে গত ২ জুনও স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। অর্থাৎ মাত্র চার দিনের ব্যবধানে ভরিতে মোট ৮ হাজার ৭৪৮ টাকা কমেছে স্বর্ণের দাম।

 

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা কিছুটা কমে আসা, ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল হওয়া এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা কিছুটা হ্রাস পাওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে স্বর্ণের দামে সংশোধন দেখা যাচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বাজারেও। তবে বিশ্ববাজারে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ মজুত নীতি এবং সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ওপর আগামী দিনের মূল্যধারা অনেকটাই নির্ভর করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 

শুধু স্বর্ণ নয়, কমেছে রুপার দামও। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভরিতে ৪০৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ২৪৯ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ২৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ২০৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ৭১ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭ দফা দাম বেড়েছে এবং ৩৪ দফা কমেছে। অন্যদিকে রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে ৪২ বার। এর মধ্যে ২২ বার দাম বেড়েছে এবং ২০ বার কমেছে।

 

গত বছরও স্বর্ণের বাজারে ব্যাপক ওঠানামা দেখা যায়। ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বেড়েছিল এবং ২৯ বার কমেছিল। একই সময়ে রুপার দাম ১৩ বার পরিবর্তন করা হয়, যেখানে ১০ বার দাম বেড়েছিল এবং মাত্র ৩ বার কমেছিল।

 

স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, সামনে কোরবানির ঈদ-পরবর্তী সময়ে বিয়ের মৌসুম ও অলংকারের চাহিদা কেমন থাকে, তার ওপরও বাজারের গতিপ্রকৃতি নির্ভর করবে। তবে আপাতত ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে, কারণ অল্প সময়ের ব্যবধানে স্বর্ণ ও রুপা-দুই ধাতুর দামেই উল্লেখযোগ্য পতন ঘটেছে।


সম্পর্কিত নিউজ