{{ news.section.title }}
চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার হবে: রিজভী
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলমান চীন সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। শিল্প, অবকাঠামো এবং সেবা খাতে চীনের বড় ধরনের বিনিয়োগ ইতোমধ্যে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দুই দেশের মধ্যে বর্তমানে প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর শুধু কূটনৈতিক সম্পর্ক নয়, বরং অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে। এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: দেশে বর্তমানে ৮২ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
রিজভী বলেন, চীনে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা আন্তর্জাতিক মহলে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়নের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বনেতাদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সৌরবিদ্যুৎসহ পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদনে কর-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ২০ শতাংশ সৌরবিদ্যুৎ থেকে অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, চীন অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না। অতীতে যে একমুখী পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা হতো, এখন তার পরিবর্তে বহুমুখী কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে স্বাধীন ও বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই নীতিকেই অনুসরণ করছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রেখে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদার করার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে রিজভী বলেন, এমন অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ করতে হবে যাতে সাধারণ মানুষ, নিম্ন আয়ের পরিবার এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা সহজ হয়। দ্রব্যমূল্য, কর্মসংস্থান এবং আয়ের ভারসাম্য রক্ষায় সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
মুদির দোকানকে ভ্যাটের আওতায় আনার বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে তিনি বলেন, ছোট ব্যবসায়ীদের আয় সীমিত। তাই তাদের ওপর অতিরিক্ত করের চাপ সৃষ্টি করা উচিত নয়। তবে যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর দেওয়ার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও করের বাইরে রয়েছেন, তাদের কর ব্যবস্থার আওতায় আনার পক্ষে মত দেন তিনি।