পাচারকৃত অর্থ ফেরাতে ‘মুক্ত বিনিয়োগ নীতি’ ঘোষণার দাবি আইনজীবীদের

পাচারকৃত অর্থ ফেরাতে ‘মুক্ত বিনিয়োগ নীতি’ ঘোষণার দাবি আইনজীবীদের
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

দেশের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করতে ও পাচার করা বিশাল অংকের টাকা ফেরাতে ‘মুক্ত বিনিয়োগ নীতি’ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় আইনজীবী সমিতি। বাংলাদেশ জাতীয় আইনজীবী সমিতি দেশের সকল বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্দলীয় একটি ফেডারেশন।

শুক্রবার (১ মে) বিকালে সুপ্রিম কোর্টে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সম্মতির পক্ষ থেকে এই দাবি করেন আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহ মো. খসরুজ্জামান। তিনি বলেন, “মুক্ত বিনিয়োগ নীতি ঘোষণা ছাড়া বর্তমান অর্থনীতিকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করার বিকল্প নেই। এতে বিদেশে পাচার করা এবং দেশে লুকায়িত অর্থ উৎপাদন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে, যা অর্থনীতিকে চাঙা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।“

 

লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ আইনজীবী সমিতি গত ৩০ এপ্রিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর সম্মেলন কক্ষে ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় অংশ নিয়েছিলো। সেখানে এই বিষয়ে সংগঠনটি বিস্তারিত প্রস্তাবনা পেশ করেছে। সভায় দেশের অর্থনীতির সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরেছে আইনজীবী সমিতি।

 

শুক্রবারের সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ আইনজীবী সমিতি দেশের বর্তমান অর্থনীতির অবস্থা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে। সমিতি সভাপতি বলেন, “মুদ্রাবাজারে তীব্র অর্থসংকট বিরাজ করছে, ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।“
তিনি জানান দেশের বাজেটে প্রায় এক লাখ কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে। একই সাথে বিদেশি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় অর্থনীতির ওপর চাপ বেড়েই চলেছে। এসময় তিনি উল্লেখ করেন, সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী দেশের বৈদেশিক ঋণ ১১৩.৫১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

 

সমিতির পক্ষ থেকে আরও উল্লেখ করা হয় যে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর ঋণের কিস্তি পেতে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। পাশাপাশি এনবিআরের গৃহীত পদক্ষেপসমূহের প্রশংসা করে সমিতি। শাহ খসরুজ্জামান বলেন, “বর্তমান করব্যবস্থা ও আইনগত জটিলতার কারণে অনেক বিত্তশালী দেশে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হয়ে বিদেশে অর্থ স্থানান্তর করছেন। এ পরিস্থিতিতে পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনতে বাস্তবসম্মত ও আকর্ষণীয় নীতি গ্রহণ জরুরি।“


তিনি আরও বলেন, “দেশে নতুন বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে বিশেষ সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি।“ নতুন বিনিয়োগকৃত অর্থের ওপর কর অব্যাহতি দেওয়া, বিনা প্রশ্নে নির্দিষ্ট হারে কর গ্রহণ করে অর্থ বৈধ করার সুযোগ রাখা, সব খাতে উন্মুক্ত বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টিসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করলে দেশের মুদ্রাবাজারে তারল্য সংকট দ্রুত কমে আসবে বলে উল্লেখ করেন সমিতি সভাপতি।

 

তিনি যোগ করেন, ‘নগদ অর্থের ওপর ৫ থেকে ৭ শতাংশ হারে কর গ্রহণ করে বিনা প্রশ্নে অর্থ গ্রহণের সুযোগ দিলে অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশে ফিরে আসতে পারে। তবে করের হার এক অঙ্কের মধ্যে রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়; অন্যথায় কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হবে।‘

 

বিদেশি ঋণের উপর নির্ভরতা কমাতে হবে উল্লেখ করে খসরুজ্জামান বলেন, “দেশের অর্থবাজার থেকে লক্ষ-কোটি টাকা উধাও হওয়া এবং অনুৎপাদন খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির কারণে দেশ আজ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে এবং দেশের অর্থনীতিকে চাঙা করতে বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা হ্রাস করতে হবে।“ করদাতাদের ওপর চাপ না বাড়িয়ে সরকারের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির পথ খুঁজে বের করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, অ্যাডভোকেট সামছুল জালাল চৌধুরী, অ্যাডভোকেট গোলাম মোর্শেদ, শেখ রেজাউল করিম, অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন প্রমুখ।


সম্পর্কিত নিউজ