{{ news.section.title }}
জন্মমৃত্যু নিবন্ধনে জরুরি নির্দেশনা
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমে অননুমোদিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহারের ঘটনা রোধে জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে সরকারের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়। একইসঙ্গে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে আগামী ১ জুন পর্যন্ত বিডিআরআইএস (BDRIS) সফটওয়্যার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রবিবার (২৪ মে) এ বিষয়ে পৃথক দুটি অফিস আদেশ জারি করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, দেশের বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমে অনিয়ম, পাসওয়ার্ড শেয়ারিং এবং অননুমোদিত প্রবেশ ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, কোনো ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিবন্ধন সহকারী (অথরাইজড ইউজার) হিসেবে দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে অথবা একাধিক ইউনিয়ন পরিষদে অতিরিক্ত দায়িত্বে নিয়োজিত থাকলে তার পরিবর্তে হিসাব সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটরকে নিবন্ধন সহকারী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া যাবে।
রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অনেক ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তার পর্যাপ্ত কম্পিউটার ও সফটওয়্যার ব্যবহারের দক্ষতা না থাকায় তারা নিজেদের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড অন্যদের কাছে হস্তান্তর করছেন। এছাড়া একই কর্মকর্তা একাধিক ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই স্থানীয়ভাবে অননুমোদিত ব্যক্তিরা নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের অনিয়মের কারণে শুধু তথ্য নিরাপত্তাই ঝুঁকির মুখে পড়ছে না, বরং ভুয়া জন্মনিবন্ধন, তথ্য বিকৃতি এবং নাগরিক সনদে ভুল তথ্য অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। এতে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
অফিস আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অথবা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কিংবা সদস্য জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিধিমালা অনুযায়ী, নিবন্ধক তার কার্যালয়ের নিয়মিত বেতন কাঠামোর আওতায় নিয়োজিত কোনো কর্মচারীকে নিবন্ধন সহকারী (অথরাইজড ইউজার) হিসেবে দায়িত্ব দিতে পারবেন।
বিধিমালা অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা অথবা হিসাব সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর এই দায়িত্ব পালনের জন্য উপযুক্ত বলে বিবেচিত হবেন।
অফিস আদেশে কঠোর সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই তথ্য কোনো অবস্থাতেই শেয়ার বা হস্তান্তরযোগ্য নয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, আলাদা আরেকটি অফিস আদেশে জানানো হয়েছে, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশনের রক্ষণাবেক্ষণ, সার্ভার আপগ্রেড এবং নিরাপত্তা জোরদারের কাজের জন্য আগামী ১ জুন পর্যন্ত বিডিআরআইএস প্ল্যাটফর্মে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
গত ২০ মে জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী, ২৪ মে রাত ১১টা ৫৯ মিনিট থেকে ১ জুন সকাল ৬টা পর্যন্ত জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সংক্রান্ত নতুন আবেদন, তথ্য সংশোধন, অনলাইন যাচাই, সনদ উত্তোলনসহ সব ধরনের ডিজিটাল কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।
ফলে এই সময়ে দেশের ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন পর্যায়ে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সংক্রান্ত সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে স্কুল ভর্তি, পাসপোর্ট আবেদন, জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন, ভিসা প্রসেসিং এবং বিভিন্ন সরকারি সেবার জন্য যাদের জরুরি ভিত্তিতে জন্মনিবন্ধন প্রয়োজন, তাদের সাময়িক অপেক্ষা করতে হতে পারে।
তবে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিস্টেম রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শেষ হলে আগের তুলনায় আরও নিরাপদ, দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। অনলাইনে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং প্রযুক্তিনির্ভর করতে সরকার দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় সব ধরনের নাগরিক সেবার সঙ্গে জন্মনিবন্ধন সংযুক্ত থাকায় এই ডাটাবেজের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ডের অপব্যবহার বন্ধ করা না গেলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু সফটওয়্যার আপডেট করলেই হবে না; স্থানীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়মিত আইটি প্রশিক্ষণ, সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা এবং মনিটরিং ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি লগইন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA) ও ডিজিটাল অডিট সিস্টেম চালুর পরামর্শও দিয়েছেন তারা।