{{ news.section.title }}
৪০ দেশের জন্য ফ্রি ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করল শ্রীলঙ্কা
পর্যটন খাতকে আরও গতিশীল ও বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে বিশ্বের ৪০ দেশের নাগরিকদের জন্য বিনামূল্যে ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর ঘোষণা দিয়েছে শ্রীলঙ্কা সরকার। সোমবার (২৫ মে) থেকে নতুন এই সুবিধা কার্যকর হয়েছে বলে দেশটির পর্যটন ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্তের আওতায় শ্রীলঙ্কার ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইটিএ) ব্যবস্থার মাধ্যমে পর্যটকরা অন-অ্যারাইভাল ফ্রি ভিসা সুবিধা পাবেন। তবে ভ্রমণের আগে প্রত্যেক ভ্রমণকারীকে অনলাইনে ইটিএ অনুমোদন নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, এই প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করা হয়েছে যাতে বিদেশি পর্যটকরা ঝামেলাহীনভাবে দেশটিতে প্রবেশ করতে পারেন।
শ্রীলঙ্কা সরকার জানিয়েছে, এই ফ্রি ট্যুরিস্ট ভিসার মেয়াদ হবে ৩০ দিন এবং এই সময়ের মধ্যে একজন পর্যটক সর্বোচ্চ দুইবার দেশটিতে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে কেউ যদি ৩০ দিনের বেশি সময় অবস্থান করতে চান, তাহলে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ফি পরিশোধ করতে হবে।
নতুন এই সুবিধার আওতায় ভারত, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, সৌদি আরব, মালয়েশিয়াসহ মোট ৪০ দেশের নাগরিকরা ফ্রি ট্যুরিস্ট ভিসা পাবেন। পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করায় আন্তর্জাতিক পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। এদিকে মালদ্বীপের নাগরিকদের জন্য আলাদা সুবিধা রাখা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় মালদ্বীপের নাগরিকরা ৯০ দিনের ট্যুরিস্ট ভিসা সুবিধা পাবেন বলে জানিয়েছে শ্রীলঙ্কা সরকার।
অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে গত কয়েক বছর ধরে পর্যটন শিল্পকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে শ্রীলঙ্কা। দেশটির অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হচ্ছে পর্যটন খাত। কিন্তু করোনা মহামারি, বৈদেশিক ঋণ সংকট, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জ্বালানি সংকটের কারণে গত কয়েক বছরে পর্যটক আগমন ব্যাপকভাবে কমে যায়। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ফ্রি ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর মাধ্যমে শ্রীলঙ্কা আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকৃষ্ট করার বড় ধরনের কৌশল নিয়েছে। বিশেষ করে ভারত, চীন এবং মধ্যপ্রাচ্যের পর্যটকদের লক্ষ্য করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ এই অঞ্চলগুলোর পর্যটকরা তুলনামূলক বেশি ব্যয় করেন এবং সারা বছরই ভ্রমণ করেন।
শ্রীলঙ্কা পর্যটন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশটিতে পর্যটক আগমন বাড়ানোর জন্য আন্তর্জাতিক প্রচারণা, বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণ, নতুন হোটেল বিনিয়োগ এবং ডিজিটাল ভিসা সেবা উন্নয়নের কাজ চলছে। সরকার আশা করছে, নতুন ফ্রি ভিসা নীতির ফলে পর্যটন আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং স্থানীয় ব্যবসা, হোটেল, রেস্টুরেন্ট, পরিবহন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও উপকৃত হবেন।
পর্যটন খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ পর্যটক আকর্ষণে ভিসা সহজীকরণ নীতি গ্রহণ করছে। থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোও সাম্প্রতিক সময়ে পর্যটকদের জন্য বিভিন্ন ধরনের ভিসা সুবিধা চালু করেছে। সেই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে শ্রীলঙ্কাও আরও উদার ভিসা নীতির দিকে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ থেকেও প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পর্যটক শ্রীলঙ্কা ভ্রমণ করেন। বিশেষ করে সমুদ্রসৈকত, ঐতিহাসিক স্থাপনা, পাহাড়ি অঞ্চল, বৌদ্ধ ঐতিহ্য এবং ক্রিকেটভিত্তিক পর্যটনের কারণে দেশটি দক্ষিণ এশিয়ার জনপ্রিয় গন্তব্য হিসেবে পরিচিত। তবে বর্তমান তালিকায় বাংলাদেশি নাগরিকদের নাম না থাকায় বাংলাদেশ থেকে ভ্রমণকারীদের আগের নিয়মেই ভিসা নিতে হবে।
ভ্রমণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে যদি দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও বাড়ে, তাহলে বাংলাদেশসহ অন্যান্য সার্ক দেশের নাগরিকদের জন্যও সহজ ভিসা সুবিধা চালু হতে পারে।
যেসব দেশের নাগরিকরা এই ফ্রি ভিসা সুবিধা পাবেন তারা হলেন- অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া, বাহরাইন, বেলারুশ, বেলজিয়াম, কানাডা, চীন, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ইসরায়েল, ইতালি, জাপান, কাজাখস্তান, কুয়েত, মালয়েশিয়া, নেপাল, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, ওমান, পাকিস্তান, পোল্যান্ড, কাতার, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ কোরিয়া, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র।