{{ news.section.title }}
রামিসা হত্যা মামলার রায় আজ, আদালতে সোহেল-স্বপ্না
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় আজ রোববার (৭ জুন) ঘোষণা করবেন আদালত। বহুল আলোচিত এ মামলার রায়কে ঘিরে সকালেই প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। মাত্র ১৭ দিনের মধ্যে বিচারিক কার্যক্রম শেষ হওয়ায় এ রায় নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারসহ দেশজুড়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
রায় ঘোষণার আগের দিন শনিবার এক গোলটেবিল বৈঠকে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বলেন, তিনি শুধু নিজের সন্তানের হত্যার বিচার চান না, বরং এমন একটি সমাজ ও বিচারব্যবস্থা প্রত্যাশা করেন যেখানে আর কোনো শিশুকে এমন নির্মম ঘটনার শিকার হতে না হয়।
গত ১৯ মে পল্লবীর একটি বাসায় রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দেশব্যাপী ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন মহল থেকে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি ওঠে এবং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেও দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার আশ্বাস দেওয়া হয়।
ঘটনার দিনই পুলিশ নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে। একই সময় আটক করা হয় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে। পরদিন শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানাকে প্রধান আসামি এবং স্বপ্নাসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
মামলার তদন্ত শেষে গত ২৪ মে পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগপত্রে সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করা হয়। পরে আদালত চার্জশিট গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
একই দিন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ১ জুন দিন ধার্য করেন। পরবর্তীতে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মামলার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাসা থেকে বের হয়। অভিযোগ রয়েছে, আসামি স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে যাওয়ার সময় হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে শুরু করেন। একপর্যায়ে অভিযুক্তদের কক্ষের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান তারা।
ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্য ও ভবনের অন্য বাসিন্দারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মরদেহ এবং তার বিচ্ছিন্ন মাথা একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান তারা।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্বপ্না আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি জানান, তার স্বামী সোহেল রানা শিশুটিকে বাথরুমে আটকে রেখে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করেছেন।
ঘটনার পর ১৯ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় দুইজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই স্বপ্না আক্তারকে আটক করে পুলিশ। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ২০ মে আদালতে হাজির হয়ে সোহেল রানা ঘটনার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। একই দিনে স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।