{{ news.section.title }}
ভিসা ছাড়াই বাংলাদেশিরা যেতে পারবেন যে ৩৬ দেশে
বিশ্বের শক্তিশালী পাসপোর্টগুলোর সর্বশেষ বৈশ্বিক র্যাংকিংয়ে আরও এক ধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ অভিবাসন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স প্রকাশিত সর্বশেষ হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স অনুযায়ী, বাংলাদেশের অবস্থান এখন ৯৬তম, যা আগের সূচকে ছিল ৯৫তম। এর ফলে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ সুবিধার দিক থেকে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের তুলনায় বাংলাদেশি পাসপোর্টের অবস্থান এখনও দুর্বল পর্যায়েই রয়ে গেছে।
মে মাসে প্রকাশিত এই সূচকে দেখা যায়, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা বর্তমানে আগাম ভিসা ছাড়াই বিশ্বের ৩৬টি দেশে ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে কিছু ভিসামুক্ত গন্তব্য, কিছু দেশে অন-অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা এবং কয়েকটি দেশে ই-ভিসা গ্রহণের সুযোগ।
বাংলাদেশিদের জন্য ভ্রমণ-সুবিধাপ্রাপ্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বার্বাডোজ, ভুটান, কম্বোডিয়া, ডমিনিকা, ফিজি, গ্রেনাডা, হাইতি, জ্যামাইকা, কেনিয়া, মাদাগাস্কার, মালদ্বীপ, নেপাল, রুয়ান্ডা, সামোয়া, সেশেলস, শ্রীলঙ্কা, বাহামাস, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো, টুভ্যালু ও ভানুয়াতুসহ আরও কয়েকটি দেশ ও অঞ্চল। এসব গন্তব্যের অনেকগুলোতেই বাংলাদেশি নাগরিকরা বিমানবন্দরে পৌঁছার পর ভিসা নিতে পারেন, আবার কিছু দেশে অনলাইনে ই-ভিসার মাধ্যমে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি দেশের পাসপোর্টের শক্তি শুধু ভ্রমণের সুবিধার বিষয় নয়; এটি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, কূটনৈতিক অবস্থান, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। কোনো দেশের নাগরিকরা যত বেশি দেশে সহজে প্রবেশের সুযোগ পান, সেই দেশের পাসপোর্ট তত বেশি শক্তিশালী বলে বিবেচিত হয়।
হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স বিশ্বের অন্যতম গ্রহণযোগ্য পাসপোর্ট র্যাংকিং ব্যবস্থা। এটি আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা (IATA)-এর তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্বের ১৯৯টি পাসপোর্ট এবং ২২৭টি ভ্রমণ গন্তব্য বিশ্লেষণ করে প্রস্তুত করা হয়। কোনো দেশের নাগরিকরা কতটি দেশে ভিসামুক্ত, অন-অ্যারাইভাল ভিসা অথবা সহজ প্রবেশাধিকার পান, তার ওপর ভিত্তি করেই এই সূচক নির্ধারণ করা হয়।
সর্বশেষ তালিকায় বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের অবস্থান ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুর। দেশটির নাগরিকরা বিশ্বের ১৯০টিরও বেশি গন্তব্যে ভিসামুক্ত বা সহজ প্রবেশাধিকার ভোগ করছেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সুইডেন।
এছাড়া চতুর্থ স্থানে রয়েছে ইউরোপের একাধিক দেশ, যার মধ্যে বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, স্পেন ও সুইজারল্যান্ড উল্লেখযোগ্য। এসব দেশের নাগরিকরা বিশ্বের অধিকাংশ দেশে ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুযোগ পান।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত, শ্রীলঙ্কা এবং ভুটানের অবস্থানও বাংলাদেশের তুলনায় তুলনামূলক ভালো। অন্যদিকে আফগানিস্তান এখনও বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল পাসপোর্টধারী দেশগুলোর একটি হিসেবে তালিকার নিচের দিকে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থান উন্নত করতে হলে দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা, ভিসা সহজীকরণ চুক্তি বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আন্তর্জাতিক আস্থার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অগ্রগতি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করলেও পাসপোর্টের বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতায় কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি এখনো দৃশ্যমান নয়। ফলে বিদেশ ভ্রমণ, ব্যবসা, উচ্চশিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের এখনও তুলনামূলক বেশি ভিসা জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়।
তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের আশা, আগামী বছরগুলোতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভিসা সহজীকরণ চুক্তি, আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত হলে বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থানের উন্নতি হতে পারে। আপাতত সর্বশেষ হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সে এক ধাপ পিছিয়ে ৯৬তম স্থানে থাকা বাংলাদেশের জন্য এটি যেমন একটি সতর্কবার্তা, তেমনি বৈশ্বিক যোগাযোগ ও কূটনৈতিক সক্ষমতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তারও একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত।