সীমান্ত নিরাপত্তার চেয়েও ডিজিটাল নিরাপত্তা এখন বেশি জরুরি: তথ্যমন্ত্রী

সীমান্ত নিরাপত্তার চেয়েও ডিজিটাল নিরাপত্তা এখন বেশি জরুরি: তথ্যমন্ত্রী
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান বিশ্বে শুধু ভৌগোলিক সীমান্ত রক্ষা করলেই চলবে না, বরং দেশের ডিজিটাল পরিসরকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে সুরক্ষিত রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তাঁর মতে, তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ফলে বিশ্ব এখন জ্ঞান ও উদ্ভাবননির্ভর সমাজের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই বাস্তবতায় জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে সাইবার ও ডিজিটাল নিরাপত্তা।

শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)-এ আয়োজিত ‘বাংলাদেশে ভুয়া সংবাদ প্রতিরোধ: নীতিমালা, প্রযুক্তি ও জবাবদিহিতা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ন্যাশনালিস্ট আইসিটি ফোরাম (এনআইসিটিএফ)।

 

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ভুয়া সংবাদ, বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং গুজবের বিস্তার দীর্ঘদিন ধরেই দেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এখন শুধু সমস্যার কারণ বিশ্লেষণ নয়, কার্যকর সমাধান বাস্তবায়নের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ, প্রযুক্তিবিদ ও গণমাধ্যমকর্মীদের বাস্তবসম্মত সুপারিশ দেওয়ার আহ্বান জানান।

 

তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোনো বিষয়ে সরকার গঠনমূলক পরামর্শকে গুরুত্ব দেয়। ভুয়া তথ্য প্রতিরোধ এবং তথ্যপ্রবাহকে আরও দায়িত্বশীল করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে সরকার আগ্রহী বলেও জানান তিনি।

 

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এনআইসিটিএফ-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ইমতিয়াজ মীর্জা। তিনি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ভুয়া তথ্যের বিস্তার, এর সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব এবং প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরোধব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

 

গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নিয়ে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রধান প্রতিবেদক আব্বাস উদ্দিন নয়ন বলেন, দেশের অধিকাংশ গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে এখনো পূর্ণাঙ্গ ফ্যাক্টচেকিং ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। তাঁর মতে, সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই বাধ্যতামূলক করতে প্রতিটি সংবাদমাধ্যমে স্বতন্ত্র ফ্যাক্টচেক ইউনিট থাকা প্রয়োজন। এতে ভুল তথ্য প্রকাশের ঝুঁকি কমবে এবং সাংবাদিকতার মান আরও উন্নত হবে।

 

একাত্তর টেলিভিশনের ‘ফেইক নিউজ স্ক্যানার’ অনুষ্ঠানের সম্পাদক ও উপস্থাপক রাকিব হাসান বলেন, গুজব ও মিথ্যা তথ্য এখন কেবল সামাজিক সমস্যা নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে এটি একটি পরিকল্পিত ব্যবসায়িক মডেলে পরিণত হয়েছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারী বাড়ানো হচ্ছে, পরে সেই প্ল্যাটফর্মগুলো বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার বা বিক্রি করা হচ্ছে।

 

তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে জনসচেতনতার পাশাপাশি ডিজিটাল সাক্ষরতা বৃদ্ধি জরুরি। সাধারণ ব্যবহারকারীদের তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে না পারলে ভুয়া তথ্যের বিস্তার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।

 

এনআইসিটিএফ-এর সভাপতি রাফেল কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ আলোচনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক একেএম ওয়াহিদুজ্জামান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম, সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম তুহিন, অস্ট্রেলিয়ার নিউক্যাসেল বিজনেস স্কুলের ‘বিজনেস অ্যানালিটিক্স অ্যান্ড অ্যাপ্লায়েড এআই’ বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহ জে মিয়া এবং এনআইসিটিএফ-এর উপদেষ্টা ড. মারুফ মল্লিক।

 

এ ছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যম, তথ্যপ্রযুক্তি খাত, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং নীতিনির্ধারণী সংস্থার প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নিয়ে ভুয়া তথ্য প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বক্তারা মনে করেন, প্রযুক্তি, নীতিমালা এবং জনসচেতনতার সমন্বিত প্রয়োগের মাধ্যমেই ভুয়া সংবাদ ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব।


সম্পর্কিত নিউজ