{{ news.section.title }}
বিতর নামাজ পড়ার নিয়ম ও সময়
বিতর নামাজ হলো এশার নামাজের পর থেকে ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত আদায়যোগ্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি মূলত বেজোড় (১ বা ৩) রাকাতের নামাজ। হানাফী মাজহাব অনুযায়ী, ৩ রাকাত বিতর নামাজ মাগরিবের মতো একাদিক্রমে আদায় করতে হয়।
বিতর নামাজের সময় হলো প্রতিদিন এশার নামাজ আদায় করার পর থেকে শুরু করে সুবহে সাদিক বা ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত। আমাদের উপমহাদেশে সাধারণত হানাফি মাজহাবের নিয়ম অনুযায়ী এক সালামে তিন রাকাত বিতর নামাজ বেশি পড়া হয়। নিচে বিতর নামাজের সময়, রাকাত ও সঠিক নিয়ম বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
বিতর নামাজের সময় ও ফজিলত
মূল সময়: এশার ফরজ ও সুন্নতের পর থেকে ফজরের আজানের পূর্ব পর্যন্ত এই নামাজ পড়া যায়।
উত্তম সময়: যারা শেষ রাতে তাহাজ্জুদ নামাজের জন্য জাগ্রত হন, তাদের জন্য তাহাজ্জুদের পর রাতের শেষভাগে বিতর পড়া সবচেয়ে উত্তম।
সাধারণদের জন্য: শেষ রাতে ঘুম থেকে ওঠার ব্যাপারে যাদের শঙ্কা বা অলসতা রয়েছে, তারা রাতে ঘুমানোর আগেই এশার নামাজের সাথে বিতর আদায় করে নেবেন।
বিতর নামাজ পড়ার সঠিক নিয়ম (৩ রাকাত)
হানাফি নিয়ম অনুযায়ী তিন রাকাত বিতর নামাজ পড়ার ধারাবাহিক ধাপগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. প্রথম ও দ্বিতীয় রাকাত
প্রথমে মনে মনে তিন রাকাত বিতর ওয়াজিব নামাজ আদায়ের নিয়ত করবেন।
সাধারণ নামাজের মতোই প্রথম দুই রাকাত সম্পন্ন করবেন। অর্থাৎ প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য যেকোনো একটি সূরা মেলাবেন।
দ্বিতীয় রাকাতে রুকু-সিজদা শেষ করে প্রথম বৈঠকে বসবেন এবং শুধু তাশাহহুদ (আত্তাহিয়্যাতু) পড়ে সালাম না ফিরিয়ে তৃতীয় রাকাতের জন্য সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যাবেন।
২. তৃতীয় রাকাত ও দোয়া কুনুত
তৃতীয় রাকাতে দাঁড়িয়ে প্রথমে সূরা ফাতিহা পড়বেন এবং এর সাথে অন্য একটি সূরা মেলাবেন।
সূরা মেলানোর পর রুকুতে না গিয়ে "আল্লাহু আকবার" বলে তাকবির দিয়ে দুই হাত কান পর্যন্ত উঠিয়ে আবার নাভির নিচে (বা বুকের ওপর) হাত বাঁধবেন।
হাত বাঁধার পর মনে মনে বা নিঃশব্দে বিখ্যাত "দোয়া কুনুত" পাঠ করবেন।
দোয়া কুনুত আরবি:
اَللَّهُمَّ اِنَّا نَسْتَعِيْنُكَ وَنَسْتَغْفِرُكَ وَنُؤْمِنُ بِكَ وَنَتَوَكَّلُ عَلَيْكَ وَنُثْنِىْ عَلَيْكَ الْخَيْرَ وَنَشْكُرُكَ وَلَا نَكْفُرُكَ وَنَخْلَعُ وَنَتْرُكُ مَنْ يَّفْجُرُكَ- اَللَّهُمَّ اِيَّاكَ نَعْبُدُ وَلَكَ نُصَلِّىْ وَنَسْجُدُ وَاِلَيْكَ نَسْعَى وَنَحْفِدُ وَنَرْجُوْا رَحْمَتَكَ وَنَخْشَى عَذَابَكَ اِنَّ عَذَابَكَ بِالْكُفَّارِ مُلْحِقٌউচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্না নাসতা’ঈনুকা, ওয়া নাসতাগফিরুকা, ওয়া নু’মিনু বিকার, ওয়া নাতাওয়াক্কালু ‘আলাইকা, ওয়া নুছনী ‘আলাইকাল খাইর; ওয়া নাশকুরুকা, ওয়া লা নাকফুরুকা, ওয়া নাখলা’উ ওয়া নাতরুকু মাই ইয়াফজুরুক। আল্লাহুম্মা ইয়্যাকা না’বুদু, ওয়া লাকা নুসল্লী ওয়া নাসজুদু, ওয়া ইলাইকা নাস‘আ ওয়া নাহফিদু, ওয়া নারজু রাহমাতাকা, ওয়া নাখশা ‘আজাবাকা; ইন্না ‘আজাবাকা বিল কুফফারি মুলহিক।
৩. নামাজ সমাপ্তকরণ
দোয়া কুনুত পড়া শেষ হলে "আল্লাহু আকবার" বলে রুকুতে যাবেন।
এরপর স্বাভাবিক নিয়মে দুটি সিজদা শেষ করে শেষ বৈঠকে বসবেন।
শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ, দরুদ ও দোয়া মাসুরা পড়ে ডানে ও বামে সালাম ফিরিয়ে নামাজ সম্পন্ন করবেন।
কিছু জরুরি বিষয়
ভুল হলে করণীয়: যদি কেউ ভুলে তৃতীয় রাকাতে দোয়া কুনুত না পড়ে সরাসরি রুকু বা সিজদায় চলে যান, তবে নামাজের শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ পড়ার পর সাহু সিজদা (ক্ষতিপূরণ সিজদা) দিলে নামাজ শুদ্ধ হয়ে যাবে।
অন্যান্য নিয়ম: হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী বিতর নামাজ ১, ৩, ৫ বা তার বেশি বিজোড় রাকাতেও পড়া যায়। অনেকেই ২ রাকাত পড়ে সালাম ফিরিয়ে, পরবর্তীতে আবার ১ রাকাত পড়ে বিতর আদায় করেন যা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত।