{{ news.section.title }}
আজকের নামাজের সময়সূচি : ২৮ জুন ২০২৬
ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম হলো নামাজ। প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম নর-নারীর ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। হাদিস অনুযায়ী, কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। তাই জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও সময়মতো ফরজ নামাজ আদায় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর সে জন্য নামাজের সঠিক সময়সূচি জানা প্রয়োজন।
রাসুল (সা.) বলেন, ‘আজান দেওয়া এবং প্রথম কাতারে দাঁড়ানোর মধ্যে যে কী মর্যাদা আছে তা যদি মানুষ জানতে পারত, তাহলে তা পাওয়ার জন্য তারা প্রয়োজনবোধে লটারি করত। জোহরের নামাজের যে মর্যাদা আছে তা যদি তারা জানতে পারত, তাহলে তারা এটা লাভ করার জন্য প্রতিযোগিতায় লেগে যেত। এশা ও ফজরের নামাজের মধ্যে যে (তাদের জন্য) কী মর্যাদা রয়েছে, তা যদি জানতে পারত, তাহলে তারা হামাগুঁড়ি দিয়ে হলেও এসে নামাজে উপস্থিত হতো।’ (মুসলিম, হাদিস : ৮৬৭)
আজ রোববার, ২৮ জুন ২০২৬ ইংরেজি, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বাংলা, ১২ মহররম ১৪৪৮ হিজরি। ঢাকাসহ সারা দেশের নামাজের সময়সূচি নিচে তুলে ধরা হলো -
- ফজর- ০৩:৪৬ মিনিট।
- যোহর- ১২:০৩ মিনিট।
- আসর- ০৪:৪২ মিনিট।
- মাগরিব- ০৬:৫২ মিনিট।
- এশা- ০৮:১৭ মিনিট।
দেশের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে ঢাকার সময়ের সামান্য পার্থক্য রয়েছে। তাই নিজের এলাকার সঠিক নামাজের সময় জানতে ঢাকার সময়ের সঙ্গে নিচে উল্লেখিত সময় যোগ বা বিয়োগ করে মিলিয়ে নিতে পারেন।
বিয়োগ করতে হবে
- চট্টগ্রাম: ০৫ মিনিট
- সিলেট: ০৬ মিনিট
যোগ করতে হবে
- খুলনা: ০৩ মিনিট
- রাজশাহী: ০৭ মিনিট
- রংপুর: ০৮ মিনিট
- বরিশাল: ০১ মিনিট
নামাজ মুসলিম জীবনের একটি অপরিহার্য ইবাদত। এটি যেমন মানুষকে শারীরিক ও মানসিক পবিত্রতা অর্জনে সহায়তা করে, তেমনি আত্মিক প্রশান্তি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের পথও সুগম করে। আজকের নামাজের সময়সূচি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, জীবনের নানা ব্যস্ততার মাঝেও মহান আল্লাহর ইবাদতের জন্য সময় বের করা প্রত্যেক মুসলমানের অন্যতম দায়িত্ব।
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে কত রাকাত
প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে মোট ১৭ রাকাত ফরজ রয়েছে। এ ছাড়া ১২ রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা রয়েছে, যা নবীজি (সা.) নিয়মিত আদায় করতেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে আরও কিছু সুন্নতে যায়েদা রয়েছে, যা নবীজি (সা.) মাঝে মাঝে আদায় করতেন। আর ইশার নামাজের পর সুবহে সাদিকের আগে ৩ রাকাত বেতরের নামাজ আদায় করা ওয়াজিব।
ফরজ ও ওয়াজিব নামাজ আদায় করা অপরিহার্য। এগুলো ছেড়ে দিলে গুনাহ হবে। কোনো কারণে অনিচ্ছাকৃতভাবে ছুটে গেলে পরে তা কাজা করে নিতে হবে। অন্যদিকে, সুন্নতে মুআক্কাদা ও সুন্নতে যায়েদা নামাজ আদায় করলে সওয়াব পাওয়া যাবে, তবে তা আদায় না করলে গুনাহ হবে না।
নিচে ওয়াক্তভিত্তিক রাকাতসংখ্যা তুলে ধরা হলোঃ -
ফজর
ফজরের ফরজ নামাজ ২ রাকাত। ফরজের আগে ২ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা।
জোহর
জোহরের ফরজ নামাজ ৪ রাকাত। ফরজের আগে ৪ রাকাত এবং পরে ২ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা।
আসর
আসরের ফরজ নামাজ ৪ রাকাত। ফরজের আগে ৪ রাকাত সুন্নতে যায়েদা।
মাগরিব
মাগরিবের ফরজ নামাজ ৩ রাকাত। ফরজের পর ২ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা।
ইশা
ইশার ফরজ নামাজ ৪ রাকাত। ফরজের আগে ৪ রাকাত সুন্নতে যায়েদা এবং ফরজের পর ২ রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা। ইশার ফরজ ও সুন্নতের পর থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত ৩ রাকাত বেতরের নামাজ আদায় করা ওয়াজিব।
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের গুরুত্ব
পাঁচ ওয়াক্তের ফরজ নামাজ ইসলামে ঈমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে পাঁচ ওয়াক্তে নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় ফরজ ঘোষণা করে বলেন, নামাজ মুমিনের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করা ফরজ। (সুরা নিসা: ১০৩)
ফরজ নামাজ ছেড়ে দেওয়ার ভয়াবহতা বোঝাতে হাদিসে কঠোর সতর্কবার্তা এসেছে। রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আমাদের ও কাফেরদের মধ্যে যে পার্থক্য আছে তা হলো নামাজ। সুতরাং যে ব্যক্তি নামাজ ছেড়ে দিল, সে কুফুরি করল। (সুনানে তিরমিজি: ২১১৩)
নবীজি (সা.) আরও বলেন, বান্দা আর শিরক ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে নামাজ ছেড়ে দেওয়া। (সহিহ মুসলিম: ১৪৮)
আখিরাতেও নামাজের হিসাবই হবে সবার আগে। রাসুল (সা.) বলেন, কেয়ামতের দিন বান্দার আমলের মধ্যে সবচেয়ে আগে তার নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। সেটি যদি যথাযথ পাওয়া যায়, তবে সে সফল হয়ে গেলো এবং মুক্তি পেয়ে গেলো। আর যদি তাতে ত্রুটি পাওয়া যায়, তাহলে সে ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হলো। (সহিহ জামে সগির: ২০২০)
নামাজ কেবল একটি ইবাদতই নয়, এটি একজন মুমিনের দৈনন্দিন জীবনের মূল ভিত্তি। নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় মানুষকে আল্লাহর স্মরণে সচল রাখে, আত্মশুদ্ধির পথে পরিচালিত করে এবং জীবনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করে। তাই সময়সূচি জানা, রাকাতের সংখ্যা বোঝা এবং নামাজের তাৎপর্য অনুধাবন করে নিয়মিতভাবে আদায়ে যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন।