{{ news.section.title }}
মহাকাশে কোরআন তিলাওয়াতকারী প্রথম আফগান নভোচারী আর নেই
আফগানিস্তানের প্রথম মহাকাশচারী এবং সাবেক যুদ্ধবিমানচালক আবদুল আহাদ মোমান্ড মারা গেছেন। জার্মানির স্টুটগার্ট শহরে পরিবারের সঙ্গে বসবাসরত এই মহাকাশ পথিক গত ২১ জুন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ৬৭ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মোমান্ডের মৃত্যুতে আফগান সমাজের বিভিন্ন স্তরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিজ্ঞান, মহাকাশ গবেষণা এবং আফগান জাতির ইতিহাসে তার অবদান নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
১৯৮৮ সালের আগস্টে সোভিয়েত ইউনিয়নের সয়ুজ টিএম-৬ মহাকাশ মিশনে অংশ নিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন আবদুল আহাদ মোমান্ড। এই অভিযানের মাধ্যমে তিনি আফগানিস্তানের প্রথম নাগরিক হিসেবে মহাকাশে যাত্রা করেন। তার এই অর্জন শুধু আফগানিস্তান নয়, পুরো মুসলিম বিশ্বের জন্যও গৌরবের বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।
মহাকাশ অভিযানের সময় তিনি নিজের সঙ্গে পবিত্র কোরআনের একটি কপি বহন করেছিলেন। মহাকাশ থেকে কোরআন তিলাওয়াতকারী প্রথম ব্যক্তি হিসেবেও তিনি পরিচিতি লাভ করেন। একই সঙ্গে তিনি মহাকাশ থেকে পশতু ভাষায় কথা বলা প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেন।
সেই সময় আফগানিস্তানে সোভিয়েত উপস্থিতি শেষ পর্যায়ে থাকলেও মোমান্ডের মহাকাশযাত্রাকে দুই দেশের বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও তার এই সাফল্য ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।
মহাকাশে অবস্থানকালে তিনি বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও গবেষণামূলক কার্যক্রমে অংশ নেন। তার এই অভিযাত্রা আফগান তরুণদের মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করেছিল।
তবে পরবর্তী সময়ে আফগানিস্তানের দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা, যুদ্ধ এবং ক্ষমতার পালাবদলের কারণে তার অবদান অনেকটাই আড়ালে চলে যায়। বর্তমানে তালেবান শাসিত আফগানিস্তানে দেশের প্রথম মহাকাশচারী হিসেবে তার ঐতিহাসিক অর্জন খুব বেশি আলোচিত হয় না।
জীবনের শেষ সময়ে তিনি জার্মানিতে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে ভুগছিলেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসে আবদুল আহাদ মোমান্ড একটি অনন্য নাম হয়ে থাকবেন। আফগানিস্তানের ইতিহাসে তিনি এমন এক ব্যক্তিত্ব, যিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশের প্রতিনিধিত্ব করে মহাকাশে পৌঁছে নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।