কাবা প্রাঙ্গণে ইবরাহিম (আ.) যে ৭ দোয়া করেছিলেন

কাবা প্রাঙ্গণে ইবরাহিম (আ.) যে ৭ দোয়া করেছিলেন
ছবির ক্যাপশান, প্রতীকী এআই জেনারেটেড ছবি

কাবা শরিফের পবিত্র প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে হযরত ইবরাহিম (আ.) যে দোয়া করেছিলেন, তা শুধু তাঁর যুগের জন্য সীমাবদ্ধ নয়-বরং কিয়ামত পর্যন্ত আগত সকল মুমিনের জন্য এক অনন্য পথনির্দেশনা ও ঈমানের চিরন্তন আলোকবর্তিকা। এই দোয়াগুলো আজও আমাদের ঈমান, চরিত্র ও জীবনদর্শন গঠনে গভীরভাবে দিকনির্দেশনা প্রদান করে।

দোয়াগুলো নিম্নরূপ: - 

 

১. আমল কবুল হওয়ার দোয়া

رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا ۖ إِنَّكَ أَنتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

উচ্চারণ : রব্বানা তাকাব্বাল মিন্না ইন্নাকা আনতাস সামিউল আলিম।


অর্থ : ‘হে আমাদের রব! আমাদের পক্ষ থেকে (এই কাজ) কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১২৭)

মানুষ যত বড় কাজই করুক না কেন, তার গ্রহণযোগ্যতা একমাত্র আল্লাহর হাতে। তাই প্রতিটি নেক আমলের পর কবুল হওয়ার দোয়া করা জরুরি।

 

২. আত্মসমর্পণ ও নেক বংশধরের জন্য দোয়া

رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمِن ذُرِّيَّتِنَا أُمَّةً مُّسْلِمَةً لَّكَ

উচ্চারণ : রাব্বানা ওয়াজ আলনা মুসলিমাইনি লাকা ওয়া মিন জুররিয়্যাতিনা উম্মাতাম মুসলিমাতাল লাকা।

অর্থ : ‘হে আমাদের রব! আমাদের উভয়কে আপনার অনুগত মুসলিম বানান এবং আমাদের বংশধরদের মধ্য থেকে একটি অনুগত জাতি সৃষ্টি করুন।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১২৮)

তাই শুধু নিজে ভালো হওয়া যথেষ্ট নয়; বরং নিজের পরবর্তী প্রজন্মকেও দ্বিনের পথে রাখতে দোয়া করা অপরিহার্য।

 

৩. হজ ও ইবাদতের সঠিক পদ্ধতি শেখার দোয়া

وَأَرِنَا مَنَاسِكَنَا وَتُبْ عَلَيْنَا ۖ إِنَّكَ أَنتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ

উচ্চারণ : ওয়া আরিনা মানাসিকানা ওয়া তুব আলাইনা, ইন্নাকা আনতাত তাওয়্যাবুর রাহিম।

অর্থ : ‘আর আমাদের ইবাদতের নিয়ম-পদ্ধতি দেখিয়ে দিন এবং আমাদের তাওবা কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১২৮)

ইবাদত শুধু করা নয়, সঠিক নিয়মে করাও জরুরি। এ জন্য আল্লাহর কাছে জ্ঞান ও হেদায়েত চাওয়া প্রয়োজন।



৪. রাসুল প্রেরণের দোয়া (মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমন)

رَبَّنَا وَابْعَثْ فِيهِمْ رَسُولًا مِّنْهُمْ

উচ্চারণ : রাব্বানা ওয়াব আস ফিহিম রাসুলাম মিনহুম।

অর্থ : ‘হে আমাদের প্রতিপালক! তাদের মধ্যে তাদেরই মধ্য থেকে একজন রাসুল প্রেরণ করুন।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১২৯)

এই দোয়ার ফলেই মহানবী (সা.) এই উম্মতের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন।

 

৫. নিরাপদ শহরের দোয়া

رَبِّ اجْعَلْ هَٰذَا بَلَدًا آمِنًا

উচ্চারণ : রাব্বিজ আল হাজা বালাদান আমিনা।

অর্থ : ‘হে আমার প্রতিপালক! এই শহরকে নিরাপদ করুন।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১২৬)

নিরাপত্তা ও শান্তি আল্লাহর এক বড় নেয়ামত। আর সমাজ ও রাষ্ট্রের শান্তির জন্য দোয়া করা ঈমানের অংশ।



৬. শিরক থেকে বাঁচার দোয়া

وَاجْنُبْنِي وَبَنِيَّ أَن نَّعْبُدَ الْأَصْنَامَ

উচ্চারণ : ওয়াজ নুবনি ওয়া বানিয়্যা আন না বুদাল আসনাম।

অর্থ : ‘হে আমার রব! আমাকে ও আমার সন্তানদের মূর্তিপূজা থেকে দূরে রাখুন।’ (সুরা : ইবরাহিম, আয়াত : ৩৫)

ঈমান রক্ষা করা সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। তাই শিরক থেকে বাঁচার জন্য সর্বদা দোয়া করা উচিত।



৭. নামাজ কায়েম রাখার দোয়া

رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلَاةِ وَمِن ذُرِّيَّتِي

উচ্চারণ : রব্বিজ আলনি মুকিমাস সালাতি ওয়া মিন জুররিয়্যাতি ।

অর্থ : ‘হে আমার বর! আমাকে নামাজ কায়েমকারী বানান এবং আমার বংশধরদের মধ্য থেকেও (এমন বানান)।’ (সুরা : ইবরাহিম, আয়াত : ৪০)

 

 

নামাজ একজন মুমিনের জীবনের মূল ভিত্তি ও ঈমানের অন্যতম স্তম্ভ। এটি শুধু একটি ইবাদত নয়, বরং আল্লাহর সাথে বান্দার সরাসরি সম্পর্ক স্থাপনের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। তাই নিজের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের জন্যও নিয়মিত নামাজ কায়েমের তাওফিক চেয়ে দোয়া করা অত্যন্ত জরুরি। নামাজ মানুষকে পাপ থেকে বিরত রাখে, হৃদয়কে পরিশুদ্ধ করে এবং জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এই দোয়াগুলো বুঝে পড়ার, নামাজের প্রতি দৃঢ়তা বজায় রাখার এবং তা জীবনে বাস্তবায়ন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।


সম্পর্কিত নিউজ