যিলহজ্জের প্রথম ১০ দিনের আমল লিস্ট!

যিলহজ্জের প্রথম ১০ দিনের আমল লিস্ট!
ছবির ক্যাপশান, প্রতীকী এআই জেনারেটেড ছবি

যিলহজ্জের প্রথম ১০ দিন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও ফযীলতময়। এই দিনগুলোতে করা নেক আমল আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয়। তাই আসুন, আমরা আগে থেকেই কিছু আমলের পরিকল্পনা করে রাখি, যেন এই বরকতময় দিনগুলো উদ্দেশ্যহীনভাবে কেটে না যায়।

সুন্দরভাবে সাজানো একটি আমল তালিকা শেয়ার করছি, যাতে আমরা সবাই আগেভাগে প্রস্তুতি নিতে পারি:-

 

১. পাঁচ ওয়াক্ত সালাত সময়মতো আদায় করা:

সব ইবাদতের মূল ভিত্তি হলো ফরয আমল। তাই চেষ্টা করি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথাসময়ে, মনোযোগ ও বিনয়ের সঙ্গে আদায় করতে।

 

২. বেশি বেশি তাওবা, ইস্তিগফার ও দুরুদ পড়া:

বারবার পড়ি-
আস্তাগফিরুল্লাহ
দুরুদ

নিজের গুনাহের জন্য অন্তর থেকে অনুতপ্ত হই এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসি।

 

৩. তাকবীর, তাহমীদ, তাহলীল ও তাসবীহ বেশি বেশি পড়া:

এই দিনগুলোতে বেশি বেশি পড়ি-

আল্লাহু আকবার  
আলহামদুলিল্লাহ  
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ  
সুবহান-আল্লাহ  

এভাবেও পড়া যায়-
--আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ।

 

৪. কুরআন তিলাওয়াত করা:

প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ কুরআন তিলাওয়াতের লক্ষ্য ঠিক করি। অল্প হলেও নিয়মিত পড়ি। এখন থেকেই শুরু করলে যিলহজ্জের ১০ দিনের মধ্যে একটি কুরআন খতিমা সম্পন্ন করার চেষ্টা করা যায়।

 

৫. ফরজ নামাজের যত্ন নেওয়ার পর নফল সালাতের প্রতিও গুরুত্ব দেওয়া:

বিশেষ করে-

তাহাজ্জুদ
সালাতুদ দুহা

 

৬. রোযা রাখা:

সম্ভব হলে যিলহজ্জের প্রথম ৯ দিন রোযা রাখি। বিশেষ করে আরাফার দিনের রোযা যারা হজে নেই তাদের জন্য অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ। এই দিনের রোযার মাধ্যমে আগের ও পরের ২ বছরের গুনাহ মাফ হওয়ার সুসংবাদ রয়েছে। সুবহানআল্লাহ!

 

৭. বেশি বেশি দোয়া করা:

নিজের জন্য, পরিবারের জন্য, উম্মাহর জন্য এবং দুনিয়া-আখিরাতের কল্যাণের জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করি।

 

৮. যিকিরে জিহ্বা সজীব রাখা:

কাজের ফাঁকে, হাঁটতে হাঁটতে, রান্না করতে করতে কিংবা অবসর সময়ে যিকির করি। ছোট ছোট যিকিরও মীযানে অনেক ভারী হয়ে যায়।

 

৯. সদকা করা:

নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী দান করি। অল্প হলেও আন্তরিকতা ও ইখলাসের সঙ্গে দিই।

 

১০. কুরবানির নিয়ত থাকলে চুল-নখ না কাটা:

যিনি কুরবানি করার নিয়ত করেছেন, তিনি যিলহজ্জের চাঁদ ওঠার পর থেকে কুরবানি সম্পন্ন করা পর্যন্ত চুল ও নখ না কাটার চেষ্টা করবেন।

 

১১. ভালো কাজের পরিকল্পনা করে রাখা:

যেমন-

একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে সাহায্য করা
আত্মীয়তার সম্পর্ক ঠিক করা
কাউকে ক্ষমা করে দেওয়া
ইসলামি কিছু শেখা বা শেখানো

 

১২. অন্তরকে পরিশুদ্ধ করার চেষ্টা করা:

হিংসা, অহংকার, রাগ, শত্রুতা-এসব থেকে হৃদয়কে পরিষ্কার করার চেষ্টা করি। শুধু বাহ্যিক আমল নয়, অন্তরের আমলও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কুরবানীর এই মহান দিনগুলোতে যেন আমরা শুধু পশু কুরবানীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকি। বরং নিজেদের গুনাহ, নফসের খেয়াল, অহংকার, রাগ, খারাপ ভাষা-এসবকেও কুরবানী করার চেষ্টা করি।

এ সময়ে self-purification বা আত্মশুদ্ধির আমলও খুব জরুরি। যেমন-

নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করা
মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা
অন্যের হক সম্পর্কে সচেতন থাকা
কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে সংশোধন করা
অন্তরকে নরম করা

এই ১০ দিন যেন আমাদের ভেতরের মানুষটাকেও সুন্দরভাবে বদলে দেয়।

 

১৩. পরিবারের মাঝেও নিজ ঘরে ইবাদতের পরিবেশ তৈরি করা:

আমাদের মা-বাবা, সন্তান, ভাইবোন, স্বামী/স্ত্রী-সবাই সবাইকে উৎসাহ দিই, যেন ঘরেও যিলহজ্জের সৌন্দর্য অনুভব করা যায়।

 

১৪. হজ্জের মৌসুমকে অন্তরে জীবন্ত রাখা:

যারা হজ্জে যাচ্ছেন, তারা আল্লাহর ঘরের মেহমান হয়ে হজ্জ করবেন। আর যারা হজ্জে যাচ্ছেন না, তারাও যেন এই দিনগুলোতে এমন মানসিকতা রাখি-আমরাও আল্লাহর জন্য সাড়া দিচ্ছি, আমরাও ইবাদত, যিকির, তাওবা ও দোয়ায় নিজেদের হাজির করছি।

এই কথার সঙ্গে মিলিয়ে আমরাও বলি-
লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক

অর্থাৎ, হে আল্লাহ, আমি উপস্থিত, আমি সাড়া দিচ্ছি। হয়তো শারীরিকভাবে হজ্জে যাওয়া হয়নি, কিন্তু অন্তর যেন আল্লাহর দরবারে হাজির থাকে।

 

১৫. আরাফার দিনটিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া:

এই দিনে বেশি বেশি দোয়া, যিকির, তাওবা, কুরআন তিলাওয়াত ও রোযার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিই।

 

১৬. ঈদের দিন আল্লাহর শোকর আদায় করা:

ঈদের আনন্দের মাঝেও যেন আল্লাহকে ভুলে না যাই। কুরবানি, সালাত, যিকির-সবকিছুই যেন ইবাদতের অংশ হয়ে ওঠে।


সম্পর্কিত নিউজ