{{ news.section.title }}
বৃষ্টির সময় যে দোয়া পড়বেন
বৃষ্টি আমাদের সবারই পরিচিত এক প্রাকৃতিক ঘটনা, আর তা নেমে এলে মানুষ নির্বিশেষে আনন্দ খুঁজে পায়। ধনী-গরিব বা অন্য কোনো বিভাজন এখানে থাকে না। এটি মহান আল্লাহ তায়ালার এক অপূর্ব নিয়ামত। আর এই একটি নিয়ামতের মধ্যেই লুকিয়ে আছে অসংখ্য কল্যাণ ও দান।
পবিত্র কুরআনে বৃষ্টির এই তাৎপর্য নানা প্রসঙ্গে ও ভিন্ন ভিন্ন উপস্থাপনায় বর্ণিত হয়েছে। এসব আয়াত আমাদের চিন্তার দিগন্ত প্রসারিত করে এবং আল্লাহ তায়ালার অসীম ক্ষমতার সামনে আমাদের বিনম্র হতে শেখায়। তখন স্বতঃস্ফূর্তভাবেই আমাদের হৃদয় ভরে ওঠে কৃতজ্ঞতায়।
কুরআনের বহু আয়াতে বৃষ্টির মনোমুগ্ধকর বিবরণ পাওয়া যায়। কোথাও এটি আল্লাহ তায়ালার কুদরতের নিদর্শন হিসেবে এসেছে, কোথাও তাঁর পরিচয়ের মাধ্যম হিসেবে। আবার কোনো কোনো আয়াতে বৃষ্টিকে তাঁর রহমত বলা হয়েছে, আর কোথাও তা তুলে ধরা হয়েছে হৃদয়স্পর্শী উপমার মাধ্যমে।
রহমতের বৃষ্টি নেমে এলে দোয়া পড়া সুন্নত। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, হজরত আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বৃষ্টি দেখলে এই দোয়া পাঠ করতেন -
اللَّهُمَّ صَيِّبًا نَافِعًا
উচ্চারণ :‘ আল্লাহুম্মা সাইয়্যেবান নাফিআ।'
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আপনি মুষলধারায় যে বৃষ্টি দিচ্ছেন, তা যেন আমাদের জন্য উপকারি হয়।' (বুখারি ১০৩২)
বৃষ্টি চলাকালীন সময় দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত। তাই এই সময়টিকে কাজে লাগিয়ে বেশি বেশি দোয়া করা সুন্নত।
হাদিসে এসেছে- হজরত সাহল বিন সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, 'দুই সময়ের দোয়া ফেরত দেওয়া হয় না কিংবা (তিনি বলেছেন), খুব কমই ফেরত দেওয়া হয়- আজানের সময় দোয়া এবং রণাঙ্গণে শত্রুর মুখোমুখি হওয়ার সময়ের দোয়া। অন্য বর্ণনা মতে, বৃষ্টির সময়ের দোয়া। (আবু দাউদ ২৫৪০)
হজরত জায়েদ ইবনে খালেদ জুহানি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হুদাইবিয়ায় রাতে বৃষ্টির পর আমাদের নিয়ে নামাজ পড়লেন। নামাজ শেষে তিনি লোকজনের মুখোমুখি হলেন। তিনি বললেন, তোমরা কি জানো তোমাদের রব কী বলেছেন?
তারা বললেন, আল্লাহ ও তার রাসুলই ভালো জানেন। তিনি বলেছেন, আমার বান্দাদের কেউ আমার প্রতি ঈমান নিয়ে আর কেউ কেউ আমাকে অস্বীকার করে প্রভাতে উপনীত হয়েছে। যে বলেছে, বিফাদলিল্লাহি ওয়া রহমাতিহি তথা আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়ায় আমরা বৃষ্টিপ্রাপ্ত হয়েছি। ফলে সে আমার প্রতি ঈমান আর তারকার প্রতি কুফরি দেখিয়েছে। আর যে বলেছে, অমুক অমুক তারকার কারণে, সে আমার প্রতি অস্বীকারকারী এবং তারকার প্রতি ঈমানদার।' (বুখারি ৮৪৬; মুসলিম ১৫)
হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, একদিন জুমার দিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুতবা দেওয়া অবস্থায় এক সাহাবি মসজিদে প্রবেশ করে আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! জীবজন্তু মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছে, পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে, আল্লাহ তাআলার কাছে আমাদের জন্য বৃষ্টি প্রার্থনা করুন। তখনই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুই হাত সম্প্রসারিত করে দোয়া করলেন-
اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلاَ عَلَيْنَا، اللَّهُمَّ عَلَى الآكَامِ وَالْجِبَالِ وَالآجَامِ وَالظِّرَابِ وَالأَوْدِيَةِ وَمَنَابِتِ الشَّجَرِ
উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়া লা আলাইনা; আল্লাহুম্মা আলাল আকামি ওয়াল ঝিবালি ওয়াল আঝামি ওয়াজ জিরাবি ওয়াল আওদিয়াতি ওয়া মানাবিতিশ শাঝারি।’
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমাদের আশে পাশে, আমাদের উপর নয়। হে আল্লাহ! টিলা, মালভূমি, উপত্যকায় এবং বনভূমিতে বর্ষণ করুন।’ (বুখারি ৯৩৩; মুসলিম ৮৯৭)