জিলহজের প্রথম ১০ দিন শুরু কবে? যেসব আমল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ!

জিলহজের প্রথম ১০ দিন শুরু কবে? যেসব আমল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ!
ছবির ক্যাপশান, জাগরণ ছবি

জিলহজ মাসকে ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ মাস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশেষ করে এই মাসের প্রথম ১০ দিনকে বছরের সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ সময়গুলোর একটি বলা হয়। হজ, কুরবানি এবং আরাফার দিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত এ মাসেই পালিত হয়। বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলমানরা এখন অপেক্ষা করছেন কবে শুরু হবে পবিত্র জিলহজ মাস এবং কবে উদযাপিত হবে ঈদুল আজহা।

জ্যোতির্বিজ্ঞানভিত্তিক সম্ভাব্য হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০২৬ সালের জিলহজ মাস শুরু হতে পারে ১৮ মে সন্ধ্যার পর। সে হিসেবে ১৯ মে (মঙ্গলবার) হতে পারে জিলহজ মাসের প্রথম দিন। তবে চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। সম্ভাব্য হিসাব অনুযায়ী, আগামী ২৮ মে (বৃহস্পতিবার) দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হতে পারে। এর আগের দিন অর্থাৎ ২৭ মে (বুধবার) পালিত হতে পারে আরাফার দিন, যা ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ দিন হিসেবে পরিচিত।

 

ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, জিলহজের প্রথম ১০ দিনের নেক আমল আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়। সহিহ বুখারির একটি হাদিসে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, এই দিনগুলোর নেক আমলের চেয়ে আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় আর কোনো আমল নেই। এ কারণেই মুসলমানরা এই সময় বেশি বেশি ইবাদত, তওবা, জিকির এবং দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করেন।

 

নিচে সম্ভাব্য তারিখ ও গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলো তুলে ধরা হলো:

 

  •  ১ জিলহজ - ১৯ মে (মঙ্গলবার)
     
    পবিত্র জিলহজ মাসের সূচনা। এদিন থেকে বেশি বেশি তওবা, ইস্তিগফার এবং নফল ইবাদত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

     

  •  ২ জিলহজ - ২০ মে (বুধবার)
     
    তাকবির, তাহলিল ও তাহমিদ বেশি বেশি পড়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। “আল্লাহু আকবার”, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” ও “আলহামদুলিল্লাহ” বেশি পাঠ করা সুন্নত।

     

  •  ৩ জিলহজ - ২১ মে (বৃহস্পতিবার)
     
    নফল রোজা রাখা, কুরআন তিলাওয়াত বৃদ্ধি এবং জিকির করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে বিবেচিত।

     

  •  ৪ জিলহজ - ২২ মে (শুক্রবার)
     
    জুমার দিনের বিশেষ ফজিলতের সঙ্গে জিলহজের বরকতময় সময় একত্র হওয়ায় এদিন বেশি বেশি দোয়া ও দরুদ শরিফ পড়ার পরামর্শ দেন ইসলামিক স্কলাররা।

     

  •  ৫ জিলহজ - ২৩ মে (শনিবার)
     
    দান-সদকা, গরিবদের সহায়তা এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার আমল গুরুত্ব পায়।

     

  •  ৬ জিলহজ - ২৪ মে (রবিবার)
     
    তাহাজ্জুদ, নফল নামাজ এবং আল্লাহর জিকিরে সময় ব্যয় করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিন।

     

  •  ৭ জিলহজ - ২৫ মে (সোমবার)
     
    কুরবানির প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি আত্মশুদ্ধি ও গুনাহ থেকে দূরে থাকার সংকল্প করার সময়।

     

  •  ৮ জিলহজ - ২৬ মে (মঙ্গলবার)
     
    হজের গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় এদিন। মুসলমানদের জন্য বেশি বেশি দোয়া করার বিশেষ সময় হিসেবে ধরা হয়।

     

  •  ৯ জিলহজ (আরাফার দিন) - ২৭ মে (বুধবার)
     
    জিলহজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোর একটি। এদিন রোজা রাখার ফজিলত অত্যন্ত বেশি। হাদিস অনুযায়ী, আরাফার দিনের রোজা অতীত ও ভবিষ্যতের এক বছরের গুনাহের কাফফারা হওয়ার আশা করা হয়। এদিন বেশি বেশি দোয়া, তওবা ও জিকির করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

     

  •  ১০ জিলহজ (ঈদুল আজহা) - ২৮ মে (বৃহস্পতিবার)
     
    পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপনের সম্ভাব্য দিন। মুসলমানরা এদিন ঈদের নামাজ আদায় করেন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কুরবানি দেন। ইসলামে কুরবানির মূল শিক্ষা হলো ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য।

 

ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, জিলহজের প্রথম ১০ দিন শুধুমাত্র ইবাদতের সময় নয়; বরং এটি আত্মশুদ্ধি, গুনাহ থেকে ফিরে আসা এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করার বিশেষ সুযোগ। তারা বলেন, বর্তমান ব্যস্ত জীবনে মুসলমানদের উচিত এই সময়টিকে কাজে লাগিয়ে বেশি বেশি ইবাদত করা এবং মানবিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করা।

 

জিলহজের প্রথম ১০ দিনে যেসব আমল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে বেশি বেশি তওবা ও ইস্তিগফার করা, নফল নামাজ আদায়, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির, দরুদ শরিফ পাঠ, নফল রোজা রাখা এবং দান-সদকা করা। এছাড়া যারা কুরবানির নিয়ত করেন, তাদের জন্য জিলহজ শুরু হওয়ার পর থেকে কুরবানি সম্পন্ন করা পর্যন্ত চুল ও নখ না কাটাকে মুস্তাহাব আমল হিসেবে ধরা হয়।

 

এদিকে ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের পশুর হাট, কুরবানির প্রস্তুতি এবং বাজার ব্যবস্থাপনাও ধীরে ধীরে জমে উঠতে শুরু করেছে। ধর্মীয় বিশ্লেষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, কুরবানির প্রকৃত শিক্ষা কেবল পশু জবাই নয়; বরং আল্লাহর নির্দেশের প্রতি আনুগত্য, আত্মত্যাগ এবং তাকওয়া অর্জনই এর মূল উদ্দেশ্য।

 

দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মাঝে ইতোমধ্যেই জিলহজ ও ঈদুল আজহাকে ঘিরে ইবাদত ও প্রস্তুতির আবহ তৈরি হয়েছে। এখন সবার অপেক্ষা জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার।


সম্পর্কিত নিউজ