{{ news.section.title }}
দুই ভাই মিলে এক ভাগে কোরবানি দেয়া কি জায়েজ? জেনে নিন শরিয়তের বিধান
ইসলামের অন্যতম ফজিলতপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো কোরবানি। এতে রয়েছে আত্মত্যাগ, তাকওয়া এবং আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ আনুগত্যের এক ঐতিহাসিক মহিমা। কোরবানির সূচনা মানব ইতিহাসের প্রাচীনতম সময় থেকেই, হজরত আদম (আ.)–এর দুই পুত্র হাবিল ও কাবিলের ঘটনার মাধ্যমে এর প্রাথমিক রূপের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
পরবর্তীতে কোরবানির সর্বোচ্চ আদর্শিক দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয় হজরত ইবরাহিম (আ.) ও তাঁর প্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-এর আত্মত্যাগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে, যা কিয়ামত পর্যন্ত মুমিনদের জন্য ত্যাগ ও আল্লাহপ্রেমের অনন্য শিক্ষা হিসেবে বিবেচিত।
ইসলামী ফুকাহায়ে কেরাম কোরবানির বিধান ও শরিয়াহ সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁদের মতে, ছাগল, ভেড়া বা দুম্বায় একাধিক ব্যক্তির পক্ষ থেকে শরিক হয়ে কোরবানি করা বৈধ নয়। তবে উট, গরু ও মহিষে সর্বোচ্চ সাতজন পর্যন্ত ব্যক্তি শরিক হয়ে কোরবানি করতে পারেন। তবে এক পশুর একটি নির্দিষ্ট অংশে (এক নাম বা এক ভাগে) একাধিক ব্যক্তি একসঙ্গে শরিক হতে পারেন না, এমনকি একই পরিবারের দুই ভাই হলেও না। এক নামে একাধিক ব্যক্তি শরিক হলে সেই কোরবানি শুদ্ধ হবে না।
যদি কোনো পশু এক ভাইয়ের নামে কোরবানি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবে অন্য ভাইয়ের পক্ষ থেকে তাকে তার নির্ধারিত অংশের অর্থ বা মালিকানা যথাযথভাবে হস্তান্তর করতে হবে। এরপর সেই ব্যক্তির নামে কোরবানি সম্পন্ন করতে হবে। তবে কোরবানির মাংস পরিবারের সবাই মিলে খাওয়ায় কোনো বাধা নেই; যৌথ সংসারে সবাই সেই মাংস ভাগাভাগি করে গ্রহণ করতে পারবেন।
যদি কেউ নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন এবং তাঁর ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়ে যায়, তাহলে প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য আলাদা আলাদা কোরবানি করা আবশ্যক। অর্থাৎ একজন ব্যক্তির জন্য একটি পূর্ণ পশু (ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা) অথবা গরু, মহিষ কিংবা উটের কমপক্ষে এক সপ্তমাংশ কোরবানি করা ওয়াজিব হিসেবে গণ্য হবে।
ফুকাহায়ে কেরামের মতে, দুইজন ব্যক্তির পক্ষ থেকে এক নামে কোরবানি করা হলে সেই কোরবানি সহিহ হবে না এবং সেই পশুর অন্য অংশীদারদের কোরবানিও প্রভাবিত হবে, অর্থাৎ তা শুদ্ধ হবে না। তাই এ বিষয়ে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি।
হাদিসে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়। হজরত জাবের (রা.) বলেন-
“আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে হজের ইহরাম বেঁধে রওয়ানা হলাম। তিনি উট ও গরু কোরবানির জন্য সাতজন করে শরিক হওয়ার নির্দেশ দিলেন।”
(মুসলিম: ১৩১৮, ৩০৪৯)
এই হাদিস থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে, বড় পশু যেমন উট ও গরুতে সর্বোচ্চ সাতজন পর্যন্ত শরিক হওয়া বৈধ, তবে নির্ধারিত নিয়ম ও শর্ত মেনে চলা আবশ্যক। সব মিলিয়ে কোরবানির ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু একটি আর্থিক ইবাদত নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে আত্মত্যাগ ও তাকওয়ার বাস্তব বহিঃপ্রকাশ।