মেসিকে দলে নেওয়ার কথা ভাবছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট!

মেসিকে দলে নেওয়ার কথা ভাবছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট!
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ নিজেদের যাত্রা শুরু করেছে প্রত্যাশার চেয়ে কিছুটা হতাশাজনক ফল দিয়ে। মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্রয়ে মাঠ ছেড়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ম্যাচে বলের দখল ও আক্রমণে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও জয় তুলে নিতে ব্যর্থ হওয়ায় সমর্থক ও বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে সেলেসাওদের বর্তমান ফর্ম এবং দলগত ভারসাম্য নিয়ে।

তবে মাঠের সমালোচনার মাঝেও ব্রাজিল শিবিরে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়েছে দুটি ঘটনা। একটি দেশের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার রসিক মন্তব্য, অন্যটি ইনজুরি কাটিয়ে অনুশীলনে ফেরা নেইমার জুনিয়রের উপস্থিতি।

 

মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ শেষে সাংবাদিকরা ব্রাজিলের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন তুললে প্রেসিডেন্ট লুলা পরিস্থিতিকে কিছুটা হালকা করার চেষ্টা করেন। এ সময় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে নিয়ে মজার একটি মন্তব্য করেন তিনি।

 

মঙ্গলবার আলজেরিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলের জয় এনে দেন মেসি। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই তাঁর পারফরম্যান্স বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সেই প্রসঙ্গ টেনেই লুলা হেসে বলেন, ‘আমি তো ভাবছিলাম ব্রাজিল দলে খেলানোর জন্য মেসিকেই হায়ার (চুক্তি) করে ফেলব কি না!’

 

তার এই মন্তব্য মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। যদিও এটি নিছকই রসিকতা ছিল, তবুও ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রেক্ষাপটে মন্তব্যটি আলাদা গুরুত্ব পায়।

 

রসিকতার আড়ালে অবশ্য নিজের দলের ওপর আস্থা হারাননি ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট। তিনি মনে করেন, মরক্কোর মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ড্র কোনোভাবেই বিপর্যয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী ফুটবল দলে পরিণত হয়েছে মরক্কো। কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে ওঠার পর থেকেই দলটি বিশ্ব ফুটবলে নতুন শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।

 

এ প্রসঙ্গে লুলা বলেন, ‘লোকে বলে, ব্রাজিলকে নিয়ে যখনই সবাই সবচেয়ে বেশি সন্দেহ প্রকাশ করে, তখনই নাকি তারা বিশ্বকাপ জেতে... দেখা যাক এবার কী হয়!’

 

বিশ্বকাপের শুরুতেই এই মন্তব্য অনেক ব্রাজিল সমর্থকের মধ্যেও নতুন আশার সঞ্চার করেছে। কারণ অতীতেও কয়েকবার সমালোচনা ও প্রত্যাশার চাপের মধ্য থেকেই ব্রাজিল বড় সাফল্য অর্জন করেছে। এদিকে ব্রাজিল দলের জন্য সবচেয়ে ইতিবাচক খবর এসেছে নেইমার জুনিয়রকে ঘিরে। দীর্ঘদিনের চোট, ফিটনেস সমস্যা এবং জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর অবশেষে তিনি আবারও মাঠে ফেরার পথে।

 

৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড গত কয়েক বছরে একাধিক ইনজুরির কারণে ধারাবাহিকভাবে ভুগেছেন। বিশেষ করে হাঁটু ও পেশির সমস্যার কারণে জাতীয় দলের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ মিস করতে হয়েছে তাঁকে। গত ১৭ মে ক্লাব সান্তোসের হয়ে খেলতে গিয়ে কাফ মাসলে চোট পান তিনি। পরে চিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পেলেও তাঁর ফিটনেস নিয়ে শঙ্কা ছিল।

 

বিশ্বকাপ শুরুর আগে ব্রাজিলের অনুশীলন ক্যাম্পে যোগ দিলেও শুরুতে পূর্ণমাত্রার অনুশীলনে অংশ নিতে পারেননি নেইমার। ফলে মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেও তাঁকে মাঠে নামানো হয়নি। তবে বুধবার অবশেষে বল পায়ে অনুশীলনে অংশ নেন ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। দলের সতীর্থদের সঙ্গে হালকা ট্রেনিং সেশনে অংশ নিয়ে তিনি নিজের ফিটনেস পুনরুদ্ধারের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন।

 

অনুশীলনে ফিরেই অবশ্য নিজের পরিচিত হাস্যরসাত্মক স্বভাবের পরিচয় দেন নেইমার। সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে হাসতে হাসতে তিনি বলে ওঠেন, ‘কী হে, আমাকে খুব মিস করছিলে নাকি?’

 

এই একটি বাক্যই মুহূর্তের মধ্যে অনুশীলন মাঠের পরিবেশ বদলে দেয়। দীর্ঘদিন পর নেইমারের হাসিমুখ দেখা ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের মধ্যেও স্বস্তি ফিরিয়েছে।

 

বিশ্বকাপ ইতিহাসে ব্রাজিলের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নেইমারের নামের পাশে রয়েছে ৮৩টিরও বেশি আন্তর্জাতিক গোল। তিনি পেলের দীর্ঘদিনের রেকর্ডও ভেঙেছেন। ফলে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তাঁর উপস্থিতি এখনও ব্রাজিলের জন্য বড় সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়।

 

তবে হাইতির বিপক্ষে ব্রাজিলের পরবর্তী ম্যাচে তিনি শুরু থেকেই খেলবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি কোচিং স্টাফ। চিকিৎসক ও ফিটনেস বিশেষজ্ঞরা তাঁর শারীরিক অবস্থার ওপর নিয়মিত নজর রাখছেন।

 

ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তির নেতৃত্বে দলটি এখন নিজেদের প্রথম জয় খুঁজছে। মরক্কোর বিপক্ষে পয়েন্ট হারালেও গ্রুপ পর্বে সামনে এখনও একাধিক সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে নেইমার দ্রুত পুরোপুরি ফিট হয়ে ফিরতে পারলে আক্রমণভাগে ব্রাজিল আরও ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 

এখন দেখার বিষয়, প্রেসিডেন্ট লুলার রসিকতা এবং নেইমারের প্রত্যাবর্তনের হাসি কতটা আত্মবিশ্বাস যোগায় সেলেসাওদের। কারণ বিশ্বকাপের মতো আসরে প্রথম ম্যাচের ফল নয়, শেষ পর্যন্ত ট্রফি হাতে তোলার গল্পই সবচেয়ে বেশি মনে রাখে ফুটবল বিশ্ব।


সম্পর্কিত নিউজ