{{ news.section.title }}
নেইমারেরকে নিয়ে সুখবর দিলো ব্রাজিল
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়গুলোর একটি এখন নেইমার জুনিয়রের ফিটনেস। পায়ের পেছনের পেশিতে চোট পাওয়ার কারণে প্রায় এক মাস ধরে মাঠের বাইরে থাকা এই তারকা ফুটবলার অবশেষে অনুশীলনে ফিরেছেন। তবে তার ফেরার এই অগ্রগতি সত্ত্বেও বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে মাঠে নামতে পারবেন কি না, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রে দলের ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার পর মঙ্গলবার (১৬ জুন) প্রথমবারের মতো অনুশীলন মাঠের পাশে দেখা গেছে ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টারকে। দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার পর এটি তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ বলে মনে করছেন চিকিৎসক ও কোচিং স্টাফ।
ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) জানিয়েছে, নেইমার ধীরে ধীরে মাঠভিত্তিক অনুশীলনে ফিরছেন এবং পুনর্বাসন কর্মসূচির নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মরিসটাউনে ব্রাজিল দলের অনুশীলন কেন্দ্রে তিনি বিশেষ পর্যবেক্ষণের মধ্যে হালকা দৌড় ও ফিটনেস কার্যক্রমে অংশ নেন।
সিবিএফ প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, সাবেক বার্সেলোনা, প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইন ও আল-হিলাল তারকা নেইমার প্রথমবারের মতো মাঠে দৌড়ানোর অনুশীলন করছেন। এ সময় কোচ কার্লো আনচেলত্তির কোচিং স্টাফের একজন সদস্য তাকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। অনুশীলনের পুরো সময়জুড়ে চিকিৎসক ও ফিটনেস বিশেষজ্ঞরাও উপস্থিত ছিলেন।
নেইমারের সর্বশেষ চোটটি লাগে ১৭ মে। ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সান্তোস এফসির হয়ে একটি ম্যাচে খেলতে গিয়ে পায়ের পেছনের পেশিতে (হ্যামস্ট্রিং) গ্রেড-২ ইনজুরিতে আক্রান্ত হন তিনি। সাধারণত এ ধরনের চোট থেকে পুরোপুরি সেরে উঠতে কয়েক সপ্তাহ থেকে দুই মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
চোট পাওয়ার পরও ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে তাকে রাখা হয়। কারণ দলটির কোচিং স্টাফ ও চিকিৎসকরা আশা করেছিলেন, টুর্নামেন্টের মাঝামাঝি সময়ে হলেও তিনি মাঠে ফিরতে পারবেন। তবে ইনজুরির কারণে এখন পর্যন্ত দলের পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনে অংশ নিতে পারেননি ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা।
এদিকে বিশ্বকাপের মিশন শুরু করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। নিজেদের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে সেলেসাওরা। ম্যাচটিতে নেইমারের অনুপস্থিতি দলের আক্রমণভাগে স্পষ্টভাবেই অনুভূত হয়েছে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
গ্রুপ ‘সি’-তে ব্রাজিলের সামনে এখন দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ অপেক্ষা করছে। শুক্রবার তারা মুখোমুখি হবে হাইতির। এরপর ২৪ জুন স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচ। তবে ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, এই দুই ম্যাচে নেইমারকে মাঠে নামানোর ঝুঁকি নিতে চাইছে না টিম ম্যানেজমেন্ট।
সোমবার প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রেড-২ পেশির চোট থেকে সেরে ওঠার অগ্রগতি মূল্যায়নের জন্য নেইমারকে নতুন করে মেডিকেল পরীক্ষা দেওয়া হয়েছে। যদিও সেই পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক ফলাফল তখনও প্রকাশ করেনি সিবিএফ।
দলের চিকিৎসকরা আশাবাদী যে, নকআউট পর্ব শুরু হওয়ার আগেই তাকে পুরোপুরি ফিট করে তোলা সম্ভব হবে। ফলে ব্রাজিল যদি গ্রুপপর্ব পেরিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নেইমারকে পাওয়া যেতে পারে।
৩৪ বছর বয়সী এই তারকার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার গত কয়েক বছরে বারবার ইনজুরির কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর উরুগুয়ের বিপক্ষে দক্ষিণ আমেরিকান বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে ভয়াবহ চোটে পড়েন তিনি। মন্টেভিডিওতে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে তার বাম হাঁটুর অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট (এসিএল) এবং মেনিস্কাস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সেই ইনজুরি থেকে সেরে উঠতে তাকে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে। অস্ত্রোপচার, পুনর্বাসন এবং একাধিক ফিটনেস পরীক্ষার মধ্য দিয়ে গেলেও তিনি আর ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে নামতে পারেননি। ফলে প্রায় তিন বছর পর জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন এই তারকা।
পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ট্রান্সফারমার্কেটের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন চোট, পুনর্বাসন এবং বিশ্রামের কারণে গত কয়েক বছরে প্রায় ৭০০ দিনের কাছাকাছি সময় প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলের বাইরে কাটিয়েছেন নেইমার। যা তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়গুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে ব্রাজিল সমর্থকদের আশা, দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নকআউট পর্বে দলের ত্রাতা হয়ে ফিরতে পারেন নেইমার। কারণ বড় মঞ্চে তার অভিজ্ঞতা, সৃজনশীলতা এবং ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার সামর্থ্য এখনো ব্রাজিলের অন্যতম বড় শক্তি। তাই তার মাঠে ফেরার প্রতিটি অগ্রগতি বিশ্বকাপজুড়ে ব্রাজিল শিবিরে নতুন আশার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে।