{{ news.section.title }}
তুরস্ককে হারিয়ে বিশ্বকাপে টিকে থাকলো প্যারাগুয়ে
বিশ্বকাপে টিকে থাকার লড়াইয়ে জয় ছিল দুই দলের কাছেই সমান গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত গ্রুপপর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শেষ হাসি হেসেছে প্যারাগুয়ে। ম্যাচের শুরুতেই করা ম্যাতিয়াস গ্যালারজার একমাত্র গোলই গড়ে দেয় পার্থক্য। সেই গোলে তুরস্ককে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার আশা জিইয়ে রাখল দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।
অন্যদিকে পুরো ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করেও গোলের দেখা না পাওয়ায় বড় ধাক্কা খেয়েছে তুরস্ক। এমনকি প্রতিপক্ষ ১০ জনে নেমে যাওয়ার পরও সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় নকআউট পর্বে ওঠার স্বপ্ন এখন প্রায় শেষ হয়ে এসেছে ভিনচেনজো মনতেয়ার শিষ্যদের।
ম্যাচের শুরুতেই বজ্রপাত
খেলা শুরুর মাত্র ৬৪ সেকেন্ডের মাথায় এগিয়ে যায় প্যারাগুয়ে। তুরস্কের রক্ষণভাগ তখনও পুরোপুরি গুছিয়ে উঠতে পারেনি। হুলিও এনসিসোর দুর্দান্ত ফ্লিক থেকে বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ-পায়ের জোরালো শটে জাল কাঁপান ম্যাতিয়াস গ্যালারজা।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে দক্ষিণ আমেরিকার কোনো দলের হয়ে এটি অন্যতম দ্রুততম গোল। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে প্যারাগুয়ের সেলসো আয়ালার ৫২ সেকেন্ডে করা গোলের পর এটি দ্বিতীয় দ্রুততম গোল হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে।
প্রথম মিনিটেই পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় তুরস্ক। একের পর এক আক্রমণ, বল দখলে স্পষ্ট আধিপত্য এবং ধারাবাহিক সুযোগ সৃষ্টি করলেও গোল আদায় করতে পারেনি ইউরোপের প্রতিনিধিরা।
সুযোগের পর সুযোগ নষ্ট
প্রথমার্ধেই সমতায় ফেরার একাধিক সুযোগ পেয়েছিল তুরস্ক। ১৩ মিনিটে কেরেম আকতুরকোগলুর কাটব্যাক থেকে আরদা গুলেরের শট লক্ষ্যে থাকেনি। এরপর ৩৪ মিনিটে হাকান চালহানওলুর নিখুঁত ফ্রি-কিক থেকে মেরিহ মুলদুরের হেড প্রথমে ক্রসবারে এবং পরে পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এই মুহূর্তটিই ছিল ম্যাচের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট। ভাগ্য যেন কোনোভাবেই তুরস্কের পক্ষে ছিল না।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আরও নাটকীয় ঘটনা ঘটে। প্যারাগুয়ের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার মিগেল আলমিরন প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের সঙ্গে কথা বলার সময় মুখ ঢেকে কথা বলেন। ফিফার নতুন আচরণবিধি অনুযায়ী এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।
ভিএআর পর্যালোচনার পর রেফারি সরাসরি লাল কার্ড দেখান আলমিরনকে। ফলে দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটা সময় ১০ জনের দল নিয়ে খেলতে হয় প্যারাগুয়েকে।
একজন বেশি খেলোয়াড় নিয়েও ব্যর্থ তুরস্ক
আলমিরনের লাল কার্ডের পর ধারণা করা হচ্ছিল দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফিরতে খুব একটা সমস্যা হবে না তুরস্কের। কিন্তু বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ উল্টো।
৪৮ মিনিটে কেনান ইলদিজের শট সাইড নেটে লাগে। ৫৮ মিনিটে ছয় গজ দূর থেকে চালহানওলু নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করেন। ৬৩ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় দেনিজ গুলের হেড সরাসরি গোলরক্ষকের হাতে চলে যায়।
মিনিট যত গড়িয়েছে, তুরস্কের হতাশাও তত বেড়েছে। ৭৪ মিনিটে আবদুলকেরিম বারদাকচির দূরপাল্লার শট অসাধারণ দক্ষতায় কর্নারের বিনিময়ে রুখে দেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক ওরল্যান্ডো গিল। চার মিনিট পর মুলদুরের আরেকটি ফাঁকা হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
৮০ মিনিটে তুরস্ক ম্যাচে নিজেদের ২৪তম শট নেয়। কিন্তু মেরিহ দেমিরালের প্রচেষ্টা ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।
প্রাচীর হয়ে দাঁড়ালেন ওরল্যান্ডো গিল
প্যারাগুয়ের জয়ের নেপথ্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল গোলরক্ষক ওরল্যান্ডো গিলের। ম্যাচজুড়ে অসাধারণ সব সেভ করে দলকে এগিয়ে রাখেন তিনি। ৮৯ মিনিটে ইউনুস উজুনের শক্তিশালী শট দুর্দান্তভাবে প্রতিহত করেন গিল। ফিরতি বলেও গোল করতে ব্যর্থ হন তুরস্কের ফরোয়ার্ডরা। যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটে আরদা গুলেরের নিখুঁত ক্রস থেকে মেরিহ দেমিরালের হেড অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে গেলে তুরস্কের শেষ আশাটুকুও শেষ হয়ে যায়।
লড়াকু প্যারাগুয়ে, হতাশ তুরস্ক
পরিসংখ্যান বলছে, ম্যাচে বল দখলের হার একসময় ৮২ শতাংশ পর্যন্ত ছিল তুরস্কের পক্ষে। তারা ২৪টিরও বেশি শট নেয়, অসংখ্য ক্রস করে এবং দ্বিতীয়ার্ধে প্রায় পুরো সময় প্রতিপক্ষের অর্ধে খেলেছে। তবুও গোলের সামনে চরম ব্যর্থতার কারণে খালি হাতেই মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের।
অন্যদিকে ম্যাচের প্রথম মিনিটে পাওয়া সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পরে ১০ জনের দল নিয়েও যে শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলেছে প্যারাগুয়ে, তা চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা ডিফেন্সিভ পারফরম্যান্স হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এই জয়ের ফলে নকআউট পর্বে ওঠার লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে প্যারাগুয়ে। আর তুরস্কের জন্য পরিস্থিতি হয়ে উঠেছে অত্যন্ত কঠিন। শেষ ম্যাচে জয় পেলেও অন্য দলের ফলাফলের ওপর নির্ভর করতে হবে তাদের। তবে বর্তমান সমীকরণে দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ক্ষীণ বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।