গোল্ডেন বুট, গোল্ডেন বল জিতলে কত টাকা পান ফুটবলাররা

গোল্ডেন বুট, গোল্ডেন বল জিতলে কত টাকা পান ফুটবলাররা
ছবির ক্যাপশান, প্রতীকী এআই জেনারেটেড ছবি

ফিফা বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট, গোল্ডেন বল কিংবা গোল্ডেন গ্লাভ-প্রতিটি ব্যক্তিগত পুরস্কারই একজন ফুটবলারের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ অর্জনের মধ্যে অন্যতম। তবে অনেক সমর্থকেরই ধারণা, এসব পুরস্কারের সঙ্গে কোটি কোটি টাকার নগদ অর্থও দিয়ে থাকে ফিফা। বাস্তবে কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়।

ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা বিশ্বকাপে দেওয়া ব্যক্তিগত পুরস্কারগুলোর সঙ্গে কোনো নির্ধারিত নগদ অর্থ প্রদান করে না। অর্থাৎ গোল্ডেন বল (সেরা খেলোয়াড়), গোল্ডেন বুট (সর্বোচ্চ গোলদাতা), গোল্ডেন গ্লাভ (সেরা গোলরক্ষক), ইয়াং প্লেয়ার অ্যাওয়ার্ড কিংবা প্রতি ম্যাচের ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’-সব ক্ষেত্রেই বিজয়ীরা পান সম্মানসূচক ট্রফি ও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি, কিন্তু ফিফার পক্ষ থেকে আলাদা কোনো অর্থ পুরস্কার দেওয়া হয় না।

 

২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ থেকে 'প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ' পুরস্কার চালু হয়। এরপর থেকে প্রতিটি ম্যাচের সেরা পারফর্মারকে ট্রফি দেওয়া হলেও এর সঙ্গে কোনো নগদ অর্থ যুক্ত করা হয়নি।

 

তাহলে প্রশ্ন উঠতে পারে, এসব ব্যক্তিগত পুরস্কারের গুরুত্ব কোথায়?

ফুটবল অর্থনীতির বিশ্লেষকদের মতে, এই সম্মাননাগুলোর প্রকৃত মূল্য ট্রফির চেয়েও অনেক বেশি। বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে ব্যক্তিগত পুরস্কার জয়ের মাধ্যমে একজন ফুটবলারের বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি নতুন স্পন্সরশিপ, বিজ্ঞাপন চুক্তি, ক্লাবের সঙ্গে উন্নত বেতন, পারফরম্যান্স বোনাস এবং ট্রান্সফার ফি-সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। অনেক ফুটবলারের ক্যারিয়ারে একটি সফল বিশ্বকাপই আর্থিক ও পেশাগত মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।

 

চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে আলো ছড়াচ্ছেন বেশ কয়েকজন তারকা। সেমিফাইনালের আগে পর্যন্ত চারবার করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি ও ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহাম। তিনবার করে ম্যাচসেরা হয়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে, নরওয়ের আর্লিং হলান্ড এবং ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। অন্যদিকে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে শীর্ষে রয়েছেন মেসি, তার ঠিক পেছনেই আছেন এমবাপ্পে, হলান্ড ও হ্যারি কেইনের মতো তারকারা।

 

ব্যক্তিগত পুরস্কারের সঙ্গে নগদ অর্থ না থাকলেও দলগত সাফল্যের জন্য ফিফা বরাদ্দ রেখেছে ইতিহাসের অন্যতম বড় প্রাইজমানি। ২০২৬ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, রানার্সআপ পাবে ৩৪ মিলিয়ন ডলার। কোয়ার্টার ফাইনাল, শেষ ষোলো এবং গ্রুপ পর্বে বিদায় নেওয়া দলগুলোর জন্যও নির্ধারিত রয়েছে কোটি কোটি ডলারের আর্থিক পুরস্কার।

 

অর্থাৎ বিশ্বকাপে গোল্ডেন বল বা গোল্ডেন বুট জয়ের মুহূর্তে হাতে কোনো অর্থের চেক তুলে দেওয়া না হলেও, এই সম্মাননাই একজন ফুটবলারের ক্যারিয়ারে ভবিষ্যতের বহু মিলিয়ন ডলারের সুযোগের দরজা খুলে দিতে পারে। তাই ফুটবল বিশ্বে এসব ব্যক্তিগত পুরস্কারের মূল্য অর্থের অঙ্ক দিয়ে নয়, বরং মর্যাদা, স্বীকৃতি এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব দিয়েই পরিমাপ করা হয়।


সম্পর্কিত নিউজ