{{ news.section.title }}
বিশ্বকাপে ‘৯ কার্ড’ দেখানো রেফারি পেলেন আর্জেন্টিনা ম্যাচের দায়িত্ব
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন মার্কিন রেফারি ইসমাইল এলফাত। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় আটলান্টার মার্সিডিজ-বেনজ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে এই হাইভোল্টেজ সেমিফাইনাল। ম্যাচের রেফারি প্যানেল ইতোমধ্যেই ঘোষণা করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কায় জন্ম নেওয়া ৪৪ বছর বয়সী এলফাত বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক রেফারি। ২০১৬ সাল থেকে তিনি ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারির তালিকাভুক্ত এবং নিয়মিত মেজর লিগ সকার (এমএলএস), কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপ, গোল্ড কাপ ও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট পরিচালনা করে আসছেন। গত কয়েক বছরে বিশ্ব ফুটবলে অন্যতম নির্ভরযোগ্য রেফারি হিসেবেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি।
চলমান বিশ্বকাপে এলফাত এরই মধ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। নেদারল্যান্ডস-জাপান, উরুগুয়ে-স্পেন এবং ব্রাজিল-নরওয়ের ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এই তিন ম্যাচে তিনি মোট আটটি হলুদ কার্ড ও একটি লাল কার্ড দেখিয়েছেন। পাশাপাশি দুটি পেনাল্টির সিদ্ধান্তও দিয়েছেন। তার কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হলেও, সামগ্রিকভাবে বড় ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে তার অভিজ্ঞতার ওপরই আস্থা রেখেছে ফিফা।
আর্জেন্টিনার জন্য এলফাত একেবারে নতুন নন। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের ঐতিহাসিক ম্যাচে তিনি চতুর্থ রেফারির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সেই ফাইনালেই লিওনেল মেসির নেতৃত্বে দীর্ঘ ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছিল আর্জেন্টিনা। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে ইন্টার মায়ামির একাধিক ম্যাচ পরিচালনার সুবাদে লিওনেল মেসির খেলাও কাছ থেকে পরিচালনা করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। ২০২৩ সালের লিগস কাপ ফাইনালেও দায়িত্বে ছিলেন এলফাত।
রেফারিং ক্যারিয়ারের শুরুটা অবশ্য ফুটবলের সঙ্গে ছিল না। মাত্র ১৮ বছর বয়সে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্য মরক্কো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি। পরে ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচির মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন। পড়াশোনার পাশাপাশি রেফারিং শুরু করে ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্রের ঘরোয়া ফুটবল থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজের অবস্থান তৈরি করেন।
ফিফা ঘোষিত রেফারি প্যানেল অনুযায়ী, এলফাতকে সহায়তা করবেন যুক্তরাষ্ট্রের কোরি পার্কার ও কাইল অ্যাটকিন্স। চতুর্থ রেফারির দায়িত্বে থাকবেন ইতালির মাউরিজিও মারিয়ানি। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) টিমেও থাকছেন অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক কর্মকর্তারা।
বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত দুই ফুটবল শক্তি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের লড়াই ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। এমন ম্যাচে রেফারির প্রতিটি সিদ্ধান্তই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। ফলে কেবল দুই দলের খেলোয়াড়দের নয়, ইসমাইল এলফাতের দিকেও থাকবে পুরো ফুটবল বিশ্বের বিশেষ নজর। তার বাঁশিতেই নির্ধারিত হবে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ফাইনালিস্টের ভাগ্য।