মেসির জোড়া অ্যাসিস্টে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা

মেসির জোড়া অ্যাসিস্টে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও ইতিহাসের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেল আর্জেন্টিনা। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার দুর্দান্ত মানসিকতার আরেকটি উদাহরণ রেখে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে লিওনেল স্কালোনির দল। আটলান্টার মার্সিডিজ-বেনজ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে দুই গোলে সরাসরি অবদান রেখে জয়ের নায়ক ছিলেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।

আগামী রোববার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শিরোপার লড়াইয়ে স্পেনের মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিততে পারলে ইতালি (১৯৩৪ ও ১৯৩৮) এবং ব্রাজিলের (১৯৫৮ ও ১৯৬২) পর ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় দল হিসেবে এই কীর্তি গড়বে আর্জেন্টিনা।

 

সেমিফাইনালের প্রথমার্ধে দুই দলের লড়াই ছিল মূলত মাঝমাঠের দখল নিয়ে। ম্যাচজুড়ে শারীরিক ফুটবল, একের পর এক ফাউল এবং উত্তেজনাপূর্ণ দ্বৈরথের কারণে কোনো দলই পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। প্রথম ৪৫ মিনিটে কোনো দলই লক্ষ্যে শট রাখতে পারেনি।

 

বিরতির পর ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। ৫৫ মিনিটে মর্গান রজার্সের দারুণ ক্রস থেকে অ্যান্থনি গর্ডন গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন। পিছিয়ে পড়ার পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেও ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড দুর্দান্ত কয়েকটি সেভ করে দলকে এগিয়ে রাখেন। এছাড়া অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের দুটি প্রচেষ্টা পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

 

তবে শেষ পর্যন্ত চাপ সামলাতে পারেনি থ্রি লায়ন্সরা। ম্যাচের ৮৫ মিনিটে লিওনেল মেসির পাস থেকে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত শটে সমতা ফেরান এনজো ফার্নান্দেজ। এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে (৯০+২) আবারও মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে জয়সূচক গোল করেন বদলি হিসেবে নামা লাউতারো মার্তিনেজ। শেষ কয়েক মিনিটে দুই গোল করে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখে আলবিসেলেস্তেরা।

 

ম্যাচের শেষ দিকে ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল রক্ষণ শক্ত করতে একসঙ্গে চারজন সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার নিয়ে খেললেও আর্জেন্টিনার উইংভিত্তিক আক্রমণের সামনে সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি। বিশেষ করে মেসির নেতৃত্বে ডান প্রান্ত দিয়ে বারবার আক্রমণ চালিয়ে ইংলিশ রক্ষণে ফাঁক বের করে স্কালোনির শিষ্যরা।

 

অন্যদিকে সমতায় ফেরার পর আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগও ছিল দুর্দান্ত। শেষ দিকে ইংল্যান্ড কার্যকর কোনো আক্রমণই গড়ে তুলতে পারেনি। ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ এবং এমিলিয়ানো মার্তিনেজের সমন্বিত রক্ষণে আটকে যায় হ্যারি কেইনদের সব প্রচেষ্টা।

 

এটি ছিল লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ। গোল না পেলেও দুইটি অ্যাসিস্ট করে ম্যাচের সেরা পারফরমার ছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। পুরো ম্যাচে তিনি ৯টি সফল ড্রিবল সম্পন্ন করেন এবং দুইটি গোল তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করেন। নকআউট পর্বে এমন আধিপত্যপূর্ণ সৃজনশীল পারফরম্যান্স আবারও প্রমাণ করল, ৩৯ বছর বয়সেও তিনি দলের সবচেয়ে বড় ভরসা।

 

ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ স্পেন। সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে লা রোহা। ফলে আগামী রোববার বিশ্ব ফুটবল উপহার পেতে যাচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপিয়ান শক্তি স্পেনের মধ্যকার মহারণ।

 

অন্যদিকে ১৯৬৬ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ শিরোপার অপেক্ষা বাড়ল ইংল্যান্ডের। আর আর্জেন্টিনা এখন মাত্র এক ধাপ দূরে ইতিহাসের-টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিতে ফুটবলের অভিজাত ক্লাবে নাম লেখানোর স্বপ্ন পূরণের।


সম্পর্কিত নিউজ