আর্জেন্টিনার বিশেষ অনুরোধ রাখলো ফিফা, অ্যাওয়ে জার্সিতেই খেলবে সেমিফাইনাল

আর্জেন্টিনার বিশেষ অনুরোধ রাখলো ফিফা, অ্যাওয়ে জার্সিতেই খেলবে সেমিফাইনাল
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের আগে একটি বিশেষ অনুরোধ করেছিল আর্জেন্টিনা ফুটবল দল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তারা যেন নিজেদের ঐতিহ্যবাহী আকাশি-সাদা হোম জার্সির বদলে গাঢ় নীল অ্যাওয়ে জার্সি পরে খেলতে পারে- এমন আবেদন জানিয়েছিল ফিফার কাছে। শেষ পর্যন্ত সেই অনুরোধ মঞ্জুর করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ম্যাচটিকে ঘিরে দুই দলের সমর্থকদের পাশাপাশি ফুটবল বিশ্বেও তুমুল আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

 

আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের দ্বৈরথ বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এর সূচনা ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে, যখন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক আন্তোনিও র‍্যাটিনকে বিতর্কিতভাবে মাঠ থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর থেকে দুই দলের প্রতিটি বিশ্বকাপ লড়াইই আলাদা গুরুত্ব বহন করে এসেছে।

 

এ পর্যন্ত বিশ্বকাপে পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। এর মধ্যে ইংল্যান্ড জিতেছে তিনটি ম্যাচে, আর আর্জেন্টিনা জয় পেয়েছে দুটি ম্যাচে-১৯৮৬ ও ১৯৯৮ সালে। কাকতালীয়ভাবে, এই দুই জয়েই আর্জেন্টিনা খেলেছিল গাঢ় নীল অ্যাওয়ে জার্সি পরে।

 

বিশেষ করে ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ম্যাচ। সেই ম্যাচেই দিয়েগো ম্যারাডোনা করেন বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং পরবর্তীতে ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া অবিশ্বাস্য একক নৈপুণ্যের গোল। ওই ম্যাচে আর্জেন্টিনার গায়ে ছিল নীল জার্সি।

 

অন্যদিকে ১৯৬২, ১৯৬৬ ও ২০০২ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আকাশি-সাদা হোম জার্সি পরে খেলেছিল আর্জেন্টিনা, এবং তিনটি ম্যাচেই পরাজিত হয়েছিল আলবিসেলেস্তেরা। এই পরিসংখ্যানকে অনেক সমর্থক ও বিশ্লেষক ‘সৌভাগ্যের প্রতীক’ হিসেবে দেখছেন।

 

সেই বিশ্বাস থেকেই এবারও সেমিফাইনালে নীল অ্যাওয়ে জার্সি পরে মাঠে নামার অনুমতি চায় আর্জেন্টিনা। ফিফা সেই অনুরোধ গ্রহণ করায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক নীল জার্সিতেই খেলবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

 

অন্যদিকে ইংল্যান্ড নিজেদের ঐতিহ্যবাহী সাদা হোম জার্সিতেই মাঠে নামবে বলে জানা গেছে। দুই দলের এই লড়াইয়ের বিজয়ী আগামী বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে। ফলে শুধু ফাইনালে ওঠার লড়াই নয়, ইতিহাস, আবেগ এবং পুরনো স্মৃতির রোমাঞ্চও ঘিরে থাকবে এই বহুল প্রতীক্ষিত সেমিফাইনাল।

 

এখন দেখার বিষয়, অতীতে সৌভাগ্যের প্রতীক হয়ে ওঠা নীল জার্সি এবারও আর্জেন্টিনাকে ফাইনালের টিকিট এনে দিতে পারে কি না।


সম্পর্কিত নিউজ