সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ

সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলোর একটি আবারও ফিরছে বিশ্বকাপের মঞ্চে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বুধবার (১৬ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় আটলান্টার মার্সিডিজ-বেনজ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড।

১৯৮৬ সালের ‘হ্যান্ড অব গড’, ১৯৯৮ সালের উত্তেজনাপূর্ণ নকআউট এবং দুই দেশের দীর্ঘ ফুটবল ইতিহাসের কারণে ম্যাচটি ঘিরে আবেগের কমতি নেই। তবে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তার কাছে এটি কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ।

 

কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে হারানোর পর সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বলেন, ‘এটি একটি ফুটবল ম্যাচ, এর বেশি কিছু নয়। আমরা ইতিহাসকে সম্মান করি, কিন্তু মাঠে যা হবে, তা শুধুই ফুটবল। ইংল্যান্ড খুবই শক্তিশালী দল, তাদের একজন অসাধারণ কোচ আছেন। আমাদের নিজেদের খেলাটাই খেলতে হবে।’

 

স্কালোনির এমন মন্তব্য দুই দেশের ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার গুরুত্ব কমিয়ে দেয় না। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের পর ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং পরে করা ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড লড়াইকে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত দ্বৈরথগুলোর একটিতে পরিণত করে। এরপর ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে ডেভিড বেকহামের লাল কার্ড এবং টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার জয়, আবার ২০০২ সালে ডেভিড বেকহামের পেনাল্টিতে ইংল্যান্ডের ১-০ ব্যবধানের জয়-সব মিলিয়ে দুই দলের প্রতিটি বিশ্বকাপ সাক্ষাৎই ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে।

 

এবারও সেই ইতিহাস নতুন অধ্যায়ের অপেক্ষায়। তবে স্কালোনি চান তার খেলোয়াড়রা যেন অতীতের আবেগ নয়, বর্তমানের বাস্তবতায় মনোযোগ দেয়।

 

চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচ জিতলেও নকআউটে কেপ ভার্দে, মিসর এবং কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কঠিন লড়াই করতে হয়েছে। বিশেষ করে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে হুলিয়ান আলভারেজের দুর্দান্ত গোল এবং পরে লাউতারো মার্টিনেজের গোলেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তেরা।

 

পুরো টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্সে ওঠানামা থাকলেও লিওনেল মেসি আবারও দলের সবচেয়ে বড় ভরসা। আট গোল করে তিনি বর্তমানে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে রয়েছেন। তবে স্কালোনি বারবার জোর দিচ্ছেন দলীয় পারফরম্যান্সের ওপর। তার মতে, বড় ম্যাচ জিততে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের পাশাপাশি পুরো দলের ভারসাম্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

 

ইংল্যান্ডকে নিয়েও যথেষ্ট সতর্ক আর্জেন্টাইন কোচ। থমাস টুখেলের অধীনে থ্রি লায়ন্সরা টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক ফুটবল খেলছে। কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে অতিরিক্ত সময়ে হারিয়ে শেষ চারে উঠেছে তারা। স্কালোনি মনে করেন, ইংল্যান্ডের শক্তিশালী মাঝমাঠ, দ্রুতগতির উইঙ্গার এবং হ্যারি কেইনের অভিজ্ঞতা আর্জেন্টিনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

 

এদিকে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, স্কালোনি ম্যাচের আগে একাধিক কৌশল নিয়ে কাজ করেছেন। সর্বশেষ অনুশীলনে তিনি তিন সেন্টার-ব্যাকের একটি ফর্মেশনও পরীক্ষা করেছেন। নিকোলাস ওতামেন্দিকে রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্টিনেজের সঙ্গে খেলানোর সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত প্রচলিত চার ডিফেন্ডারের ফর্মেশনেই মাঠে নামার সম্ভাবনাই বেশি।

 

সম্ভাব্য একাদশে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলেই মনে করা হচ্ছে। এমিলিয়ানো মার্টিনেজের সামনে রক্ষণে থাকতে পারেন নাহুয়েল মোলিনা, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও নিকোলাস তাগলিয়াফিকো। মাঝমাঠে রদ্রিগো ডি পলকে নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকলেও লিয়ান্দ্রো পারেদেস, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও এনজো ফার্নান্দেজের খেলার সম্ভাবনা বেশি। আক্রমণে থাকবেন লিওনেল মেসি ও হুলিয়ান আলভারেজ।

 

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ষষ্ঠ মুখোমুখি লড়াই। আগের পাঁচ সাক্ষাতে ইংল্যান্ড জিতেছে তিনবার, আর্জেন্টিনা দুবার। তবে নকআউট পর্বের স্মৃতিতে এগিয়ে আছে আলবিসেলেস্তেরা। আর সেই ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখতেই এবার আবারও বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ফুটবল বিশ্বের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী।


সম্পর্কিত নিউজ