{{ news.section.title }}
শৈশব থেকেই এমন এক গোলের স্বপ্ন দেখতাম: লাউতারো মার্তিনেস
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে শেষ মুহূর্তের সেই নাটকীয় জয়ের পর উৎসবে মেতে ওঠেন লিওনেল মেসি ও তার সতীর্থরা। তবে উচ্ছ্বাসের মধ্যেও সবচেয়ে আবেগঘন দৃশ্যের জন্ম দেন জয়সূচক গোলের নায়ক লাউতারো মার্তিনেস।
ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম TyC Sports-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আবেগ সামলাতে পারেননি ইন্টার মিলানের এই স্ট্রাইকার। চোখের পানি মুছতে মুছতেই তিনি বলেন, দেশের জার্সিতে এমন একটি মুহূর্তের স্বপ্ন তিনি ছোটবেলা থেকেই দেখে এসেছেন।
লাউতারো বলেন, ‘সত্যি বলতে এই অনুভূতিটা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। বাবা যখন প্রথম আমার জন্য এক জোড়া ফুটবল বুট কিনে দিয়েছিলেন, তখন থেকেই আমি স্বপ্ন দেখতাম দেশের হয়ে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ গোল করার।’
এরপর মায়ের প্রসঙ্গ উঠতেই আরও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তটা আমি আমার মাকে উৎসর্গ করছি। যেদিন আমি রেসিং ক্লাবে যোগ দিতে বাড়ি ছেড়েছিলাম, সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত তিনি আমার ঘরের বিছানাটা আগের মতোই গুছিয়ে রাখেন। আমার কাছে মায়ের সেই ভালোবাসার মূল্য যেকোনো গোল কিংবা বিশ্বকাপের ফাইনালের চেয়েও বড়।’
চলতি বিশ্বকাপে লাউতারোর এটি তৃতীয় গোল। এর আগে গ্রুপ পর্বে জর্ডানের বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে এবং কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে গোল করে দলকে সেমিফাইনালে তুলেছিলেন তিনি। এবার সেমিফাইনালেও বদলি হিসেবে নেমে যোগ করা সময়ে জয়সূচক গোল করে আবারও আর্জেন্টিনার ত্রাতা হয়ে উঠলেন।
নিজের ব্যক্তিগত পরিবর্তনের কথাও তুলে ধরেন মার্তিনেস। তিনি বলেন, ‘আমার দুই সন্তান আমার জীবনটাই বদলে দিয়েছে। ওরা আসার পর আমি অনেক শান্ত হয়েছি। এখন প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে শিখেছি। আজ আমি অনেক বেশি পরিণত একজন মানুষ।’
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা শিরোপা জিতলেও পুরো আসরে গোলের দেখা পাননি লাউতারো। চোট ও ফর্মহীনতার কারণে সে সময় সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছিল তাকে। তাই ২০২৬ বিশ্বকাপকে নিজের জন্য নতুনভাবে নিজেকে প্রমাণ করার মঞ্চ হিসেবে দেখছিলেন তিনি।
সেই লক্ষ্য পূরণের পথে এখন পর্যন্ত সফলও এই স্ট্রাইকার। নকআউট পর্বের টানা দুই ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ গোল করে দলের ফাইনালে ওঠার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া বিশ্লেষকরাও বলছেন, টুর্নামেন্টের সবচেয়ে কার্যকর ‘ইমপ্যাক্ট সাব’ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন লাউতারো মার্তিনেস।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ৮৫ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের সমতাসূচক গোলের পর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে লিওনেল মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে জয়সূচক গোল করেন লাউতারো। সেই গোলেই ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
আগামী রোববার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি ধরে রাখার লক্ষ্যে নামবে লিওনেল স্কালোনির দল, আর সেই মিশনে আবারও বড় ভরসা হয়ে থাকবেন আবেগঘন এক গল্পের নায়ক লাউতারো মার্তিনেস।