শিবির নেতা মোর্তোজাকে গুমের অভিযোগ, কেন পিছিয়ে গেল তদন্ত প্রতিবেদন?

শিবির নেতা মোর্তোজাকে গুমের অভিযোগ, কেন পিছিয়ে গেল তদন্ত প্রতিবেদন?
ছবির ক্যাপশান, শিবির নেতা মোর্তোজাকে গুমের অভিযোগ, কেন পিছিয়ে গেল তদন্ত প্রতিবেদন?

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের এক নেতাকে গুমের অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৭ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মামলাটিতে চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক চেয়ারম্যান ও রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মোহাম্মদ সোহায়েল একমাত্র আসামি হিসেবে রয়েছেন।

বুধবার (১০ জুন) ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। এদিন মামলার অগ্রগতি নিয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

 

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার শাইখ মাহদী। তিনি আদালতকে জানান, তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে আরও সময় প্রয়োজন। এ কারণে তিনি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য অতিরিক্ত তিন মাস সময় প্রার্থনা করেন।

 

প্রসিকিউশনের আবেদন বিবেচনা করে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করেন এবং আগামী ৭ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। এর ফলে মামলার পরবর্তী অগ্রগতি এখন তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করবে।

 

মামলার নথি অনুযায়ী, অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের তৎকালীন নেতা গোলাম মোর্তোজা। প্রসিকিউশনের দাবি, ২০১২ সালে রাজধানীর ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর এলাকা থেকে তাকে তুলে নিয়ে যায় র‌্যাবের সদস্যরা।

 

প্রসিকিউশনের তথ্যমতে, আটক করার পর গোলাম মোর্তোজাকে ৪৭ দিন পর্যন্ত গোপন বন্দিশালায় বা কথিত ‘আয়নাঘরে’ আটকে রাখা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, সে সময় র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন মোহাম্মদ সোহায়েল এবং তার নির্দেশেই ওই গুমের ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল।

 

এই অভিযোগের ভিত্তিতেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি বর্তমানে তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং তদন্ত সংস্থা অভিযোগের বিভিন্ন দিক যাচাই-বাছাই করছে।

 

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মোহাম্মদ সোহায়েলকে নৌবাহিনী থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে আনা বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন বলে আদালতে জানানো হয়েছে।

 

মামলাটি রাজনৈতিক ও মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে গুম, গোপন আটক এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দেশে ও আন্তর্জাতিক পরিসরে আলোচনা রয়েছে।

 

এদিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এখন মামলার পরবর্তী ধাপের দিকে নজর রাখছে। তদন্ত প্রতিবেদনে কী তথ্য উঠে আসে এবং প্রসিকিউশন কী ধরনের অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করে, তা মামলার ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
 


সম্পর্কিত নিউজ