শিক্ষক মূল্যায়নে অনলাইন ফিডব্যাক বাধ্যতামূলক করল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষক মূল্যায়নে অনলাইন ফিডব্যাক বাধ্যতামূলক করল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
ছবির ক্যাপশান, শিক্ষক মূল্যায়নে অনলাইন ফিডব্যাক বাধ্যতামূলক করল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষকদের পাঠদান, ক্লাস পরিচালনা ও পরীক্ষা পদ্ধতির মান যাচাই-বাছাইয়ে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু করা হয়েছে “শিক্ষক পাঠ মূল্যায়ন পদ্ধতি”।

নতুন এই পদ্ধতি অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রতিটি পরীক্ষার পর শিক্ষার্থীদের অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষক মূল্যায়নসংক্রান্ত ফিডব্যাক প্রদান করতে হবে। নির্ধারিত এ ফিডব্যাক জমা না দিলে সংশ্লিষ্ট বিভাগের ফলাফল প্রকাশ করা হবে না বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক।

 

তবে, এ পদ্ধতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের পূর্ববর্তী সেশনগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। পদ্ধতিটি শুধু ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ এবং পরবর্তী সেশনগুলোর জন্য কার্যকর হবে।

 

নতুন এই শিক্ষক মুল্যায়ন পদ্ধতি প্রণয়নের ফলে শিক্ষার্থীদের মাঝেও আগ্রহ বেড়েছে। এ বিষয়ে  ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী তালহা তামিম বলেন, 'রাবি প্রশাসনের শিক্ষার্থীদের থেকে ফিডব্যাক নেওয়ার বিষয়টি বেশ ইতিবাচক ও সময়োপযোগী বলে মনে করছি। এতে শিক্ষার্থীরা  নিজেদের অভিজ্ঞতা সরাসরি জানাতে পারছে, যা আগে সম্ভব হতো না বললেই চলে। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি মনে করি ফিডব্যাক নেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসন মহলে এর সুষ্ঠু তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরী যাতে শিক্ষকদের দায়িত্ববোধ আরো বৃদ্ধি পায় সেই সাথে ফিডব্যাক যেন নিরপেক্ষ ও গোপনীয় থাকে তা  নিশ্চিত করতে হবে।'

 

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মো. হাসনাত কবীর বলেন, 'আমরা শিক্ষকদের পাঠ মুল্যায়ন পদ্ধতি চালু করেছি। এখানে একটা কন্ডিশন দেয়া হয়েছে শিক্ষার্থীদের। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে গিয়ে স্ব স্ব  আইডি লগইন করে এ কাজ গুলো করবে। প্রত্যেক বিভাগের শিক্ষার্থীকেই এটা করতে হবে। আমরা ২০২৪-২০২৫ এর ১ম সেমিস্টার থেকে এ পদ্ধতি শুরু করেছি। এ পদ্ধতিতে ছাত্ররা শিক্ষকদের পাঠ মুল্যায়ন করতে পারতেছে।'

 

তিনি আরও বলেন, 'একজন শিক্ষকের কতটুকু ক্লাস নেয়া দরকার ছিলো, কতটুকু নিচ্ছে, ক্লাসে সময়মতো উপস্থিত হচ্ছে কিনা শিক্ষকদের লেকচার মেটারিয়াল কেমন, পড়ানোর ধরন কেমন এইসব বিষয়ে মুল্যায়ন করতে পারবে। কাজেই, শিক্ষার্থীরা এর মাধ্যমে অনেক উপকৃত হবে, পাশাপাশি যদি কোনো জায়গায় দূর্বলতা থাকে সেটাও কাটিয়ে উঠতে পারবে।'


 
প্রসঙ্গত, বিগত সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একাংশের বিরুদ্ধে রুটিন অনুযায়ী ক্লাস না নেওয়া, অপ্রাসঙ্গিক গল্প করা, কোর্স শেষ না করা, নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষা ও রেজাল্ট না দেওয়াসহ নানা অভিযোগ উঠেছে  শিক্ষার্থীদের মাঝে। ফলে বিভাগগুলোতে তীব্র সেশনজটসহ বিভিন্ন একাডেমিক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এসকল সমস্যার সমাধানে শিক্ষকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিতের জন্য পাঠদান মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একাংশ।

 


সম্পর্কিত নিউজ