{{ news.section.title }}
রাবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিনস্ অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৩ শিক্ষক ও ১০ শিক্ষার্থী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ৪০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ডিনস্ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে। এতে অনুষদের ১০টি বিভাগের ১০ জন শিক্ষার্থী এবং ৩টি ক্যাটাগরিতে ৩ জন শিক্ষককে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে এ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। এবার ‘সেরা গবেষক’, ‘সেরা প্রবন্ধ’, ‘সেরা গ্রন্থ’ ও ‘সেরা শিক্ষার্থী’- এই চারটি ক্যাটাগরিতে অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত বিভাগসমূহের শিক্ষকবৃন্দের প্রকাশনা ও গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অবদান এবং ২০২৩ সালের বিএসএস (সম্মান) পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রথমবারের মতো ডীনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে।
এতে সেরা প্রবন্ধ ক্যাটাগরিতে ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আরমান হোসেন, সেরা গ্রন্থকার ক্যাটাগরিতে অধ্যাপক ড. মো. আওয়াল হোসেন মোল্লা এবং সেরা গবেষক ক্যাটাগরিতে লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. প্রণব কুমার পান্ডে ডীনস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন।
সেরা শিক্ষার্থী ক্যাটাগরিতে অনুষদের ১০টি বিভাগের সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জনকারী ১০ জন শিক্ষার্থীকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। এতে অর্থনীতি বিভাগের নাফিসা ইয়াসমিন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বর্ষা রাণী মন্ডল, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সানজিদা ফারজানা, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের রিফাহ রাফিয়া বারী, ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের রাজিয়া সুলতানা পারুল, লোক প্রশাসন বিভাগের মমতাজ ফারজানা থিথি, নৃবিজ্ঞান বিভাগের জান্নাতুল মাওয়া শিন, ফোকলোর অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের তৃষা দাশ, সমাজকর্ম বিভাগের অন্তরা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের আশরাফুল খান ফয়সাল পুরস্কার পেয়েছেন।
অনুভূতি জানতে চাইলে ডীনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী বর্ষা রাণী মন্ডল বলেন, আজকের এই অর্জনের জন্য সর্বপ্রথম আমি আমার সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। পাশাপাশি আমার পরিবার ও বন্ধুদের প্রতিও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। ডীনস অ্যাওয়ার্ড অর্জনের এই পথচলা মোটেও সহজ ছিল না; এটি ছিল দীর্ঘ ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ একটি যাত্রা। দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিত পড়াশোনা করা এবং ধৈর্য ধরে এগিয়ে যাওয়াই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. মোহা. ফরিদ উদ্দীন খান বলেন, তোমরা সত্যিই অনেক সৌভাগ্যবান যে বড় একটি সম্মাননা পেয়েছ। তোমাদের মেধাকে মূল্যায়ন করতে পেরে আমরাও অত্যন্ত আনন্দিত। মেধার অন্যতম ভিত্তি হলো পরিশ্রম। মনে রাখতে হবে, সাফল্যের পেছনে অনেকের অবদান থাকে, তবে পরিশ্রমটা সম্পূর্ণ তোমাদের নিজের। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের যে পরম্পরা, তা তোমরা ধরে রেখেছ, এটাই আমাদের গর্ব।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিনরা, যারা এই অনুষদকে গৌরবের সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে এসেছেন, তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। প্রত্যেক বিভাগের সভাপতি, বিভিন্ন কমিটির সদস্য, ডিনস অফিসের স্টাফসহ এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত সবাইকে আমি ধন্যবাদ জানাই।
আজকের দিনটি সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের জন্য একটি স্মরণীয় দিন বলে মন্তব্য করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আমি প্রথম কোনো ডীনস অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পেরেছি- এ কারণে আজকের দিনটি আমার জন্যও বিশেষ। আমার মনে হয়, যারা অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন, তাদের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেল। সমাজে তাদের জ্ঞানের সঠিক ব্যবহার করা উচিত। আমি আশা করি, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডীনস অ্যাওয়ার্ডের এই যাত্রা যেন অব্যাহত থাকে। আগামী দিনগুলোতে এমন আয়োজনের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা থাকবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহা. মাঈন উদ্দীন এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম। উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহা. ফরিদ উদ্দীন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের সভাপতি, শিক্ষকবৃন্দসহ প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।