আবারও অগ্নিকাণ্ডে রুয়েটের হল, পুড়ে ছাই ল্যাপটপসহ বিভিন্ন সামগ্রী

আবারও অগ্নিকাণ্ডে রুয়েটের হল, পুড়ে ছাই ল্যাপটপসহ বিভিন্ন সামগ্রী
ছবির ক্যাপশান, ছবি: জাগরণ

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক হলের একটি কক্ষে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দিবাগত রাতে হলের ৫২৫ নম্বর কক্ষে আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে একটি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র পুড়ে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।

ওই কক্ষের বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফাহিম হাসান রনক জানান, “রাত প্রায় ১টার দিকে আমার এক নিকটাত্মীয় অসুস্থ হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। তাকে দেখতে আমি ও আমার দুই রুমমেট বাইরে যাই। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ফিরে এসে দেখি আমাদের রুমে আগুন জ্বলছে, আর আমার ল্যাপটপটি পুরোপুরি পুড়ে গেছে।”

 

তিনি আরও বলেন, “এই ঘটনায় ল্যাপটপসহ অন্যান্য সামগ্রী হারিয়ে আমার প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।” প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সহপাঠীরা মিলে প্রায় ৪ থেকে ৫টি অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

 

ঘটনার বিষয়ে হলের সহকারী প্রভোস্ট ও সহকারী ছাত্রকল্যাণ পরিচালক আবু ইসমাইল সিদ্দিকী বলেন, “সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। শিক্ষার্থীদের দ্রুত উদ্যোগের কারণে বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো গেছে।”

 

উল্লেখ্য, এর আগে গত ৮ মার্চ শহীদ শহীদুল ইসলাম হলে এবং ২৬ এপ্রিল হামিদুল ইসলাম হলে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। টানা তিন মাসে রুয়েটের বিভিন্ন হলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ভবিষ্যতে হলে বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

 

এদিকে শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত নিরাপত্তা অডিট ও বৈদ্যুতিক লাইনের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন। তারা আরও বলেন, হলে জরুরি অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা, সতর্কতা সাইন এবং নিয়মিত ড্রিল চালু করা না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকে যাবে।

 

ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা করছে, যাতে তারা দ্রুত পুনরায় স্বাভাবিক পড়াশোনায় ফিরতে পারেন ভবিষ্যতে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখবে। রিপোর্ট দেবে।


সম্পর্কিত নিউজ