{{ news.section.title }}
যে ভুলের কারণে ৪০ দিন শয্যাশায়ী ছিলেন রাকুল প্রীত
দক্ষিণী ও বলিউড সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাকুল প্রীত সিং বরাবরই ফিটনেস সচেতন তারকাদের মধ্যে অন্যতম। নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং সক্রিয় জীবনযাপনের কারণে ভক্তদের কাছেও তিনি অনুপ্রেরণার নাম। তবে দীর্ঘদিনের ফিটনেস অভ্যাস ও অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও একটি ছোট ভুল যে কত বড় বিপদের কারণ হতে পারে, সম্প্রতি সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথাই প্রকাশ করেছেন এই অভিনেত্রী।
সম্প্রতি একটি চ্যাট শোতে অংশ নিয়ে রাকুল প্রীত সিং জানান, জিমে ডেডলিফট করার সময় নিরাপত্তা বেল্ট ব্যবহার না করায় গুরুতর কোমরের চোটে পড়তে হয়েছিল তাকে। ৮০ কেজি ওজন তোলার সময় ঘটে যাওয়া সেই দুর্ঘটনার কারণে প্রায় ৪০ দিন তাকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হয়েছিল।
একটি ভুলেই বদলে যায় পরিস্থিতি
রাকুল বলেন, তিনি সাধারণত ভারী ওজন তোলার সময় নিরাপত্তা বেল্ট ব্যবহার করতেন। কিন্তু দুর্ঘটনার দিন কোনো কারণে সেটি ব্যবহার করেননি। আর সেই একটি সিদ্ধান্তই তার জীবনে বড় ধরনের শারীরিক ও মানসিক ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অভিনেত্রীর ভাষায়, ওই সময় তার স্লিপড ডিস্কের সমস্যা দেখা দেয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে দীর্ঘ সময় সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হয়। একজন সক্রিয় জীবনযাপনে অভ্যস্ত মানুষের জন্য এই সময়টা ছিল অত্যন্ত কঠিন।
রাকুল বলেন, হঠাৎ করেই তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা, ব্যায়াম কিংবা দৈনন্দিন কাজ করতে পারছিলেন না। শারীরিক ব্যথার পাশাপাশি মানসিকভাবেও তিনি ভেঙে পড়েছিলেন।
ব্যথা নিয়েও কাজ চালিয়ে গিয়েছিলেন
বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, চোট পাওয়ার পরও শুরুতে রাকুল ব্যথানাশক ও পেশি শিথিলকারী ওষুধের সাহায্যে কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে ধীরে ধীরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাকে সম্পূর্ণ বিশ্রামের পরামর্শ দেন। জানা যায়, কোমরের নিচের অংশে আঘাতের পাশাপাশি তার স্নায়ুতন্ত্রেও চাপ সৃষ্টি হয়েছিল। ফলে দীর্ঘ সময় তাকে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থাকতে হয়।
মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন অভিনেত্রী
রাকুল প্রীত সিং জানান, শারীরিক কষ্টের চেয়েও মানসিক চাপ তাকে বেশি ভুগিয়েছে। দীর্ঘদিন বিছানায় শুয়ে থাকা, নিয়মিত শরীরচর্চা থেকে দূরে থাকা এবং কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। অভিনেত্রীর মতে, যারা সব সময় সক্রিয় থাকেন, তাদের জন্য দীর্ঘ সময় শয্যাশায়ী জীবন অত্যন্ত কঠিন। বিশেষ করে একজন অভিনয়শিল্পীর জন্য নিয়মিত কাজ, শুটিং এবং ফিটনেস রুটিন থেকে দূরে থাকা সহজ নয়।
কঠিন সময়ে পাশে ছিলেন জ্যাকি ভগ্নানি
এই কঠিন সময়ে স্বামী জ্যাকি ভগ্নানির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন রাকুল। তিনি জানান, শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত সময়ে জ্যাকি সব সময় তার পাশে ছিলেন এবং তাকে সাহস জুগিয়েছেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর বিয়ে করেন রাকুল প্রীত সিং ও বলিউড প্রযোজক-অভিনেতা জ্যাকি ভগ্নানি। বিয়ের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একসঙ্গে বিভিন্ন মুহূর্ত ভাগাভাগি করতে দেখা যায় এই দম্পতিকে।
রাকুলের ভাষায়, পরিবারের সমর্থন এবং স্বামীর সহযোগিতাই তাকে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
ফিটনেস সচেতনতার জন্য পরিচিত রাকুল
বলিউড ও দক্ষিণী সিনেমা অঙ্গনে রাকুল প্রীত সিং দীর্ঘদিন ধরেই ফিটনেস আইকন হিসেবে পরিচিত। তিনি নিয়মিত জিম করেন, যোগব্যায়াম করেন এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রায়ই নিজের ওয়ার্কআউট ভিডিও ও ফিটনেস টিপস শেয়ার করেন অভিনেত্রী। অনেক তরুণ-তরুণীর কাছেও তিনি অনুপ্রেরণার উৎস।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত শরীরচর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও ভারী ওজন তোলার ক্ষেত্রে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনুসরণ করা জরুরি। প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধান ছাড়া অতিরিক্ত ওজন তোলা অনেক সময় গুরুতর আঘাতের কারণ হতে পারে।
ক্যারিয়ারে প্রতিষ্ঠিত এক অভিনেত্রী
রাকুল প্রীত সিং মূলত তেলেগু ও তামিল সিনেমার মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। পরে বলিউডেও নিজের অবস্থান শক্ত করেন। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘দে দে পেয়ার দে’, ‘রানওয়ে ৩৪’, ‘ডক্টর জি’, ‘থ্যাংক গড’ এবং ‘ছত্রিওয়ালি’।
দক্ষিণী সিনেমাতেও তিনি দীর্ঘ সময় ধরে সফলভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি ফিটনেস, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং ইতিবাচক মানসিকতার জন্যও তিনি ব্যাপক পরিচিত।
নতুন সিনেমা নিয়ে ব্যস্ত রাকুল
সম্প্রতি রাকুল প্রীত সিং অভিনীত রোমান্টিক কমেডি সিনেমা ‘পতি পত্নি অউর ও দো’ মুক্তি পেয়েছে। সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের মধ্যেও আগ্রহ দেখা গেছে। শারীরিক সমস্যার সময় পেরিয়ে এখন আবার ধীরে ধীরে কাজে ফিরছেন অভিনেত্রী। তবে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি সবাইকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে চান- ফিটনেসের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস কিংবা সামান্য অসাবধানতাও বড় ধরনের বিপদের কারণ হতে পারে।
তার মতে, শরীরচর্চা অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু নিরাপত্তা নিয়ম মেনে চলাটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একটি ছোট ভুল কখনও কখনও দীর্ঘ সময়ের শারীরিক ও মানসিক ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।