{{ news.section.title }}
আপনার কি উচ্চ রক্তচাপ? জেনে নিন নিয়ন্ত্রণে ৭টি সহজ উপায়
উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন নিয়ন্ত্রণে রাখা হার্টের সুস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি। জীবনযাত্রায় সামান্য কিছু পরিবর্তন এনে আপনি ওষুধ ছাড়াই রক্তচাপ অনেকলাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন।
উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন নিয়ন্ত্রণে রাখার ৭টি সহজ ও কার্যকর ঘরোয়া উপায় নিচে আলোচনা করা হলো:
লবণ খাওয়া কমান: খাবারে অতিরিক্ত সোডিয়াম রক্তনালীতে পানির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। দৈনিক লবণের পরিমাণ ১ চা চামচ বা তার কম রাখুন। কাঁচা লবণ এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার পুরোপুরি পরিহার করুন।
পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খান: পটাশিয়াম শরীর থেকে অতিরিক্ত সোডিয়াম বের করতে সাহায্য করে এবং রক্তনালীর ওপর চাপ কমায়। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কলা, ডাব, টমেটো, মিষ্টি আলু ও সবুজ শাকসবজি রাখুন।
নিয়মিত হাঁটাহাঁটি ও ব্যায়াম: অলস জীবনযাপন রক্তচাপ বাড়ায়। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা, সাঁতার কাটা বা সাইকেল চালানোর মতো হালকা অ্যারোবিক ব্যায়াম করুন। এটি হৃদপিণ্ডকে শক্তিশালী করে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন: শরীরের বাড়তি ওজন রক্তচাপের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিএমআই (BMI) অনুযায়ী আদর্শ ওজন বজায় রাখলে রক্তচাপ স্বাভাবিক মাত্রায় নেমে আসে।
মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা দূর করুন: অতিরিক্ত মানসিক চাপ হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে রক্তনালী সংকুচিত করে। চাপ কমাতে প্রতিদিন গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম (Deep Breathing), ইয়োগা অথবা পছন্দের গান শুনুন।
ধূমপান ও অতিরিক্ত ক্যাফেইন বর্জন: ধূমপানের ক্ষতিকর উপাদান রক্তনালীর দেয়াল শক্ত করে ফেলে। চা, কফি বা অতিরিক্ত ক্যাফেইন রক্তচাপ সাময়িকভাবে বাড়িয়ে দেয়। তাই এসব অভ্যাস দ্রুত ত্যাগ করা জরুরি।
পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্ন ঘুম: রাতে ভালো ঘুম না হলে শরীরের স্বাভাবিক মেটাবলিজম ব্যাহত হয়। প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত সহায়ক।
উচ্চ রক্তচাপ কমানোর ব্যায়াম
উচ্চ রক্তচাপ (হাইপারটেনশন) নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং হৃদপিণ্ডের কার্যক্ষমতা বাড়াতে নির্দিষ্ট কিছু ব্যায়াম অত্যন্ত কার্যকরী। রক্তচাপ কমানোর জন্য ৫টি সেরা ব্যায়ামের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
দ্রুত হাঁটা (Brisk Walking): এটি সবচেয়ে সহজ এবং নিরাপদ ব্যায়াম। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট এমন গতিতে হাঁটুন যেন শরীর হালকা ঘামে এবং হৃদস্পন্দন কিছুটা বাড়ে।
সাইকেল চালানো (Cycling): ঘরের বাইরে বা জিমনেশিয়ামে স্ট্যাটিক সাইকেল চালানো যেতে পারে। এটি পায়ের মাংসপেশির ব্যায়ামের পাশাপাশি হৃদপিণ্ডের পাম্প করার ক্ষমতা বাড়ায়।
সাঁতার কাটা (Swimming): পুরো শরীরের মাংসপেশিকে সচল রাখার জন্য সাঁতার একটি চমৎকার অ্যারোবিক ব্যায়াম। এটি রক্তনালীর নমনীয়তা বাড়াতে সাহায্য করে।
যোগব্যায়াম ও প্রাণায়াম (Yoga & Pranayama): মানসিক চাপ রক্তচাপ বাড়ানোর অন্যতম প্রধান কারণ। 'অনু Lom-বিলম' বা 'ভ্রমরী প্রাণায়াম' এবং পদ্মাসনের মতো যোগব্যায়াম শরীরের স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে রক্তচাপ কমায়।
হালকা ফ্রি-হ্যান্ড ব্যায়াম (Light Aerobics): হালকা স্ট্রেচিং, ওঠ-বস বা ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
ব্যায়াম করার সময় সতর্কতাসমূহ:
ভারী ওজন তোলা (Weight Lifting) বা অতিরিক্ত পরিশ্রমের ব্যায়াম চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া করবেন না।
ব্যায়াম শুরু করার আগে এবং শেষে অন্তত ৫ মিনিট ওয়ার্ম-আপ ও কুল-ডাউন করুন।
ব্যায়ামের সময় বুক ধড়ফড় করা, মাথা ঘোরা বা বুকে ব্যথা হলে সাথে সাথে ব্যায়াম বন্ধ করুন।
জীবনযাত্রার এই পরিবর্তনগুলো উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। তবে রক্তচাপের মাত্রা তীব্র হলে চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়মিত ওষুধ সেবন করা বাধ্যতামূলক।