লো প্রেশার কেন হয় ? জেনে নিন প্রতিকার

লো প্রেশার কেন হয় ? জেনে নিন প্রতিকার
ছবির ক্যাপশান, লো প্রেশার কেন হয় ? জেনে নিন প্রতিকার

রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যাওয়া বা লো ব্লাড প্রেসার (হাইপোটেনশন) হলে সাধারণত মাথা ঘোরা, দুর্বলতা এবং ঝাপসা দৃষ্টির মতো উপসর্গ দেখা দেয়। চিকিৎসকদের মতে, রক্তচাপ ৯০/৬০ মিমিএইচজি-র নিচে নেমে গেলে তাকে লো প্রেসার হিসেবে গণ্য করা হয়।

প্রেসার লো বা নিম্ন রক্তচাপ (৯০/৬০ mmHg-এর নিচে) হলে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, চোখে অন্ধকার দেখা, জ্ঞান হারানো, বমি বমি ভাব এবং দ্রুত হৃৎস্পন্দন হতে পারে। তাৎক্ষণিক করণীয় হলো রোগীকে শুইয়ে দিয়ে পা উঁচু করে রাখা, লবণ-চিনির স্যালাইন বা ডাবের পানি পান করানো। প্রতিরোধে প্রচুর পানি পান, সুষম খাবার গ্রহণ, হঠাৎ না ওঠা এবং দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে না থাকা প্রয়োজন। 

লো প্রেসারের সাধারণ লক্ষণসমূহ

রক্তচাপ কমে গেলে শরীরে অক্সিজেনের সরবরাহ হ্রাস পায়, যার ফলে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে: 

  • মাথা ঘোরা ও ভারসাম্যহীনতা: বসা বা শোয়া থেকে হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে মাথা হালকা বোধ করা বা ঘুরে ওঠা।

  • চরম ক্লান্তি ও দুর্বলতা: শরীর খুব ক্লান্ত লাগা এবং কোনো কাজে শক্তি না পাওয়া।

  • ঝাপসা দৃষ্টি: চোখের সামনে অন্ধকার দেখা বা দৃষ্টি ঘোলাটে হয়ে যাওয়া।

  • বমি বমি ভাব: পাকস্থলীতে অস্বস্তি বোধ করা।

  • মনোযোগের অভাব: কাজে মনোযোগ দিতে সমস্যা হওয়া বা বিভ্রান্তি অনুভব করা।

  • ঠান্ডা ও আঠালো ত্বক: হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া এবং ফ্যাকাশে দেখাবে।

  • অজ্ঞান হয়ে যাওয়া: মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বেশি কমে গেলে জ্ঞান হারানোর ঝুঁকি থাকে।

প্রেসার লো হলে তাৎক্ষণিক করণীয়

হঠাৎ প্রেসার কমে গেলে নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা উচিত:

  • খাবার স্যালাইন পান: দ্রুত রক্তচাপ বাড়াতে এক গ্লাস খাবার স্যালাইন সবচেয়ে কার্যকর।

  • লবণ-চিনির শরবত: স্যালাইন না থাকলে এক গ্লাস পানিতে লবণ ও চিনি মিশিয়ে খেতে পারেন。

  • পা উঁচু করে শোয়া: রোগীকে সমতল স্থানে শুইয়ে পা দুটি বালিশ দিয়ে উঁচু করে দিতে হবে, যাতে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে。

  • কফি বা চা: ক্যাফেইন সমৃদ্ধ পানীয় সাময়িকভাবে রক্তচাপ বাড়াতে সাহায্য করে।

  • লবণাক্ত খাবার: বিস্কুট, বাদাম বা লবনাক্ত হালকা খাবার খাওয়া যেতে পারে।

প্রতিরোধের উপায় ও জীবনযাত্রা 

দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকতে নিচের অভ্যাসগুলো গড়ে তোলা প্রয়োজন: 

  • পর্যাপ্ত পানি পান: দিনে অন্তত ২-৩ লিটার পানি পান করুন যাতে পানিশূন্যতা না হয়।

  • ধীরে উঠা-বসা: শোয়া বা বসা থেকে হঠাৎ করে না উঠে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ান।

  • অল্প অল্প করে বারবার খাওয়া: একবারে অনেক না খেয়ে বারবার অল্প পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার খান।

  • পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম: প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম নিশ্চিত করুন।

  • অতিরিক্ত গরম এড়িয়ে চলা: দীর্ঘক্ষণ রোদে বা গরম পরিবেশে থাকা থেকে বিরত থাকুন。

  • নিয়মিত হালকা ব্যায়াম: হাঁটা বা হালকা ফ্রি-হ্যান্ড ব্যায়াম রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে।

লো প্রেসারের সাথে যদি তীব্র বুক ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা প্রচণ্ড মাথাব্যথা থাকে, তবে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?

যদি প্রেশার লো হওয়ার সাথে সাথে তীব্র মাথা ব্যথা, বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা বারবার ঘটে, তবে অবশ্যই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

লেখক: হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞ


সম্পর্কিত নিউজ