হুট করে পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যাওয়ার কী মানে

হুট করে পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যাওয়ার কী মানে
ছবির ক্যাপশান, হুট করে পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যাওয়ার কী মানে

হুট করে পিরিয়ড বা মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া (যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে অ্যামেনোরিয়া বলা হয়) গর্ভধারণের লক্ষণ হতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত মানসিক চাপ, দ্রুত ওজন হ্রাস বা বৃদ্ধি, থাইরয়েড সমস্যা, পিসিওএস (PCOS), অতিরিক্ত ব্যায়াম বা নতুন কোনো ওষুধ/জন্মনিয়ন্ত্রণ পিলের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও এর কারণ হতে পারে।

হুট করে পিরিয়ড বা মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো গর্ভাবস্থা বা প্রেগন্যান্সি। তবে গর্ভবতী না হলেও বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক কারণে মাসিক হঠাৎ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় টানা ৩ মাস বা তার বেশি সময় পিরিয়ড বন্ধ থাকাকে 'অ্যামেনোরিয়া' বলা হয়। 

পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার প্রধান কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:

  • মানসিক চাপ (Stress): অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপের কারণে মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা পিরিয়ড নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনকে ব্যাহত করে।

  • হরমোনের তারতম্য: থাইরয়েডের সমস্যা বা শরীরে প্রোল্যাকটিন হরমোনের মাত্রা বেড়ে গেলে পিরিয়ড বন্ধ হতে পারে।

  • পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS): এটি হরমোনজনিত একটি সমস্যা যেখানে ডিম্বাশয়ে ছোট ছোট সিস্ট তৈরি হয়, যার ফলে পিরিয়ড অনিয়মিত হয় বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

  • ওজন পরিবর্তন: খুব দ্রুত ওজন কমে যাওয়া বা অতিরিক্ত ওজন বেড়ে যাওয়া—উভয়ই হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে পিরিয়ড বন্ধ করতে পারে।

  • অতিরিক্ত ব্যায়াম: যারা হঠাৎ খুব ভারী ব্যায়াম বা অ্যাথলেটিক ট্রেনিং শুরু করেন, তাদের শরীরে শক্তির ঘাটতির কারণে পিরিয়ড সাময়িকভাবে বন্ধ হতে পারে।

  • ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ (যেমন: জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল, অ্যান্টি-সাইকোটিক বা কেমোথেরাপি) পিরিয়ড চক্রে প্রভাব ফেলে।

  • মেনোপজ: সাধারণত ৪৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সের মধ্যে প্রাকৃতিকভাবেই পিরিয়ড স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়। তবে ৪০ বছরের আগে হলে একে 'প্রিম্যাচুর মেনোপজ' বলা হয়। 

কখন ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন?

যদি আপনার পিরিয়ড টানা ৩ মাস বন্ধ থাকে, অথবা পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি মাথাব্যথা, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা, চুল পড়া বা মুখে অতিরিক্ত লোম গজনোর মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে দ্রুত একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের (গাইনোকোলজিস্ট) পরামর্শ নেওয়া উচিত।

হঠাৎ পিরিয়ড বন্ধ হয়ে গেলে করনীয়

হঠাৎ পিরিয়ড বন্ধ হয়ে গেলে ঘাবড়ে না গিয়ে ধাপে ধাপে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। পরিস্থিতি বুঝতে আপনি নিচের কাজগুলো করতে পারেন:

১. প্রেগন্যান্সি টেস্ট করুন:

যদি আপনি বিবাহিত বা যৌনভাবে সক্রিয় হন, তবে পিরিয়ড মিস হওয়ার প্রথম কারণ হতে পারে গর্ভাবস্থা। বাসায় একটি 'প্রেগন্যান্সি কিট' দিয়ে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন। 

২. জীবনযাত্রার দিকে নজর দিন:

ইদানীং আপনার জীবনে কি কোনো বড় পরিবর্তন এসেছে? যেমন:

  • অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা।

  • খুব বেশি শারীরিক পরিশ্রম বা জিম শুরু করা।

  • খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন বা হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া/বেড়ে যাওয়া
    এমনটা হলে শরীরকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিন এবং পুষ্টিকর খাবার খান। অনেক সময় জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হলে পিরিয়ড আবার শুরু হয়। 

৩. ওষুধের হিস্ট্রি চেক করুন:

আপনি কি সম্প্রতি কোনো জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল, ইমার্জেন্সি পিল বা অন্য কোনো কড়া ওষুধ খেয়েছেন? এসব ওষুধের কারণে পিরিয়ড চক্রে ওলটপালট হতে পারে। 

৪. ঘরোয়া কিছু অভ্যাস:

পিরিয়ড নিয়মিত করতে হালকা গরম পানিতে গোসল, পেটে গরম সেঁক দেওয়া বা আদা চা পান করা সাময়িক আরাম দিতে পারে। তবে এগুলো সরাসরি পিরিয়ড শুরু করার সমাধান নয়। 

কখন অবশ্যই ডাক্তার দেখাবেন?

যদি নিচের লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তবে দেরি না করে একজন গাইনোকোলজিস্ট (স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ) দেখান:

  • টানা ৩ মাস বা তার বেশি পিরিয়ড বন্ধ থাকলে।

  • পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার সাথে সাথে তীব্র তলপেটে ব্যথা হলে।

  • মুখে বা শরীরে অতিরিক্ত লোম গজানো বা হঠাৎ অনেক ব্রণ হওয়া (এটি PCOS-এর লক্ষণ হতে পারে)।

  • হঠাৎ করে প্রচুর চুল পড়া বা স্তন থেকে সাদা নিঃসরণ হওয়া।

  • আপনার বয়স যদি ৪৫-এর বেশি হয় (মেনোপজের সম্ভাবনা)। 


সম্পর্কিত নিউজ