{{ news.section.title }}
শসা কি সত্যিই এত উপকারী? জেনে নিন উপকারিতা ও অপকারিতা
শসা সহজলভ্য, কম ক্যালরিযুক্ত এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি সবজি। গরমের সময় শরীর ঠান্ডা রাখতে শসা বেশি খাওয়া হলেও এখন সারা বছরই বাজারে এটি পাওয়া যায়। শসায় প্রচুর পানি থাকে। পাশাপাশি এতে রয়েছে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফাইবার, ভিটামিন, খনিজ উপাদান ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এসব উপাদান শরীরের সামগ্রিক সুস্থতায় ভূমিকা রাখে।
ওজন নিয়ন্ত্রণ, শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ, হজমে সহায়তা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং ত্বকের যত্নে শসা বেশ জনপ্রিয়। তবে শসা উপকারী হলেও অতিরিক্ত খাওয়া বা শুধু শসার ওপর নির্ভর করে ডায়েট করা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই এর উপকারিতার পাশাপাশি খাওয়ার সঠিক নিয়ম এবং সতর্কতাও জানা জরুরি।
শসার পুষ্টিগুণ
প্রতি ১০০ গ্রাম শসা থেকে সাধারণত পাওয়া যায় -
- ক্যালরি: ১৫.৫ গ্রাম
- প্রোটিন: ০.৬৪ গ্রাম
- কার্বোহাইড্রেট: ৩.৭৮ গ্রাম
- ফ্যাট: ০.১১ গ্রাম
- ডায়াটারি ফাইবার: ০.৬২ গ্রাম
- মনোস্যাকারাইড: ১.৭০ গ্রাম
এসব উপাদানের পাশাপাশি শসায় রয়েছে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ভিটামিন, খনিজ উপাদান এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।
শসা খাওয়ার উপকারিতা
১. শরীরে পানির চাহিদা পূরণে সহায়ক
শসায় পানির পরিমাণ বেশি। তাই গরমে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে এটি ভালো খাবার। ফাইবার ও ফ্লুইডসমৃদ্ধ হওয়ায় শসা শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
২. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে
শসায় থাকা পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ফাইবার উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় শসা রাখলে হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্যও উপকার পাওয়া যায়।
৩. কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
শসায় স্টেরল নামের এক ধরনের উপাদান থাকে, যা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হিসেবে বিবেচিত। শসার খোসাতেও এই উপাদান থাকে। তাই ভালোভাবে ধুয়ে খোসাসহ শসা খাওয়া যেতে পারে।
৪. ওজন নিয়ন্ত্রণে উপকারী
শসা কম ক্যালরিযুক্ত এবং পানিসমৃদ্ধ হওয়ায় ওজন নিয়ন্ত্রণে এটি সহায়ক। সালাদ বা নাস্তার সঙ্গে শসা খেলে পেট ভরা অনুভূতি তৈরি হয়, ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে।
৫. হজমে সহায়তা করে
শসায় থাকা ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে। এতে এরেপসিন নামের একটি এনজাইম রয়েছে, যা খাবার হজমে সহায়তা করতে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতেও শসা উপকারী।
৬. কিডনি ও লিভারের জন্য সহায়ক হতে পারে
কিডনি, ইউরিনারি ব্লাডার, লিভার ও প্যানক্রিয়াসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে শসা সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে কোনো রোগ থাকলে শুধু শসার ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
৭. ডায়াবেটিস রোগীর জন্য উপকারী হতে পারে
শসা বা শসার রস ডায়াবেটিস রোগীদের খাদ্যতালিকায় রাখা যায়। এতে ক্যালরি কম এবং পানির পরিমাণ বেশি হওয়ায় এটি তুলনামূলক নিরাপদ খাবার হিসেবে বিবেচিত। তবে ডায়াবেটিস থাকলে খাদ্যতালিকা চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক করা ভালো।
৮. অ্যাসিডিটি ও গ্যাস্ট্রিক সমস্যায় আরাম দিতে পারে
শসার রস আলসার, গ্যাস্ট্রাইটিস ও অ্যাসিডিটির ক্ষেত্রে কিছুটা আরাম দিতে পারে। ঠান্ডা প্রকৃতির হওয়ায় অনেকের পেটে স্বস্তি দেয়।
৯. দাঁত, মাড়ি ও নখের যত্নে সহায়ক
মিনারেলসমৃদ্ধ শসা নখ ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে। দাঁত ও মাড়ির কিছু সমস্যায়ও শসা সহায়ক হিসেবে কাজ করতে পারে।
১০. ত্বকের যত্নে ব্যবহার হয়
ত্বকের পরিচর্যায় শসা বহুল ব্যবহৃত। শসার রস বা স্লাইস চোখের নিচের ফোলা ভাব কমাতে, ত্বক ঠান্ডা রাখতে এবং সতেজতা আনতে অনেকেই ব্যবহার করেন।
১১. আর্থ্রাইটিস ও ইউরিক অ্যাসিডজনিত ব্যথায় সহায়ক হতে পারে
ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী শসার রস খেলে আর্থ্রাইটিস, অ্যাগজিমা, হার্ট ও ফুসফুসের সমস্যায় উপকার হতে পারে। গাজরের রসের সঙ্গে শসার রস মিশিয়ে খেলে ইউরিক অ্যাসিডজনিত ব্যথার ক্ষেত্রে কিছুটা উপকার পাওয়া যেতে পারে।
শসা খাওয়ার অপকারিতা ও সতর্কতা
শসা স্বাস্থ্যকর খাবার হলেও ভুলভাবে খেলে সমস্যা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে অনেকেই মনে করেন, শুধু শসা খেলেই দ্রুত ওজন কমানো যায়। এই ধারণা ঠিক নয়।
পুষ্টিবিদরা ডায়েট চার্টে শসা রাখলেও কখনোই শুধু শসা খেয়ে ওজন কমানোর পরামর্শ দেন না। কারণ শসা কম ক্যালরিযুক্ত খাবার। তাই সারাদিন শুধু শসা খেলে কিছুদিন ওজন কমতে পারে, কিন্তু এতে শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হয়।
অতিরিক্ত শসা খেলে যেসব সমস্যা হতে পারে
- বদহজম
- গ্যাসের সমস্যা
- পেট ফাঁপা
- পেটব্যথা
- বমি বমি ভাব
- দুর্বলতা
- মাথা ঘোরা
- রক্তে গ্লুকোজ কমে যাওয়ার ঝুঁকি
- শরীরে পুষ্টির ঘাটতি
প্রায় এক মাস ধরে শুধু শসা খেয়ে ওজন কমানোর চেষ্টা করলে শরীর দুর্বল হয়ে যেতে পারে। কাজ করার শক্তি কমে যেতে পারে। এমনকি পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাবে রক্তস্বল্পতার আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে।
যেভাবে শসা খাবেন
শসা একা প্রধান খাবার হিসেবে নয়, বরং নিয়মিত খাবারের সঙ্গে যুক্ত করে খাওয়া সবচেয়ে ভালো। যেমন -
- সকালের নাস্তার পর
- দুপুরের খাবারের সঙ্গে সালাদ হিসেবে
- বিকেলের নাস্তার সঙ্গে
- টক দইয়ের সঙ্গে
- রাতের খাবারের সঙ্গে
- লেবু, গাজর, টমেটো বা অন্যান্য সবজির সঙ্গে সালাদ করে
শসা খাওয়ার আগে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। খোসাসহ খেলে বেশি ফাইবার পাওয়া যায়, তবে রাসায়নিক বা ময়লার আশঙ্কা থাকলে ভালোভাবে পরিষ্কার করা জরুরি।
শেষ কথা
শসা শরীরের জন্য উপকারী একটি খাবার। এতে ক্যালরি কম, পানি বেশি এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রয়েছে। নিয়মিত পরিমাণমতো শসা খেলে শরীর সতেজ থাকে, হজম ভালো হয়, ত্বক উজ্জ্বল রাখতে সহায়তা করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে।
তবে শসাকে কখনোই ওজন কমানোর একমাত্র উপায় হিসেবে নেওয়া ঠিক নয়। সুষম খাবার, পর্যাপ্ত পানি, নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের সঙ্গে শসা খাদ্যতালিকায় রাখলেই সবচেয়ে ভালো উপকার পাওয়া যায়।