{{ news.section.title }}
মোশন সিকনেস কী, গাড়িতে বমি ঠেকাতে করণীয়
গাড়িতে ভ্রমণের সময় বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা, অস্থিরতা বা বমি হওয়া অনেকের খুব পরিচিত সমস্যা। কেউ বাসে উঠলেই অসুস্থ বোধ করেন, কেউ ব্যক্তিগত গাড়িতে পাহাড়ি বা আঁকাবাঁকা পথে গেলেই মাথা ঘুরতে শুরু করে। আবার কারও ক্ষেত্রে ট্রেন, জাহাজ বা উড়োজাহাজেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে বলা হয় মোশন সিকনেস।
মোশন সিকনেস সাধারণত প্রাণঘাতী সমস্যা নয়, তবে ভ্রমণকে খুব অস্বস্তিকর করে তুলতে পারে। বিশেষ করে শিশু, নারী, মাইগ্রেনে ভোগা ব্যক্তি এবং যাদের আগেও ভ্রমণে বমি হওয়ার ইতিহাস আছে, তাদের মধ্যে এই সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসির ভ্রমণ স্বাস্থ্যবিষয়ক নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, মোশন সিকনেস প্রতিরোধে আচরণগত কৌশল ও প্রয়োজন হলে ওষুধ-দুই ধরনের ব্যবস্থাই ব্যবহার করা যায়।
মোশন সিকনেস আসলে কী
মোশন সিকনেস হলো এমন এক শারীরিক প্রতিক্রিয়া, যেখানে চলন্ত যানবাহনে থাকা অবস্থায় শরীরের ভারসাম্য ব্যবস্থার সঙ্গে চোখের দেখা তথ্যের অমিল তৈরি হয়। এর ফলে মস্তিষ্ক বিভ্রান্ত সংকেত পায় এবং শরীরে বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা, ঘাম, দুর্বলতা, অস্থিরতা কিংবা বমি দেখা দিতে পারে।
এটি শুধু গাড়িতে হয় না। বাস, মাইক্রোবাস, ট্রেন, জাহাজ, নৌকা, বিমান-সব ধরনের চলন্ত যানেই হতে পারে। সাগরে হলে অনেকে একে সি-সিকনেস বলেন, আকাশপথে হলে অনেকে এয়ার-সিকনেস বলেন। কিন্তু মূল কারণ প্রায় একই-চোখ, কানের ভেতরের ভারসাম্য ব্যবস্থা এবং শরীরের গতিবোধের মধ্যে সংকেতের অমিল।
যুক্তরাজ্যের এনএইচএস বলছে, ভ্রমণের সময় বারবার ঝাঁকুনি, ওঠানামা বা নড়াচড়ার কারণে কানের ভেতরের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণকারী অংশ মস্তিষ্কে এক ধরনের সংকেত পাঠায়, কিন্তু চোখ অন্য ধরনের তথ্য দিলে মস্তিষ্ক বিভ্রান্ত হয়, এই বিভ্রান্ত সংকেত থেকেই মানুষ অসুস্থ বোধ করতে পারে।
গাড়িতে বমি হওয়ার মূল কারণ
গাড়িতে বসে থাকা অবস্থায় শরীর আসলে চলমান, কিন্তু যাত্রী নিজে হাঁটছেন না। গাড়ি সামনে যাচ্ছে, বাঁক নিচ্ছে, ব্রেক করছে, গতি বাড়াচ্ছে বা কমাচ্ছে। এসব নড়াচড়া কানের ভেতরের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণকারী অংশ অনুভব করে। কিন্তু একই সময়ে যদি যাত্রী গাড়ির ভেতরে বসে বই পড়েন বা মোবাইল স্ক্রল করেন, তখন চোখ স্থির স্ক্রিন বা পাতার দিকে তাকিয়ে থাকে। এতে চোখ মস্তিষ্ককে জানায়-সবকিছু স্থির। অন্যদিকে কানের ভেতরের ভারসাম্য ব্যবস্থা জানায়-শরীর নড়ছে। এই দুই বিপরীত সংকেতের কারণেই বমি বমি ভাব শুরু হতে পারে।
ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, চোখ, ভেতরের কান, পেশি ও জয়েন্ট থেকে পাওয়া চলাচলসংক্রান্ত সংকেত যখন একে অপরের সঙ্গে মেলে না, তখন মোশন সিকনেস দেখা দিতে পারে। এই অবস্থায় মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, ঠান্ডা ঘাম, মুখে লালা বেড়ে যাওয়া ও বমির মতো লক্ষণ দেখা যেতে পারে।
বই পড়া বা মোবাইল ব্যবহারে সমস্যা বাড়ে কেন
চলন্ত গাড়িতে বই পড়া, মোবাইল দেখা বা ল্যাপটপ ব্যবহার করলে মোশন সিকনেস বাড়ার আশঙ্কা বেশি। কারণ তখন চোখ কাছের একটি স্থির জিনিসে আটকে থাকে। কিন্তু শরীর গাড়ির গতি, ঝাঁকুনি, বাঁক বা ব্রেকের প্রভাব অনুভব করে। ফলে মস্তিষ্ক একই সময়ে দুই ধরনের তথ্য পায়।
এই কারণেই অনেকের গাড়িতে সামনের দিকে তাকিয়ে থাকলে সমস্যা কম হয়, কিন্তু মোবাইল দেখলেই বমি বমি ভাব শুরু হয়। শিশুদের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা দেখা যায়। তারা গাড়িতে বসে কার্টুন দেখলে বা গেম খেললে অনেক সময় দ্রুত অসুস্থ বোধ করে। মায়ো ক্লিনিক শিশুদের গাড়িতে বমি প্রতিরোধে বই বা স্ক্রিনে মনোযোগ না দিয়ে জানালা দিয়ে বাইরে তাকানো, পর্যাপ্ত বাতাসের ব্যবস্থা রাখা এবং গান শোনা বা কথা বলার মতো বিভ্রান্তিমূলক উপায় ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে।
পাহাড়ি রাস্তা বা ঝাঁকুনিতে কেন বেশি হয়
পাহাড়ি রাস্তা, আঁকাবাঁকা পথ, উঁচু-নিচু রাস্তা বা অতিরিক্ত ঝাঁকুনিযুক্ত যানবাহনে মোশন সিকনেস বেশি হতে পারে। কারণ এ ধরনের রাস্তায় গাড়ি বারবার বাঁক নেয়, ওঠানামা করে, গতি বদলায়। এতে কানের ভেতরের তরল ও ভারসাম্য ব্যবস্থায় বেশি চাপ পড়ে। ফলে মাথা ঘোরা, অস্বস্তি বা বমি বমি ভাব দ্রুত শুরু হতে পারে। বাসের পেছনের সিটে বসলে অনেকের সমস্যা বেশি হয়, কারণ পেছনের অংশে ঝাঁকুনি তুলনামূলক বেশি অনুভূত হয়। একইভাবে নৌকা বা জাহাজে ঢেউয়ের কারণে শরীর বারবার ওঠানামা করলে সি-সিকনেস দেখা দিতে পারে।
গন্ধ, ধোঁয়া ও বদ্ধ বাতাসও বড় কারণ
শুধু চোখ-কানের সংকেতের অমিল নয়, গাড়ির ভেতরের পরিবেশও বমি ভাব বাড়িয়ে দিতে পারে। পেট্রোল বা ডিজেলের গন্ধ, সিগারেটের ধোঁয়া, অতিরিক্ত সুগন্ধি, ঘামে ভেজা বদ্ধ পরিবেশ কিংবা পর্যাপ্ত বাতাস না থাকলে অনেকের অস্বস্তি বেড়ে যায়। গরমে এসি ঠিকমতো কাজ না করলে বা জানালা বন্ধ থাকলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
সিডিসি ভ্রমণের সময় ধূমপান এড়িয়ে চলা, পর্যাপ্ত পানি পান করা, অ্যালকোহল ও অতিরিক্ত ক্যাফেইন সীমিত রাখা এবং সম্ভব হলে সামনে বসা বা জানালার পাশে বসার পরামর্শ দিয়েছে।
খালি পেটে বা ভরা পেটে ভ্রমণ-দুটোই সমস্যা করতে পারে
খুব খালি পেটে ভ্রমণ শুরু করলে গ্যাস্ট্রিক, মাথা ঘোরা বা দুর্বলতার কারণে বমি ভাব বাড়তে পারে। আবার খুব ভারী, তেল-মসলাযুক্ত খাবার খেয়ে ভ্রমণ করলেও পেট ভার, ঢেকুর, অস্বস্তি ও বমির প্রবণতা দেখা দিতে পারে।
ভ্রমণের আগে হালকা খাবার খাওয়া ভালো। যেমন-টোস্ট, বিস্কুট, কলা, সামান্য ভাত বা হালকা নাশতা। অতিরিক্ত তেল, ভাজাপোড়া, ঝাল, দুধজাত ভারী খাবার বা অতিরিক্ত কোমল পানীয় এড়িয়ে চলা ভালো। মায়ো ক্লিনিক মোশন সিকনেস কমাতে হালকা খাবার, plain crackers, ঠান্ডা পানি বা caffeine-free carbonated drink ধীরে ধীরে পান করার কথা উল্লেখ করেছে।
কারা বেশি ঝুঁকিতে
মোশন সিকনেস যে কারও হতে পারে, তবে কিছু মানুষের ঝুঁকি বেশি। শিশুদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়, বিশেষ করে ২ থেকে ১২ বছর বয়সে। মাইগ্রেনে ভোগা মানুষ, গর্ভবতী নারী, ঘুমের ঘাটতিতে থাকা ব্যক্তি এবং যাদের আগে থেকেই ভ্রমণে বমির ইতিহাস আছে, তাদের মধ্যে ঝুঁকি বেশি হতে পারে। সিডিসির ইয়েলো বুকেও বলা হয়েছে, ঘুমের অভাব মোশন সিকনেস বাড়াতে পারে এবং ধূমপান বা নিকোটিন ব্যবহার সমস্যা বাড়াতে পারে।
লক্ষণগুলো কী কী
মোশন সিকনেসের লক্ষণ ধীরে ধীরে শুরু হতে পারে। প্রথমে অস্বস্তি, মুখে পানি আসা, হালকা মাথা ঘোরা বা পেটের ভেতর অস্বস্তি লাগে। পরে বমি বমি ভাব, ঠান্ডা ঘাম, মাথাব্যথা, ক্লান্তি, মন খারাপ বা বমি হতে পারে। অনেকের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে যায়, কেউ কেউ চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকতে চান।
ভ্রমণ শেষ হওয়ার পর সাধারণত লক্ষণ কমে যায়। তবে দীর্ঘ ভ্রমণ, জাহাজ বা উড়োজাহাজে যাত্রা কিংবা অনেক বেশি বমি হলে দুর্বলতা ও পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে।
কীভাবে প্রতিরোধ করবেন
মোশন সিকনেস প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো মস্তিষ্ককে এক ধরনের সংকেত পেতে সাহায্য করা। অর্থাৎ চোখকে এমন দিকে রাখা, যা শরীরের চলাচলের সঙ্গে মিল রাখে।
গাড়িতে ভ্রমণের সময় সামনের দিকে বা দূরের কোনো স্থির বিন্দুর দিকে তাকিয়ে থাকা ভালো। জানালার পাশে বসলে বাইরে দৃশ্য দেখা যায়, এতে চোখ চলাচলের বাস্তব ধারণা পায়। বাস বা গাড়িতে সম্ভব হলে সামনের সিটে বসা ভালো। ট্রেনে জানালার পাশে এবং বিমানে ডানার কাছাকাছি সিট তুলনামূলকভাবে স্থির অনুভূত হতে পারে। জাহাজে মাঝামাঝি অংশে থাকা অনেকের জন্য সুবিধাজনক।
চলন্ত গাড়িতে বই পড়া, মোবাইল স্ক্রল করা বা নিচের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘ সময় থাকা এড়িয়ে চলুন। প্রয়োজন হলে চোখ বন্ধ করে বিশ্রাম নিন। গান শোনা, কথা বলা বা হালকা ঘুমও অনেক সময় উপকার করে। পর্যাপ্ত বাতাসের ব্যবস্থা রাখুন। জানালা খুলে fresh air নিন বা এসির বাতাস যেন বদ্ধ ও গরম না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন।
সিডিসি ভ্রমণে মোশন সিকনেস কমাতে সামনে বসা, জানালার সিট নেওয়া, সম্ভব হলে শুয়ে থাকা, চোখ বন্ধ করা, ঘুমানো বা horizon-এর দিকে তাকানোর মতো কৌশলের কথা বলেছে।
আদা, লেবু বা টকজাতীয় কিছু কি কাজে দেয়
অনেকেই বমি ভাব কমাতে আদা, লেবু, টক ফল বা লজেন্স ব্যবহার করেন। এগুলো সবার ক্ষেত্রে সমান কার্যকর না হলেও অনেকের অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে। মায়ো ক্লিনিক motion sickness কমাতে ginger supplement, ginger snaps, ginger ale বা candied ginger চেষ্টা করার কথা উল্লেখ করেছে, যদিও এগুলো চিকিৎসার বিকল্প নয়।
তবে যাদের গ্যাস্ট্রিক বা আলসারের সমস্যা আছে, তারা অতিরিক্ত টক বা ঝালজাতীয় কিছু খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকবেন। শিশুদের ক্ষেত্রে আদা বা লজেন্স দেওয়ার সময় বয়স, গিলতে পারার সক্ষমতা ও নিরাপত্তা বিবেচনা করা জরুরি।
ওষুধ কখন দরকার
যাদের ভ্রমণে নিয়মিত বমি হয়, তারা চিকিৎসকের পরামর্শে ভ্রমণের আগে ওষুধ নিতে পারেন। কিছু antihistamine জাতীয় ওষুধ মোশন সিকনেস প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়। তবে এসব ওষুধে ঘুম ঘুম ভাব, মুখ শুকিয়ে যাওয়া বা মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। তাই গাড়ি চালানোর আগে বা গুরুত্বপূর্ণ কাজের আগে এসব ওষুধ নেওয়া নিরাপদ নাও হতে পারে।
ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক বলছে, dimenhydrinate-এর মতো কিছু antihistamine মোশন সিকনেস প্রতিরোধে ব্যবহৃত হতে পারে, তবে non-drowsy antihistamine সাধারণত একইভাবে কাজ নাও করতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে scopolamine patch ব্যবহার করা হয়, তবে সেটিও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করা উচিত নয়।
শিশু, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক ব্যক্তি, হৃদরোগী, গ্লুকোমা, প্রস্রাবের সমস্যা বা নিয়মিত অন্য ওষুধ সেবনকারী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নিজে নিজে ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নিতে হবে।
ভ্রমণের আগে প্রস্তুতি
ভ্রমণের আগের রাতে পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। ঘুমের ঘাটতি থাকলে মোশন সিকনেস বাড়তে পারে। যাত্রার আগে খুব ভারী খাবার নয়, আবার একদম খালি পেটেও নয়-হালকা খাবার খাওয়া ভালো। পানির বোতল, টিস্যু, পলিথিন ব্যাগ, লেবু/আদা/লজেন্স, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং শিশু থাকলে অতিরিক্ত কাপড় সঙ্গে রাখা যেতে পারে।
যারা নিয়মিত মোশন সিকনেসে ভোগেন, তারা যাত্রার সময় সিট নির্বাচন আগে থেকে পরিকল্পনা করতে পারেন। বাসে সামনের দিকে, গাড়িতে সামনের সিটে, ট্রেনে জানালার পাশে এবং বিমানে কম ঝাঁকুনির জায়গা বেছে নেওয়া ভালো।
ভ্রমণের সময় কী করবেন
বমি বমি ভাব শুরু হলে দ্রুত মোবাইল বা বই দেখা বন্ধ করুন। সিটে মাথা ঠেকিয়ে বসুন, চোখ বন্ধ করুন বা দূরের দিকে তাকান। গাড়ির জানালা সামান্য খুলে বাতাস নিন। ছোট ছোট চুমুকে পানি পান করুন। খুব বেশি কথা বলা বা অতিরিক্ত নড়াচড়া না করাই ভালো। সম্ভব হলে গাড়ি থামিয়ে কয়েক মিনিট হাঁটাহাঁটি বা fresh air নেওয়া যেতে পারে।
বমি হলে শরীর পানিশূন্য হয়ে যেতে পারে। তাই পানি বা ওরাল স্যালাইন ধীরে ধীরে পান করা যেতে পারে। তবে একসঙ্গে বেশি পানি খেলে আবার বমি হতে পারে, তাই ছোট চুমুকে পান করা ভালো।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন
মোশন সিকনেস সাধারণত ভ্রমণ শেষ হলে কমে যায়। তবে কিছু পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি। যেমন-বমি বন্ধ না হওয়া, পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দেওয়া, প্রস্রাব কমে যাওয়া, মাথা ঘোরা দীর্ঘ সময় থাকা, অজ্ঞান হওয়ার মতো অবস্থা, বুকে ব্যথা, তীব্র মাথাব্যথা, কথা জড়িয়ে যাওয়া, শরীরের এক পাশ দুর্বল লাগা বা ভ্রমণ শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় মাথা ঘোরা।
কারণ সব মাথা ঘোরা বা বমি মোশন সিকনেসের কারণে নাও হতে পারে। ভেতরের কানের রোগ, মাইগ্রেন, রক্তচাপ, পানিশূন্যতা, খাদ্যে বিষক্রিয়া বা অন্য কোনো সমস্যার কারণেও এমন লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা
শিশুরা অনেক সময় আগেভাগে বলতে পারে না যে তাদের বমি লাগছে। তারা চুপচাপ হয়ে যেতে পারে, ঘামতে পারে, মুখ ফ্যাকাশে হতে পারে বা হঠাৎ বমি করতে পারে। তাই যেসব শিশুর গাড়িতে বমির ইতিহাস আছে, তাদের জানালার পাশে বসানো, স্ক্রিন ব্যবহার কমানো, মাঝেমধ্যে বিরতি দেওয়া এবং হালকা খাবার খাওয়ানো ভালো। মায়ো ক্লিনিক শিশুদের ক্ষেত্রে fresh air, গান শোনা, কথা বলা বা মনোযোগ অন্যদিকে সরানোর মতো পদ্ধতি ব্যবহারের কথা বলেছে।
গাড়িতে ভ্রমণের সময় বমি হওয়া দুর্বলতা বা ভয় পাওয়ার মতো বিষয় নয়, এটি মূলত শরীরের ভারসাম্য ব্যবস্থা, চোখের দেখা তথ্য এবং মস্তিষ্কের সংকেতের অমিল থেকে তৈরি হওয়া একটি স্বাভাবিক শারীরিক প্রতিক্রিয়া। তবে এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সঠিক সিট নির্বাচন, দূরের দিকে তাকানো, মোবাইল বা বই পড়া এড়িয়ে চলা, fresh air নেওয়া, হালকা খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ-এসব মেনে চললে ভ্রমণ অনেকটাই আরামদায়ক করা যায়।
মোশন সিকনেসের সমস্যা থাকলে ভ্রমণের আগে পরিকল্পনা করাই সবচেয়ে ভালো সমাধান। কারণ একবার বমি শুরু হয়ে গেলে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হতে পারে, কিন্তু আগে থেকে প্রস্তুতি নিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে অস্বস্তি কমানো যায়।