ফলের রস কি স্বাস্থ্যকর নাকি ঝুঁকিপূর্ণ? রক্তে শর্করা বাড়ার আশঙ্কা

ফলের রস কি স্বাস্থ্যকর নাকি ঝুঁকিপূর্ণ? রক্তে শর্করা বাড়ার আশঙ্কা
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

অনেকের দিন শুরু হয় এক গ্লাস তাজা ফলের রস দিয়ে। স্বাস্থ্যকর অভ্যাস হিসেবে এটি দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয়। কিন্তু সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা বলছে, এই অভ্যাস সবসময় উপকারী নাও হতে পারে। বিশেষ করে, ফলের রস নিয়মিত পান করলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে-এমনকি যারা ডায়াবেটিস-এ আক্রান্ত নন, তাদের ক্ষেত্রেও।

রস কেন দ্রুত শর্করা বাড়ায়

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফলের রসে থাকা প্রাকৃতিক চিনি-যেমন ফ্রুক্টোজ ও গ্লুকোজ-দ্রুত শরীরে শোষিত হয়। যখন কোনো ফল থেকে রস তৈরি করা হয়, তখন তার অধিকাংশ আঁশ বা ফাইবার বাদ পড়ে যায়।

 

ফাইবার সাধারণত শরীরে শর্করা ধীরে ধীরে শোষিত হতে সাহায্য করে। কিন্তু রসে এই ফাইবার না থাকায় শর্করা খুব দ্রুত রক্তে প্রবেশ করে, ফলে হঠাৎ করে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। এই অবস্থাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় “গ্লুকোজ স্পাইক” বলা হয়। সুস্থ মানুষের শরীর সাধারণত ইনসুলিন নিঃসরণ করে এই বাড়তি শর্করাকে নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে বারবার এমন স্পাইক ঘটলে তা দীর্ঘমেয়াদে বিপাকক্রিয়ার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

 

গবেষণা কী বলছে

আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন-এর তথ্য অনুযায়ী, শিশু ও কিশোরদের ওপর পরিচালিত এক দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ফলের রস বা চিনিযুক্ত পানীয় পান করলে ভবিষ্যতে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি (প্রায় এক কাপ বা তার বেশি) রস পান করলে এই ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

 

প্যাকেটজাত রস আরও ঝুঁকিপূর্ণ

বাজারে পাওয়া প্যাকেটজাত ফলের রস নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা আরও বেশি। এসব রসে অতিরিক্ত চিনি, কৃত্রিম স্বাদ ও সংরক্ষণকারী উপাদান যুক্ত থাকে, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এগুলো শুধু শর্করার মাত্রা বাড়ায় না, বরং অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণের মাধ্যমে ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকিও বাড়ায়।

গোটা ফল কেন বেশি উপকারী

পুষ্টিবিদরা বলছেন, ফলের রসের চেয়ে গোটা ফল খাওয়াই বেশি উপকারী। কারণ গোটা ফলে থাকে-

  • প্রাকৃতিক ফাইবার
  • ভিটামিন
  • খনিজ উপাদান

এই ফাইবার শর্করার শোষণ ধীর করে এবং দীর্ঘসময় পেট ভরা রাখে, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতাও কমে।

কখন এবং কীভাবে রস খাবেন

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী-

  • খালি পেটে ফলের রস পান না করাই ভালো
  • অতিরিক্ত চিনি যোগ না করে ঘরে তৈরি রস বেছে নেওয়া উচিত
  • পরিমাণ সীমিত রাখা জরুরি
  • রসের সঙ্গে বাদাম বা প্রোটিন জাতীয় খাবার খেলে শর্করার প্রভাব কিছুটা কমানো যায়


সতর্ক থাকার বার্তা

ডায়াবেটিস না থাকলেও ফলের রসকে সম্পূর্ণ নির্দোষ ভাবার সুযোগ নেই। নিয়মিত ও অতিরিক্ত রস পান করলে শরীরে শর্করার ওঠানামা বাড়তে পারে, যা ভবিষ্যতে বিভিন্ন বিপাকজনিত সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য ফলের রস নয়, বরং গোটা ফলকে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।


সম্পর্কিত নিউজ