{{ news.section.title }}
মরিচ কাটার পর হাত জ্বালাপোড়া করছে? জানুন ১ মিনিটেই মুক্তি পাওয়ার টিপস
মরিচের জ্বালায় হাত পুড়ছে? পানি দিয়ে ধুয়েও কি কোনো লাভ হচ্ছে না? এর কারণ হলো মরিচে থাকা বিশেষ উপাদান ‘ক্যাপসাইসিন’, যা পানিতে দ্রবীভূত হয় না। কেন এই জ্বালা এত দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং ঘরোয়া কোন সহজ কৌশলে আপনি এই অসহ্য যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে পারেন, তা নিয়েই আজকের এই প্রতিবেদনে থাকছে বিস্তারিত গাইড।
হাতের জ্বালাপোড়া দ্রুত কমানোর উপায়:
☞ ঠান্ডা দুধ বা দই, যা সবচেয়ে বেশি কার্যকর। মরিচের জ্বালা কমানোর সবথেকে সেরা উপায় হলো ঠান্ডা দুধ বা দই। দুধের মধ্যে ‘ক্যাসিন’ নামক এক ধরণের প্রোটিন থাকে যা ক্যাপসাইসিনের অণুগুলোকে ভেঙে দেয় এবং ত্বক থেকে সেটিকে সরিয়ে ফেলে।
পদ্ধতি: একটি পাত্রে ঠান্ডা দুধ নিয়ে তাতে হাত ডুবিয়ে রাখুন অথবা দই মেখে রাখুন। জ্বালা কমে না যাওয়া পর্যন্ত এটি করুন।
☞ তেল বা চর্বিযুক্ত পদার্থের ব্যবহার করা। ক্যাপসাইসিন একটি চর্বি-দ্রবণীয় উপাদান। অর্থাৎ, এটি তেলের সাথে মিশে যায়।
পদ্ধতি: নারিকেল তেল, অলিভ অয়েল কিংবা ঘি হাতে মাখুন। তেল ক্যাপসাইসিনকে গলিয়ে ফেলে, এরপর সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ফেললে ঝাল ভাব দ্রুত চলে যায়।
☞ ভিনেগার বা লেবুর রস ব্যবহার করা।
ক্যাপসাইসিন প্রকৃতিগতভাবে একটি ক্ষারীয় উপাদান। তাই এর প্রভাব নষ্ট করতে অ্যাসিডিক বা অম্লীয় কিছু বেশ কার্যকর।
পদ্ধতি: হাত ভিনেগার বা লেবুর রসে ডুবিয়ে রাখুন। এটি ক্যাপসাইসিনের রাসায়নিক গঠনকে নিষ্ক্রিয় করে জ্বালা কমিয়ে দেয়।
☞ বেকিং সোডার পেস্ট লাগানো। বেকিং সোডা ত্বকের ওপর একটি শীতল স্তর তৈরি করে এবং অস্বস্তি কমিয়ে দেয়।
পদ্ধতি: সামান্য পানি দিয়ে বেকিং সোডার একটি ঘন পেস্ট তৈরি করে হাতে মেখে রাখুন। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন।
☞ অ্যালকোহল বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা।
ক্যাপসাইসিন অ্যালকোহলেও খুব দ্রুত দ্রবীভূত হয়।
পদ্ধতি: হাতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা রাবিং অ্যালকোহল ঘষলে জ্বালা দ্রুত কমে যেতে পারে। তবে ত্বকে কোনো ক্ষত থাকলে এটি এড়িয়ে চলাই ভালো।
সতর্কতা:
☞ মরিচ কাটার আগে হাতে সামান্য নারিকেল তেল মেখে নিলে ক্যাপসাইসিন ত্বকের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না।
☞ বেশি ঝাল মরিচ কাটলে গ্লাভস ব্যবহার করা সবথেকে নিরাপদ।
☞ মরিচ কাটার পর হাত ভালো করে না ধুয়ে ভুল করেও চোখ, মুখ বা নাকের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেবেন না।
হাতের জ্বালা কমানোর জন্য কেবল সাধারণ পানির ওপর নির্ভর না করে দুধ বা তেলের সাহায্য নিন। এটি একটি জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়া, তাই সঠিক উপাদান ব্যবহার করলে কয়েক মিনিটেই আপনি প্রশান্তি ফিরে পাবেন।