{{ news.section.title }}
গরমে ডিহাইড্রেশন? ১ মিনিটেই জানুন দ্রুত সুস্থ হওয়ার কার্যকরী কৌশল!
ডিহাইড্রেশনের ফলে রক্ত ঘন হওয়া এবং হৃদযন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ার বিষয়টি আমরা অনেকেই এড়িয়ে যাই। পানিশূন্যতার উপসর্গগুলো চিনে নেওয়া এবং দ্রুত শরীরের ইলেকট্রোলাইট ব্যালেন্স ঠিক করার সঠিক পদ্ধতি নিয়েই সাজানো হয়েছে আমাদের আজকের এই ইনফরমেটিভ প্রতিবেদনটি।
আমাদের দেহের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই পানি,যা আমরা প্রায় সবাই-ই জানি। কিন্তু যখন আমরা পর্যাপ্ত পানি পান না করি কিংবা অতিরিক্ত ঘাম বা অসুস্থতার কারণে যখন শরীর থেকে পানি বেরিয়ে যায়, তখন রক্ত ঘন হয়ে যায় এবং হৃদপিণ্ডকে রক্ত পাম্প করতে দ্বিগুণ পরিশ্রম করতে হয়। ডিহাইড্রেশন হলে কেবল মুখ শুকায় না, বরং মাথা ঘোরা, অবসাদ, প্রস্রাবের রঙ গাঢ় হওয়া এবং মনোযোগ হ্রাসের মতো লক্ষণও দেখা দেয়। এই অবস্থা থেকে দ্রুত উত্তরণের জন্য কেবল সাধারণ পানি পান করাই যথেষ্ট নয়, বরং শরীরের ইলেকট্রোলাইট ব্যালেন্স ফিরিয়ে আনাও সমানভাবে জরুরি।
তাৎক্ষণিক জাদুকরী সমাধান:
☞ ওআরএস:
দ্রুত ডিহাইড্রেশন কমানোর সবথেকে বৈজ্ঞানিক ও সেরা উপায় হলো ওআরএস। সাধারণ পানিতে কেবল তৃষ্ণা মেটে, কিন্তু ডিহাইড্রেশনের সময় শরীর সোডিয়াম, পটাশিয়াম এবং ক্লোরাইডের মতো খনিজ হারায়। ওআরএস-এ চিনি ও লবণের একটি নির্দিষ্ট অনুপাত থাকে যা অন্ত্রকে দ্রুত পানি শোষণে সাহায্য করে থাকে। বাজারে পাওয়া ওআরএস না থাকলে বাড়িতেই এক চিমটি লবণ এবং এক চামচ চিনি এক গ্লাস পানিতে মিশিয়ে পান করলে দ্রুত ফল পাওয়া যায়।
☞ প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইট ড্রিংক:
প্রকৃতি আমাদের জন্য ডাবের পানির মতো একটি অসাধারণ পানীয় রেখেছে। ডাবের পানিতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম এবং প্রাকৃতিক ম্যাগনেসিয়াম থাকে। এটি শরীরের পিএইচ (pH) লেভেল বজায় রাখে এবং কোষগুলোকে দ্রুত রিহাইড্রেট করে। কৃত্রিম এনার্জি ড্রিংকের তুলনায় ডাবের পানি অনেক বেশি কার্যকর এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন।
☞ ছোট ছোট চুমুকে পানি পান:
ডিহাইড্রেশন অনুভব করলে অনেকেই একবারে লিটার লিটার পানি পান করেন। এটি একটি ভুল পদ্ধতি। একবারে বেশি পানি পান করলে কিডনি তা দ্রুত বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে। দ্রুত সুস্থ হতে চাইলে প্রতি ৫-১০ মিনিট অন্তর ছোট ছোট চুমুকে পানি পান করা উত্তম। এতে শরীর পানি শোষণের পর্যাপ্ত সময় পায় এবং কোষগুলো ধীরে ধীরে সজীব হয়ে ওঠে।
☞ রসালো ফল ও সবজি গ্রহণ:
পানি পানের পাশাপাশি এমন কিছু খাবার খান যাতে পানির পরিমাণ বেশি। তরমুজ, শসা, কমলা, এবং আনারস ডিহাইড্রেশন কমাতে চমৎকার কাজ করে। তরমুজের ৯২ শতাংশই পানি এবং এতে থাকা লাইকোপিন নামক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। শসা চিবিয়ে খেলে তা শরীরে দীর্ঘসময় পানি ধরে রাখে।
☞ ক্যাফেইন ও চিনিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলা:
অনেকে ডিহাইড্রেশন কমাতে কোল্ড ড্রিংকস বা কফি পান করেন। এটি ডিহাইড্রেশনকে আরও বাড়িয়ে দেয়। ক্যাফেইন হলো একটি ডাইইউরেটিক উপাদান, যা প্রস্রাবের হার বাড়িয়ে দেয় এবং শরীরকে আরও শুষ্ক করে তোলে। তেমনি অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় অন্ত্র থেকে পানি টেনে নেয়, ফলে শরীরের পানিশূন্যতা আরও বাড়ে। দ্রুত সুস্থ হতে চাইলে চা, কফি এবং সোডা থেকে দূরে থাকুন।
☞ শরীর শীতল রাখা ও বিশ্রাম:
ডিহাইড্রেশনের সময় শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে। দ্রুত সুস্থ হতে চাইলে শীতল জায়গায় বিশ্রাম নিন। প্রয়োজনে ঘাড়, কপাল এবং বগলে ভেজা কাপড় দিয়ে মুছিয়ে নিন। শরীরের তাপমাত্রা কমলে বিপাক হার স্বাভাবিক হয় এবং কোষগুলো দ্রুত পানি শোষণ করতে পারে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
যদি মুখ খুব বেশি শুকিয়ে যায়, চোখ বসে যায়, হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক দ্রুত হয় কিংবা রোগী অসংলগ্ন কথাবার্তা বলে, তবে বুঝতে হবে এটি ‘সিভিয়ার ডিহাইড্রেশন’। এমন অবস্থায় বাড়িতে চিকিৎসা না করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন, কারণ তখন শিরার মাধ্যমে (IV Fluid) তরল দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
সতর্কতা ও প্রতিকার:
ডিহাইড্রেশন কেবল গরমের সমস্যা নয়, এটি যে কোনো সময়ই হতে পারে। শরীর যখন তৃষ্ণার সংকেত দেয়, তখন বুঝতে হবে শরীর ইতিমধ্যেই ১-২ শতাংশ পানি হারিয়ে ফেলেছে। তাই তৃষ্ণার অপেক্ষা না করে সারাদিন নিয়মিত বিরতিতে পানি পান করুন।
মনে রাখবেন, পানিই জীবনের মূল চালিকাশক্তি। দ্রুত ডিহাইড্রেশন কমাতে ওআরএস, ডাবের পানি এবং পরিমিত বিশ্রামের কোনো বিকল্প নেই। আপনার শরীরকে সজীব রাখতে কৃত্রিম পানীয়র চেয়ে প্রাকৃতিক উপাদানের ওপর আস্থা রাখুন। একটি সুস্থ শরীর মানেই কিন্তু একটি সচল মস্তিষ্ক এবং সচল মস্তিষ্ক মানেক একটি প্রাণবন্ত জীবন।